প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশির অপু: লতিফ সিদ্দিকীর বংশে কী একজন মানুষও ছিলেন না, যিনি তার অবর্তমানে বইগুলোর দায়িত্ব নিতে পারতেন!

শিশির অপু: এটি একটি দুঃখের ছবি। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর একটি বড় লাইব্রেরি ছিলো। সাত-আটটি বড় বিল্ডিংয়ের সবগুলো জুড়ে ছিলো বই। বাংলাদেশে আর কারো ব্যক্তিগত সংগ্রহে এতো বই কখনো ছিলো বলে আমার জানা নেই।

# যে-জমির উপর লাইব্রেরিটা ছিলো, সেটির মালিকানা নিয়ে চলছিলো মামলা। মন্ত্রীত্ব হারানোর পর লতিফ সিদ্দিকী মামলায় হেরে যান। তার ওপর অন্যান্য ঝামেলায় পড়ে তিনি সপরিবারে চলে যান বিদেশে।

# এদিকে জমির নতুন মালিক, ভবনগুলো দখলে নিয়েই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দেয় সব বই। বাংলাদেশে যেগুলোকে ‘ডিস্ট্রিক্ট ট্রাক’ বলা হয়, সেরকম বড় বড় ১৬টি ট্রাক বোঝাই করে বইগুলো বের করা হয়েছিলো! এবার কল্পনা করে দেখুন কী পরিমাণ বই লতিফ সিদ্দিকীর সংগ্রহে ছিলো!

# যিনি বই সংগ্রহ করেন, কেবল তিনিই জানেন একটি বইয়ের প্রতি তিনি কতোখানি মমতা অনুভব করেন। টাকাসর্বস্ব দরিদ্রদের তা বুঝানো যাবে না।

# এমন মাপের একটি লাইব্রেরি যিনি বিক্রি করে দিতে পারেন, তিনি মানুষ হিসেবে কেমন মূর্খ তা কিছুটা আন্দাজ করতে পারি। জমিজমা, ভবন, শুধু এগুলোকে যে-জাতি সম্পত্তি মনে করে, সে-জাতির গোয়ালে ভালো গরু ফলবে কী করে?

# লতিফ সিদ্দিকীর সাথে সর্বশেষ দেখা হয়েছিলো প্রায় ১১ বছর আগে। এখন তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানি না। কিন্তু তার সংগ্রহের বইগুলো এখন বাংলাদেশের অনেকের ঘরেই আছে। তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন, বই ছাড়া অন্য কোনো উপহার তেমন গ্রহণ করতেন না।

# তবে একটা আক্ষেপের বিষয় মনে উঁকি মারছে। লতিফ সিদ্দিকীর বংশে কি এমন একজন মানুষও ছিলেন না যিনি তার অবর্তমানে বইগুলোর দায়িত্ব নিতে পারতেন? আর জায়গার নতুন মালিক কি কোনো চেষ্টা করেছিলেন বইগুলো লতিফ সিদ্দিকীকে ফেরত দেয়ার?

# না কি কেজি দরে বেঁচলেও পঞ্চাশ লাখ পাওয়া যাবে, এই লোভে তিনি দ্রুত বইগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন?

সর্বাধিক পঠিত