প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী : ‘নির্বাচন নির্বাচন খেলা’র নামে কারা ১ কোটি ২৭ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে জনগণের অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল?

দীপক চৌধুরী: রাজনৈতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে গণমানুষের কাছে অসংখ্য প্রশ্নের জবাব দিতে হবে বিএনপিকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন গ্রেনেড হামলা, ২০১৩-এর হেফাজত ইসলামী তাণ্ডব, পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ, নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ অসংখ্য মানুষ হত্যা, বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারা, নানাপ্রকার ষড়যন্ত্রের কারণসমূহ। আসলে বিএনপি নামের দলটি নিজেই নিজেদের ‘গর্তে’ পা দিয়েছে। এই কাদাভরা ‘গর্ত’ থেকে ওঠা অসম্ভব। খুবই কঠিন।

ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়ার পরিণতি কী হতে পারে এটা বিএনপি এখনো শিখেনি সম্ভবত। হয়তো দলটি বুঝতে পারছে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পথ আর খোলা নেই, তাই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েই কর্মীদের চাঙা রাখতে হবে। কয়েক বছরের বক্তব্যে এটা-ই অনুমান করা যাচ্ছে। কারণ, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে ‘ভালোমন্দ’ রাখারও ক্ষমতা নেই দলটির নেতাদের। যেটুকুই বিএনপি নেত্রী ‘ভালো’ আছেন বা দুঃসময় অতিক্রম করছেন তা পরিবারের আন্তরিক চেষ্টায়। তাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কেউ কী কস্মিনকালেও ভেবেছিল বিএনপির এমন পরণিতি হবে বা দলের চেয়ারপার্সনের এমন হাল হবে। সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানের লন্ডন থাকতে হবে! কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। সেনাপ্রধান পদ থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি কখনো গণতন্ত্র নয়, এটাই স্বৈরতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র। জিয়াউর রহমান এটাই করেন। সেনা ছাউনি থেকে দল গঠন কখনো গণতন্ত্র দিতে পারে না, স্বৈরাচার ‘প্রসব’ করতে পারে। মানুষের জন্য রাজনীতি না করলে এমনই পরিণতি হয়। অপেক্ষা করে দুঃসময়।
বড় বড় হুঙ্কার আর নির্বাচন কমিশন নিয়ে এখন আলাপ শুরু হয়েছে। বিএনপি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে দলটি নির্বাচনে যাবে না। অবশ্য তাদের ২০ দলীয় জোট ছেড়ে ছোট ছোট ইসলামী দলগুলো নতুন করে ভাবছে। একটি কথা চিরসত্য যে, গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ বহুবার কঠিন দুঃসময় অতিক্রম করেছে। জন্মলগ্ন থেকেই দলটি নানাভাবে ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠ করলে বোঝা যায় গণমানুষের স্বার্থে রাজনীতির সম্পৃক্ততা থাকলে দুঃসময় যতো কঠিনই হোক না কেনো মানুষের জয় অবশ্যম্ভাবী।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার, নির্বাচন নির্বাচন খেলা হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে প্রশ্ন করে বলেছেন, আপনি নির্বাচিত হয়েও কেন সংসদে গেলেন না? এটা কোন গণতন্ত্র? ভোটাধিকার নিয়েতো আপনারাই ছিনিমিনি খেলেছিলেন। কারা হ্যাঁ-না ভোটের প্রহসন করেছিল? কারা ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল? কারা ১ কোটি ২৭ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে জনগণের অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল?

জাতীয় পার্টি নিয়ে কথা উঠছে। কথা মানুষ তুলেনি। জনগণ নয়, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের তুলেছেন। দিবাস্বপ্ন দেখছেন। স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয় পার্টির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, গুম, সন্ত্রাস, মিথ্যাচার মানুষ ভুলে যায়নি। যদিও তিনি ‘দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়’ বলে আত্মতৃপ্তি ঢেঁকুর তুলছেন। জিয়াউর রহমানের দেখানো পথ ধরে ক্ষমতায় আসা এরশাদের রাজনীতি মানুষকে কোনোভাবেই টানবে না একথা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। অবশ্য, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা এখন শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলো, তারাই নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

এর মানে দাঁড়ায়, এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন বিধায় তিনিও ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যের ‘স্টান্টবাজি’ মানুষ বুঝতে পারে। মানুষের বুধোদয় ঘটেছে। সস্তাকথায় মানুষ কখনো ঘুরবে না। এই লড়াকুজাতি চাইছিলো দেশকে গড়ে তুলবার এক অপ্রতিরোধ্য লিডারশিপ দরকার। এটা পেয়ে গেছে বাঙালি। আসল কথা হচ্ছে, এই সোনার দেশটি বিনির্মাণে গর্বিত নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক- শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ সকল শ্রেণির জনগণের আস্থার জায়গা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত