প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জলবায়ু পরিবর্তন: চরম আবহাওয়াই এখন নতুন স্বাভাবিক

লিহান লিমা: [২] বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলেছে, তীব্র তাপদাহ, প্রলয়ংকারী বন্যাসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনাই এখন নতুন স্বাভাবিক। ২০২১ সালের বার্ষিক জলবায়ু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমাদের চোখের সামনে পাল্টে যাচ্ছে বিশ্ব। ২০০২ থেকে গত ২০ বছরে গড় তাপমাত্রা প্রথমবারের মতো শিল্প পূর্ববর্তী যুগের চেয়ে ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিবিসি

[৩]সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের স্তর নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। গবেষণায় তাপমাত্রা, চরম আবহাওয়া জনিত ঘটনা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সমুদ্রের অবস্থাসহ জলবায়ু সূচকগুলো তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গত সাত বছরে গ্রীনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড ঘনত্বে পৌঁছেছে। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল ছিল বিশ্বের ইতিহাসের ৭টি উষ্ণতম বছরের মধ্যে অন্যতম।

[৪]ডব্লিউএমও এর অধ্যাপক পেটোরি তালাস বলেন, ‘চরম আবহাওয়াই এখন নতুন স্বাভাবিক। মানুষ্যসৃষ্ট কার্যকলাপই যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।’

[৫]তালাস জানান, সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে কিছু চরম ঘটনা ঘটেছে। গ্রীনল্যান্ডে প্রথমবারের মতো তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টি হয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তবর্তী ব্রিটিশ কলম্বিয়া গ্রামে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে তাপপ্রবাহ ৫৪.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। চীনের একটি এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক মাস যাবত বৃষ্টিপাত হয়েছে। ইউরোপের কিছু অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকায় পরপর দ্বিতীয় বছর খরা চলতে থাকায় নদীর প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর কৃষি, পরিবহন এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

[৬]১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর ২.১ মিমি বেড়েছে। কিন্তু ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এটি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪.৪ মিমি’তে পৌঁছেছে।

[৭]ব্রিস্টল গ্যাসিওলজি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক জোনাথন বোম্বার বলেন, গত দুই সহস্রাব্দের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন সমুদ্রের স্তর দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে এই বৃদ্ধি ২ মিটার (৬ ফুটের বেশি) ছড়িয়ে যাবে যঙা বিশ্বব্যাডী ৬৩ কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করবে। এর পরিণতি অকল্পনীয়।

[৮]ডব্লিউএমএর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, আমাদের চোখের সামনে গ্রহটি বদলে যাচ্ছে, সমুদ্রের গভীরতা থেকে শুরু করে পর্বতের চূড়া পর্যন্ত, হিমবাহ গলে যাওয়া থেকে শুরু করে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাস্তুতন্ত্র এবং বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছে। কপ২৬ অবশ্যই মানবসভ্যতা এবং পৃথিবীর জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত