প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতের পাপ, রাতের পূন্য

মাহদী হাসান তাকী: চোখ শয়তানের তীর। যে খারাপ দৃষ্টি রোগে আক্রান্ত, তার সারা জীবন ক্ষতিগ্রস্থ। যে চোখ নিষিদ্ধ জিনিসে পতিত হয়, তাতো আল্লাহকে দেখার যোগ্যতা হারাবে। আর জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো দিদারে এলাহি।

বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা অন্যদের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত নামাজ পড়ে, দ্বিনদার, ধার্মিক, আলেম কিংবা আল্লাহওয়ালা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। প্রকাশ্যে তাকে পাপ কাজ করতে দেখা যায় না। কিন্তু গোপনে গোপনে তিনি নানা ধরনের গোনাহের কাজে লিপ্ত। অনেকে তো প্রকাশ্যে ভালো মানুষ হলেও গোপনে কবিরা গোনাহ করে। এটি একদিকে মুনাফেকি, অন্যদিকে ধীরে ধীরে তার আমল ও ইবাদত নষ্ট করে দেয়।

দিন এবং রাত মিলিয়ে মানুষের জীবনের সমস্ত আয়ুষ্কাল। কর্মব্যস্ততা এবং দিনের আলোর লজ্জায় মানুষ হয়তো পাপ থেকে বিরত থাকে। ইমাম গাজ্জালী রঃ বলেন -“বহু মানুষ পাপ করা থেকে বিরত থাকে, কিন্তু সেটা আল্লাহর জন্য নয়। সে পাপ করা থেকে বিরত থাকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভয়ে।

আল্লাহ রাতকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের আরামের জন্য। আল্লাহ বলেন -আমি আদম সন্তানকে সৃষ্টি করেছি অত্যন্ত দূর্বল করে। অতএব, দিনের একটা অংশে মানুষের আরামের প্রয়োজন, তাই রাতকে অন্ধকারে আচ্ছাদিত করা হয়। এটাই মানুষের প্রকৃতি। অন্ধকার ঘুমের জন্য উপযোগী, তা-তো সর্বজনবিদিত। রাতের ঘুম বান্দার জন্য ইবাদত।

হাদিসে আছে – যে ব্যাক্তি এশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, এবং ফজরের নামাজ আদায় করে, সে যেন ঘুমিয়ে থেকেও সারারাত ইবাদতে অতিবাহিত করলো।

হযরত আলী (রাঃ) বলেন- “মানুষ সবচেয়ে বেশি পাপ করে, যখন সে একা থাকে। রাত হলো অন্ধকার আর নির্জন। দিনের আলো আর কোলাহলে সবাই ধারণ করে ভালো মানুষীর লেবাস। রাতের গভীর অন্ধকার আর নিরবতায় খসে পড়ে মুখোশ, জেগে উঠে সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ পাপ সংঘটনে হয় তৎপর।

এ ধরনের গোপন পাপ কথার দ্বারাও হতে পারে, চিন্তা বা নিয়তের দ্বারাও হতে পারে, আবার কর্মের দ্বারাও হতে পারে। রিয়া বা অন্যকে দেখানোর জন্য ইবাদত করা—নিয়ত বা চিন্তার গোপন পাপ। আর অপ্রকাশ্য ব্যভিচার বা গোপন জিনা—কর্মগত গোপন পাপ।

রাত হয়েছে পাপের বাহন, ইন্টারনেট, মোবাইল, গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক এর মাধ্যমে অশলিলতা হচ্ছে তার জ্বালানি। এর বাহক হয়ে বহু মুমিন হারিয়ে ফেলছে তার ঈমানী চেতনা, বরবাদ হচ্ছে পরকালীন সাফল্য। চরিত্রে আসছে উগ্রতা, ব্যহত হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ, হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক নীতি-নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা।

প্রকাশ্য গোনাহের চেয়ে গোপনে করা গোনাহ বেশি ভয়াবহ। পাহাড়সম আমল করার পর কেউ যদি একান্ত গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। কেননা যখন কেউ গোপনে গোনাহ করতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় বিদায় নিয়ে নেয়। ক্রমাগত সে ধ্বংস ও অধঃপতনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। অবস্থা কখনো এত ভয়ানক হয় যে তার ঈমান পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায় এবং ঈমানহীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তাই, রাতকে আমরা নষ্ট না করে, তাকে কাজে লাগাই শরীরের হক হিসেবে। উপরন্তু, রাতকে আমরা ব্যাবহার করতে পারি,ইবাদতের মোক্ষম সময় হিসেবে। কারন, যারাই আল্লাহর ওলী কিংবা প্রিয় হয়েছেন,তাঁরা কেউই রাতের ইবাদত ব্যাতিরেকে হতে পারেননি।

রাতের ইবাদতের বিষয়ে আল্লাহ বলেন – “রাতের বেলা নামাজে রত থাকো, তবে কিছু সময় ছাড়া, অর্ধেক রাত কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করো। অথবা তার ওপর কিছু বাড়িয়ে নাও। আর কুরআন থেমে থেমে পাঠ করো।”( সুরা -মুজ্জাম্মিল)

রাতের ইবাদত সাধনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। যখন জীবনে পবিত্রতা আসে এবং দিনের আমগুলো সুন্দর হয়, তখন রাতের আমল সহজ হয়ে যায়। হযরত হাসান বসরী রহঃ বলেন -তাহাজ্জুদ পড়তে পারোনা? তবে তোমার দিনের আমল সুন্দর করো,দিনের আমলই রাতের আমলকে সহজ করে দেয়।

সর্বাধিক পঠিত