শিরোনাম
◈ হালিশহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ পরিবারের ৯ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ◈ রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চার ফ্রন্টে কঠিন পরীক্ষা সরকারের ◈ হেটমায়ারের ঝড়ে রেকর্ড, বড় জয় নিয়ে সুপার এইটে ক্যারিবীয়রা ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মাঠ প্রশাসনে বড় রদবদল, একযোগে ১১২ নির্বাচন কর্মকর্তা বদলি ◈ ন‌ভেম্ব‌রে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ  ◈ আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ সরকার ৪ ধরনের শিক্ষার্থীকে ভাতা দেবে: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন? ◈ সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে প্রবেশের নির্দেশ, বিনা অনুমতিতে বাইরে নয়: আইন মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:১৯ রাত
আপডেট : ০৩ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আহসান হাবিব: বাংলাদেশ এখন সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির!

আহসান হাবিব
বাংলাদেশ এখন সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির! করায়ত্ত এবং তা প্রধানত ইসলামী। হিন্দুরা বছরে একবার তাদের ধর্মীয় প্রথা পূজা পালন করে। কিন্তু সেই পালন লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দেয়। তাদের জানমালের নিরাপত্তা শিকেয় ওঠে। অন্যান্য যেসব সম্প্রদায় আছে, তাদের কোনো সংস্কৃতি পালন করতে খুব একটা দেখা যায় না। ক্রমে এই দেশ ইসলামী সম্প্রদায়ের দখলে চলে যাচ্ছে। যদি কেউ বাঙালি সংস্কৃতি উদযাপন কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদ্যোগ নেয়, তাদের ওপর নেমে আসছে সাম্প্রদায়িক খড়গ। তাদের এই খড়গের প্রধান সহায় হয়ে ওঠেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এমনিতেই ধর্মান্ধদের অনুভ‚তি মারাত্মক সংবেদনশীল, এখন এই অনুভ‚তির সংবেদনশীলতা চরম আকার ধারণ করেছে এবং অসাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষে যারা কাজ করছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। অথচ যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছে, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তাদের কেশ স্পর্শিত হচ্ছে না। এই মুহূর্তে যাদের বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে এবং জেলে আছে, তারা প্রায় সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ।

নাটক, যাত্রা, পালাগান, সংগীত অনুষ্ঠান, ছবি আঁকাসহ যতো বাঙালি সংস্কৃতির অনুষ্ঠান আছে, সেসব আর নেই বললেই চলে। খেলার মাঠেও খেলোয়াড়রা সেজদায় নত হয়ে পড়ছে। পরিবর্তে এখন শুধু সারাদেশে চলছে ওয়াজ। দেশে-বিদেশে গজিয়ে ওঠেছে ওয়াজ পেশাজীবী যাদের কাজ সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো। ইউটিউবে এখন গানের চেয়ে এসবের ছড়াছড়ি বেশি এবং এসব দেখতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অথচ ক্ষমতায় আছে নাকি অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক আওয়ামী লীগ! মুক্তিযুদ্ধ, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনাসমৃদ্ধ এক জনযুদ্ধ, তার নেতৃত্বদানকারী দল, তারাই জারি করেছে ডিজিটাল আইন এবং তাদেরই বানানো আইনে একই আদর্শের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলে পুরে দিচ্ছে। এটা ট্রাজেডি না কমেডি ঠিক বুঝতে পারছি না।

দেশ এখন সংস্কৃতি চর্চাহীন এক মাথামোটা মানুষে ভরে ওঠছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের এখন দুটি বৈশিষ্ট্য: [এক] প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল- আবালবৃদ্ধবনিতা। [দুই] মোবাইলে তারা শুনছে ওয়াজ। দেশে অন্য সম্প্রদায়ের লোক ক্রমে কমে যাচ্ছে, হয়তো কয়েক বছর পর এখানে শুধু থাকবে মুসলমানরা। আদিবাসী জনগোষ্ঠী কোণঠাঁসা- এটা তো নতুন কোনো বিষয় নয়। তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কী লাভ? বরং যদি সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় থাকে, তাহলেই বরং ভালো হয়, কারণ তখন তারা বোঝবে ঠেলার নাম কী আর সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক শক্তি লড়াই করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে এবং একটি মুখোমুখি লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে যদি তারা জিততে পারে, তাহলেই কেবল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কায়েম হবে। তখন আওয়ামী লীগকে জাদুঘরে পাঠানোই হবে প্রধান কাজ। লেখক : ঔপন্যাসিক

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়