প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চলছে বিসিবি নির্বাচনের ভোট গ্রহন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন

মাহিন সরকার : [২] বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় বিসিবি কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেল না থাকায় মোটামুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বেশ কয়েকটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। ভোটগ্রহণ উপলক্ষে বিসিবিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

[৩] সকাল থেকে প্রার্থীদের ভক্ত সমর্থকরা বিসিবিতে এসে ভিড় জমিয়েছেন। চারপাশে বিভিন্ন মুখোরোচক শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে। নিজের পছন্দের প্রার্থীর প্রচারণা করছেন সমর্থকরা। অনেক প্রার্থী মিছিল নিয়ে ঢুকছেন বিসিবিতে। দুপুর ১২টায় সদ্য সাবেক বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আসার কথা থাকলেও এখনো তিনি এসে পৌঁছাননি। অনেক প্রার্থী একে একে এসে ভোট দিচ্ছেন।

[৪] আজ সকাল ১০টায় মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ের বোর্ড সভাকক্ষে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষে আজই বেসরকারিভাবে জয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। সরকারিভাবে ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার।

[৫] বিসিবির পরিচালনা পরিষদে থাকবেন ২৫ পরিচালক। দুজন আসছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে। বাকি ২৩ পদে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ক্যাটাগরি-১ (বিভাগ ও জেলা) থেকে এরই মধ্যে সাত কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে, আজ নির্বাচন হবে ১৬ পদের জন্য। তিনটি ক্যাটাগরি থেকে মোট প্রার্থী ২৩ জন। ১৭১ কাউন্সিলর থাকলেও নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২৭ জন।

[৬] প্রিসাইডিং অফিসার এস এম কবিরুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। সব মিলিয়ে ১২৭ জন ভোট দেবেন। মোট ভোটার ১৭১ জন। বাকিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ৫৭ জন ই-ভোট ও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। বাকিরা সশরীরে এসে ভোট দেবেন।

[৭] ক্যাটাগরি-১ থেকে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে নির্বাচন হবে। ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক হবেন দুজন। রাজশাহী থেকে একজন। ঢাকায় দুই পদের বিপরীতে প্রার্থী চারজন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন খালিদ হোসেন। মাদারীপুরের এই সংগঠক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও ব্যালট পেপারে তার নাম ও নম্বর থাকবে। খালিদ হোসেন সরে যাওয়ায় এই বিভাগে দুটি পদের জন্য এখন প্রার্থী রইলেন তানভীর আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ), নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ) ও সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু (কিশোরগঞ্জ)।

[৮] জানা গেছে, আশফাকুল ইসলাম টিটুও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে যাচ্ছেন। এই বিভাগের ১৮ জন কাউন্সিলর বেছে নেবেন যেকোনো দুজনকে। রাজশাহীতে পদ একটি। নির্বাচনে লড়বেন সাইফুল আলম চৌধুরী স্বপন ও সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন পাইলট। এই বিভাগের ৯ জন কাউন্সিলর বেছে নেবেন যেকোনো একজনকে।
[৯] ক্লাব ক্যাটাগরিতেই জমজমাট নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ১২ পরিচালক নির্বাচিত হন ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে। এসব পদের জন্য এবার লড়ছেন ১৫ কাউন্সিলর। ক্লাব ক্রিকেটের হেভিওয়েট প্রার্থীসহ এবার নতুন কয়েকজন সংগঠকও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মোট ৫৭ জন কাউন্সিলরের ভোটে এখান থেকে ১২ পরিচালক নির্বাচিত হবেন, বাদ পড়বেন তিন প্রার্থী।
[১০] শেষ মুহূর্তে ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের কাউন্সিলার মাসুদুজ্জামান।
[১১] এছাড়া, ক্যাটাগরি-৩ থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন দুই অতিপরিচিত প্রার্থী—নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও খালেদ মাহমুদ সুজন। ৪৩ জন কাউন্সিলর বেছে নেবেন যেকোনো একজনকে।
[১২] বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরই মধ্যে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিলেট থেকে শফিউল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে আকরাম খান ও আ জ ম নাসির, খুলনা থেকে শেখ সোহেল ও কাজী ইনাম আহমেদ, বরিশাল থেকে আলমগীর খান ও রংপুর থেকে অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত হয়েছেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ও জালাল ইউনুস।

সর্বাধিক পঠিত