প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কাঠমিস্ত্রি থেকে কখনো এসআই বা কনস্টেবল, সোর্স দাপটে কোনঠাসা সাধারণ মানুষ

গোলাম সারোয়ার: [২] জেলার আশুগঞ্জে কথিত পুলিশের সোর্স মো. জসিমের দাপটে কোনঠাসা হয়ে আছে এলাকার সাধারণ মানুষ। কখনো নিজেকে পুলিশের এসআই আবার কখনো পুলিশ কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে দেদারসে করছে চাঁদাবাজি। আবার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে থাকা সাধারণ লোকজনকে জিম্মি করে ভয় ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

[৩] এছাড়া আশুগঞ্জের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী ও দেহ ব্যবসায়ীদের সাথে তার রয়েছে মাসিক চুক্তি। আর এসব অপকর্মে তাকে সহযোগিতা করছে আশুগঞ্জ থানার কিছু অসাধু পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে তাকে আটক করার পর পুলিশে দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

[৪] খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের জসিম কাঠমিস্ত্রী থেকে থানার সোর্স। আর থানার সোর্স থেকে অবশেষে বিভিন্ন জায়গায় এস আই পরিচয় দিয়ে নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানি করছে প্রতিনিয়ত। সে আশুগঞ্জ থানায় বিভিন্ন এলাকায় সময় অসময় বাসা বাড়িতে ফোন দিয়ে মালিককে বলে আপনার বাসায় মাদক রয়েছে এবং আপনার বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ হয় । আপনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এ বিষয়ে থানায় আপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এই সব শেষ করতে হলে ওসিকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদানসহ গ্রেপ্তার, মামলা-মোকাদ্দমার ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

[৫] খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসআই মেজবাহ ও এএসআই মোজাম্মেল সহযোগিতায় জসিম দীর্ঘদিন ধরে থানার সোর্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ করে আসছে। এমনকি মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

[৬] এদিকে আরও জানা যায়, কথিত পুলিশসের সোর্স জসিমের বাড়ি জেলার নবীনগরে। সেখানে তিনি কাঠের কাঠের ফার্নিচারে দোকানে কাজ করতেন। একদিন নবীনগরে কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বসার জন্য চেয়ার বানাতে গিয়ে জসিমের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। পরে নবীনগরে শুরু হয় সেই পুলিশের মাধ্যমে সোর্সের কাজ। কিছুদিন যেতে না যেতেই সেখান থেকে বদলী হয়ে আশুগঞ্জ আসেন সেই পুলিশ। পরে জসিমকেও নিয়ে আসেন আশুগঞ্জে। এরপর আশুগঞ্জে শুরু হয় জসিমের তান্ডব। পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা বদলী হলেও জসিম থেকে যায় আগের যায়গায়। আশুগঞ্জের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে মাসোহারা নেয় সোর্স জসিম।

[৭] অন্যদিকে, বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে তার নেতৃত্বে চলে দেহ ব্যবসা। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে হয়রানি করা হয় সাধারণ মানুষকে। কোনো কারণ ছাড়াই মামলা আছে বলে সাধারণ লোকজনকে ভয় দেখানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ম্যানেজ করা হয়। আর এসব অপকর্মে তাকে সহযোগী তা করেন আশুগঞ্জ থানার বেশ কয়েকজন পুলিশ।

[৮] নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশুগঞ্জ বাজারের একজন বাড়ির মালিক জানান, কয়েকদিন আগে কোনো কারণ ছাড়াই সোর্স জসিম আমাদের বাসায় আসেন। এসে আমাকে বলে আমার বাড়িতে নাকি মাদক ব্যবসা হয়। শুনে আমি অবাক হয়ে গেছি। মান ইজ্জতের কথা চিন্তা করে কাউকে কিছুই জানাইনি। এরই মধ্যে তার সঙ্গে বিষয়টি তিনি রফা করতে বলেন। অন্যথায় আমার নামে মামলা করা হবে বলে জানান। পরে আমি তার কথামত টাকা পয়সা দেয়ার পর সে চলে যায়।

[৯] আরেক বাড়িওয়ালা জানান, অনেক দিন সুনামের সঙ্গে আশুগঞ্জ আছি। হঠাৎ সোর্স জসিম আমার নামে মামলা আছে বলে ভয় দেখায়। আমিও ভয় পেয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা হয়। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ।

[১০] এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘদিন থানার সোর্স হিসেবে কাজ করি। এছাড়া অন্য কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

[১১] এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজাদ রহমান জানান, জসিম নামে আমাদের কোন সোর্স নেই। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত