প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানু: শেখ রাসেলের মায়ায়ভরা মুখখানি

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানু: শেখ রাসেল একটি নিষ্পাপ শিশু। পবিত্র ফুলের মতো। দুরন্তপনায় বেড়ে উঠছিলো। মানুষ হচ্ছিলো। পড়ছিলো চতুর্থ শ্রেণিতে। শিক্ষকবান্ধব সকলের সঙ্গে হাসিমুখ করে কথা বলতো। রাশি রাশি ভালোবাসাও জুটতো তার কপালে। আহা! কী মায়ায়ভরা মুখ। সুখটা থাকলো না। খুনিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় রাসেল পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে। কতো ছিলো বয়স? ১০ বছরের কিছু বেশি। এই বয়সেই তাকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে ঘাতকের বুলেটে জীবন দিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আছে, কিন্তু এর মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নির্মম। জঘন্যতম। কারণ নারী-শিশু নির্বিশেষে সকলকে হত্যা করেছিলো খুনিরা। এমন ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। যদিও কারবালার প্রান্তরে শিশু হত্যার হয়তো দুয়েকটি ঘটনা আছে। শেখ রাসেল পিতা-মাতা, ভাই-ভাবিদের সঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছে। খুনিদের অনেকেরই বিচার হয়েছে। এখনো কয়েকজন বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে শাস্তির মুখোমুখি করা দরকার। এই দৃষ্টান্ত যাতে ছড়িয়ে যায় সবদিকে, যাতে আর কখনো কেউ মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ না করে।

শেখ রাসেলকে নিয়ে যখনই আলোচনা করি, তখন দেশের সব শিশুর মুখ মনে ভেসে ওঠে। দেশে এখন ৫ বছর বয়সের নিচে ২ কোটির মতো শিশু আছে। তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ গ্রামে বাস করে, আর ২৭ শতাংশ বাস করে শহরে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, ফুড সিকিউরিটি বেড়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এক-তৃতীয়াংশ শিশু এখনো দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। গ্রামে ৭৩ ও শহরে যে ২৭ শতাংশ শিশু থাকে, তাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে প্রকটভাবে। এই বৈষম্য বাড়ছে দিনে দিনে। এই বৈষম্য কমানো প্রয়োজন এবং দাবি জানাই যেন সকল শিশু তার মৌলিক অধিকার পায়। শহরের শিশুদের একধরনের সমস্যা, আবার গ্রামের শিশুদের সমস্যা শহরে শিশুদের থেকে ভিন্ন। শহরের শিশুরা খেলাধুলা, চিত্তবিনোদন, দৌড়াদৌড়ি, ছোটাছুটির কোনো সুযোগ পায় না। কারণ শহরে আবদ্ধ জীবন। এখানে ব্যস্ততা বেশি। যে কারণে আমাদের শিশুদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে না। শহরে বস্তিতে যারা থাকে তাদের অবস্থা আরও করুণ। তাদের স্যানিটেশনের দুরবস্থা আছে। শিশুদের মৃত্যুহারও অনেক বেশি বস্তিতে।
শিশুদের বেড়ে ওঠার, ছুটে চলার জন্য, দুরন্তপনার উপযুক্ত পরিবেশ গ্রামে আছে। তবে গ্রামেও স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিশুকালের যত অপ্রতুলতা এখনো আছে। শেখ রাসেলকে যখন আমরা স্মরণ করি, তখন তার সমবয়সী যারা তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হয়। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশ যোগ্য নাগরিক পাবে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও শিশুদের ভালোবাসতেন। শিশুদের জন্য তার দ্বার সবসময় উন্মুক্ত ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিশুদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী। শিশুদের জন্য অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এতে তার যে পারিবারিক বেদনা আছে, তা অনেকটা লাঘব হয়। শিশুদের দেখলে শেখ রাসেলর মুখখানি বোন শেখ হাসিনার মানসপটে ভেসে ওঠে। যে কারণে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় শিশুদের জন্য সরকারি বরাদ্দ, স্কুলে নিয়ে আসা, দুপুরে খাবার দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিশু রাসেলকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার আমরা চাই। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থাপনা দরকার। রাসেলের বয়সী বা তার বেশি সকল শিশুর জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানাই। তারা যেন প্রকৃতপক্ষে শ্রমশক্তি ও যুবশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে দেশের কল্যাণে ভ‚মিকা রাখতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি।

পরিচিতি : সাবেক উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত