প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ধর্ষণ মামলার বাদী ও আসামিকে হাজতে প্রেরণ

মোঃ সাগর আকন: [২] নিজে ধর্ষণ করে অপরকে ফাঁসাতে গিয়ে সেই ধর্ষণ মামলার আসামি ও বাদীকে হাজতে পাঠিয়েছে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

[৩] আসামিরা হলেন, বরগুনা সদর উপজেলার পদ্মা গ্রামের আবদুল গনি হাওলাদারের ছেলে ছগির হোসেন (৪২) হাজতে যাওয়া বাদী হল, একই উপজেলার পূর্ব গুদিঘাটা গ্রামের খালেক চৌকিদারের মেয়ে আকলিমা আক্তার। আকলিমা আক্তারের বিরুদ্ধে এই বছর তিনটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

[৪] জানা যায়, আসামি ছগির পেশায় একজন মহুরী। বাদী আকলিমা আক্তার বাবার জমাজমি নিয়ে বিরোধ থাকায় বরগুনা কোর্টে আসা যাওয়া সুবাদে ছগিরের সঙ্গে পরিচয় হয়। ছগির আকলিমাকে বলে কোর্টের অফিসারদের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক আছে। আকলিমার সব রকমের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয় ছগির। ছগির আকলিমার ফোন নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে এ বছর ২২ মার্চ রাতে আকলিমার নিকট ছগির ফোন দিয়ে পরের দিন সকাল ৮ টায় বরগুনা থানার সামনে আসতে বলে। বরগুনা পৌরসভাধীন সিরাজ উদ্দিন সড়ক পাপুল ভিলার নিচে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিনের চেম্বারের মধ্যে নিয়ে বলে জাহিদ নামের একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করব। ছগির বলে সেই মামলায় আকলিমাকে বাদী হতে হবে। আকলিমা প্রথমে রাজি না হলে ছগির তাকে ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বলে। আকলিমাকে ছগির বলে ধর্ষণ মামলা করতে হলে ধর্ষণের আলামত দরকার হবে। আকলিমা ছগিরকে জানায় তার স্বামী আজহার আলী অনেক দিন আগে মারা গেছে। ছগির আকলিমাকে ধর্ষণ করে জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তাব দেয়।

[৫] এরপর লোকজন কোর্টে চলে গেলে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিনের চেম্বারের দরজা বন্ধ আকলিমাকে ধর্ষণ করে ছগির। পরে আকলিমা জাহিদের নামে থানায় ধর্ষণ মামলা করতে গেলে ওসির জিজ্ঞাসাবাদে আকলিমা স্বীকার করে ছগির তাকে ধর্ষণ করেছে। ছগিরকে ডেকে এনে পুলিশ গ্রেফতার করে। কয়েদিন পর অপর এক মহুরী আবদুল হক আকলিমাকে বলে তোমাকে ছগির যখন ধর্ষণ করেছে সেই ধর্ষণের দৃশ্য আমি মোবাইলে তুলে রাখছি। আমার সঙ্গে সেক্স না করলে ইন্টারনেটে সেই ছবি ছেড়ে দেব। কয়েকদিন পরে আকলিমাকে আবদুল হক বদরখালী একটি বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষণ করে। আবদুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ বছর আকলিমা তিনটি ধর্ষণ মামলা করে।

[৬] আকলিমা ২২ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবান বন্দি দিয়ে ওই সব তথ্য দেয়। আকলিমা মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছগিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে মুল রহস্য বেড়িয়ে আসে। আদালতের বিচারক বিস্তারিত শুনে বাদী আকলিমা ও ছগিরকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। ছগির বলেন, আকলিমা আমাকে এ সব কাজ করতে বাধ্য করেছে। আকলিমা আমার সঙ্গে বিয়ে বসতে চেয়েছে। জাহিদ কে তা আমি চিনি না। জাহিদ আকলিমার শত্রু।

[৭] আকলিমা বলেন, ছগির ও আবদুল হক আমার জীবনটা নস্ট করে দিয়েছে। ওই আদালতের পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, বাদী আকলিমা আক্তার আমার চেম্বারে এসে বলে আমরা আপোস হয়েছি। আমি মামলা চালাতে চাই না। আমরা খালাত ভাই বোন। আকলিমার কথামত আমি আদালতে আবেদন করেছি। এর বেশি কিছু আমি জানিনা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত