প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রেলের তিনহাজার কি:মি: এর মধ্যে সাত শ কি:মি:ই অরক্ষিত, ২০ জেলায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে

বিপ্লব বিশ্বাস: [২]রেলপথে দেশের বিভিন্নস্থানে হত্যাকাণ্ড, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া রেলপথে নির্বিঘ্নে মাদক পরিবহনের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ আছে। অভিযোগ রয়েছে রেলের ২ হাজার ৯৫৬ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৭শ’ কিলোমিটার পথই এখন অরক্ষিত। এর মধ্যে ৯৭ স্পটকে ভয়ঙ্কর স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটে প্রতিনিয়ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে। শুধু কমিউটার ট্রেনের ওই ঘটনাই নয়। রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে এমন কিসিমের নানা অপরাধ ঘটছে। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ।

[৩]সূত্র জানায়, রেলের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় তিন শতাধিক এক্সপ্রেস, মেইল, লোকাল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। মোট রেলপথের সাতশ’ কিলোমিটার অরক্ষিত। ওইসব এলাকায় রাতের বেলা নির্জন থাকে। এমনকি দিনের বেলায় নানা ধরনের অপরাধ হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় সংঘবদ্ধ অপরাধী ও ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য দুষ্কৃতকারী ট্রেনে হত্যার পর লাশ গুম করতে এসব অন্ধকার ও নির্জন এলাকা বেছে নেয়।

[৪]পুলিশের একটি সংস্থার অনুসন্ধানে বের হয়েছে, রেলের অরক্ষিত ৭শ’ কিলোমিটারের মধ্যে পাকশীর আব্দুলপুর, ঈশ্বরদী, রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, আমনুরা, হাতিবান্ধা, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর, ললিতনগর, সান্তাহার, কাউনিয়া, চাটমোহর, বালাসী, পোড়াদহ, কালুখালী, দৌলতদিয়া, নওয়াপাড়া, রহনপুর, দর্শনা, নাটোর, কমলাপুর, বিমানবন্দর, আখাউড়া, ভৈরব, বি.বাড়িয়া, লাকসাম, ফেনীর ফতেহপুর, খুলনা, সিলেটের ছাতক, ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, শমসেরনগর, শায়েস্তাগঞ্জ, নতুনবাজার, টঙ্গী, কুমিল্লা, ঘোড়াশাল, লাকসাম, মীরসরাইসহ ৪১টি স্পটকে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকার বেশির ভাগ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার নয়। কিছু কিছু এলাকায় নিরাপত্তা নেই বললেই চলে।
খুলনা বিভাগের ৫৬টি স্পটের মধ্যে খুলনা জেলার ১৫টি পয়েন্ট, যশোর জেলার ২৩টি পয়েন্ট, ঝিনাইদহের ১৮টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।

[৫]সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেলওয়ের কোনো স্টেশনেই স্ক্যানিং মেশিন নেই। ফলে সন্দেহজনক যাত্রীদের তল্লাশি বা শনাক্ত করার উপায় নাই। রয়েছে জনবল সংকট। স্টেশনগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার রয়েছে একাধিক সুযোগ। তাই সব স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া ওঠানামা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে অপরাধীরা যত্রতত্র স্থান থেকে উঠছে।

[৬]রেল পুলিশ বলছে, মাত্র ২ হাজার ৪৩২ সদস্য দিয়ে সারা দেশের রেলের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। রেলের অরক্ষিত রাস্তাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৭]সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে মাদকের চালান নিয়ে আসছে ট্রেনে করে। লাকসাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাসহ সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে আসা যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে মাদক বহন করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা তুর্ণা নিশিতা, মহানগর প্রভাতী, চট্টগ্রাম মেইল, ওয়ান-আপ, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পারাবত, জয়ন্তিকা, উপকূল, কুশিয়ারা, বাল্লা, আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ডেমু ট্রেনগুলো সীমান্ত এলাকায় যত্রতত্র স্টেশনবিহীন দাঁড়ায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কখনো আবার ধীরগতিতে চলে। ওই সময় বস্তায় বস্তায় মাদকদ্রব্য ট্রেনে তোলা হয়। ত্রিপুরা সীমান্ত হয়ে আসা মাদকের চালান কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলা সংলগ্ন রেলপথ দিয়ে ট্রেনে তোলা হয়।

[৮]সূত্র জানায়, ২০ জেলায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে। এর মধ্যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ৫টি ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৫টি জেলা রয়েছে। ২০ জেলার মধ্যে ৭০টি স্পটকে স্ট্রোন থ্রয়িং স্পট (পাথর নিক্ষেপ স্পট) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব স্পটে সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে- গাজীপুরের টঙ্গী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে গঙ্গাসাগর, কুমিল্লার ময়নামতি, চট্টগ্রামের পাহাড়তলি, সীতাকুণ্ড, নরসিংদী, পুবাইল, গফরগাঁও, গৌরীপুর, মোহনগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ, ঢাকার তেজগাঁও, কাওরানবাজার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, লালমনিরহাট, পীরগঞ্জ উল্লেখ্য যোগ্য।

[৮]এ ব্যাপারে রেলওয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, নির্জন স্থানগুলোতে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেশি ঘটে। এসব স্থানে সাধারণত ট্রেন থামানো হয় না। কারণ চলন্ত ট্রেন থামাতে থামাতে কয়েক কিলোমিটার চলে যায়। ঘটনাস্থলে ফিরে আসতে ১৫/২০ মিনিটের প্রয়োজন হয়। আর ফিরে আসলে যে নিক্ষেপকারীকে পাওয়া যাবে তারও নিশ্চয়তা নাই। পাথর নিক্ষেপের বেশকিছু স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্পটের সংশ্লিষ্ট এমপি, স্থানীয় অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল, মসজিদ, মন্দিরের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়। লিফলেট বিতরণ ও র‌্যালিও করা হয়। এ ছাড়া মসজিদের ইমামদের চিঠি দেয়া হয়েছে নামাজের পরে যেন তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, রেলওয়ে পুলিশের জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। দেশের অর্ধেক ট্রেনে জনবল সংকট থাকায় গার্ড দেয়া সম্ভব হয় না। সারা দেশের চারশ’ স্টেশনের মধ্যে ২৪টিতে থানাও ৩৩টিতে ফাঁড়ি আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত