প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্ত্রীসহ কর্ণফুলী মাল্টিপারপাসের চেয়্যারম্যান গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী : [২] প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লাকিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

[৩] বুধবার সকাল থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। লাকী কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস সমিতির সম্পাদক। তাদের দেওয়া তথ্যে রাজধানীর বনানীর জসিম ওভারসীজের অফিস এবং ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২৯৭ পিস ইয়াবা, ১টি মোবাইল ও ৯৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধার এবং ২টি দামী গাড়ী জব্দ করা হয়েছে।

[৪] বৃহস্পতিবার র‌্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র এএসপি সাজেদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর এলাকার কতিপয় ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ অক্টোবর মিরপুরের নান্নু সুপার মাকের্টে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার দায়ে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যানের অন্যতম সহযোগী এবং প্রকল্প পরিচালক শাকিল আহম্মেদসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। এরপর থেকেই কর্ণফুলী সমিতির বিষয়ে প্রতারিত অসংখ্য ভুক্তভোগি র‌্যাব-৪ এর কাছে অভিযোগ জানাতে থাকেন। পলাতক মূল অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। এরই প্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৫] র‌্যাব জানায়, জসিমের নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জ। তিনি নিজেকে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করে বলে প্রচার করলেও আদতে তিনি এলাকার একটি স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তার ২ জন স্ত্রী এবং ২ পুত্র সন্তান রয়েছে। আগে একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি অল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন পান ২০০৬ সালে। ২০১৩ সালে সমিতিটির পূনর্নিবন্ধন হয়।

[৬] প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৮-২০১৯ সালের তাদের মোট সদস্য সংখ্যা ৫৩৭ জন ছিলো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২৫-৩০ হাজার সদস্য গ্রাহক সংগ্রহ করে। জসিম কোম্পানীতে নতুন নতুন সদস্য আনয়নের লক্ষ্যে পুরাতন সদস্যদের চাপ দিতেন এবং তাদের মুনাফার লোভ দেখাতেন। তার এই কর্ণফুলী সমিতির আনুমানিক ২৫-৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে যারা ডিপিএস ও এফডিআরের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে এবং যার পরিমান আনুমানিক শত কোটির উপরে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। টাকা চাইতে গেলে গ্রাহকদের হুমকি ধামকি, মারধর করা ও মামলার ভয় দেখানো হতো। ভুক্তভোগীদের মারধরসহ শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। কর্ণফুলীতে ভুক্তভোগীদের এফডিআর ও ডিপিএসের টাকা সড়িয়ে জসিম নিজ, স্ত্রী ও সন্তানের নামে ঢাকা ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ফ্ল্যাট, প্লট, জমি, কোটি টাকা দামের প্রাডো জীপ গাড়ী ও প্রাইভেটকার, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন।

[৭] র‌্যাব আরও জানায়, কর্ণফুলি সমিতির সভাপতি জসিম, সহ-সভাপতি তার শ্বশুর মোতালেব, সাধারণ সম্পাদক স্ত্রী লাকী আকতার, যুগ্মসম্পাদক শ্যালিকা লাভলী আক্তার ও কোষাধ্যক্ষ তার আত্মীয় শাহেলা নাজনীন ও সদস্য তার শ্যালক কামাল। প্রকৃতপক্ষে সমিতি কমিটি পর্ষদের সবাই তার পারিবারিক সদস্য। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের সদস্য দ্বারা সমিতির কমিটি গঠন করে প্রতারণা করছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ অক্টোবর ইতোপূর্বে ৪টি প্রতারনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জসিম ও লাকীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, প্রতারনা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও নতুন ৪টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত