প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মারধর করি নাই, শুধু ধাক্কা দিয়েছি : এমপি রিমন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেওয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলামকে (৩৮) প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার বরগুনার পাথরঘাটায় এ ঘটনা ঘটে।

পাথরঘাটার ওই ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ অপপ্রচার করার প্রতিবাদে বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বরগুনা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বরগুনা জেলার পাথরঘাটার এক শ্রেণির মানুষ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে একের পর এক নিউজ করানোর প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গালিগালাজ ও চড় থাপ্পড় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে এমপি রিমন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যতগুলো অভিযোগ উঠেছে, তা জনস্বার্থের বাইরে আছে কিনা সেটা মূল্যায়ন করে নিউজ করার জন্য সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল খেলার প্রধান অতিথি হিসেবে মোটরসাইকেল দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জনৈক নজরুল ইসলামের একটি মাইক্রোবাস এমপি রিমনের গাড়ি বহরের সামনে সাইট না দিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চালাচ্ছিলেন।

এ সময় বহরে থাকা ছাত্রলীগ নেতা সামনে গিয়ে সাইট না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম এমপি রিমন সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। এমপি সভাস্থলে পৌঁছালে নজরুল ইসলাম এমপি রিমনের কাছে এসে তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। এ সময় নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে তিনি ক্ষমা চাওয়ার কিছুই নেই বলে সরিয়ে দেন। কিন্তু ওই ঘটনাকে বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে নিউজ প্রকাশ করা হয়েছে যা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে এমপি রিমন বলেন, ‘নজরুল ইসলাম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। অথচ, আদৌ তিনি আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ওই নজরুল ইসলামের নামে পাথরঘাটা থানায় ৭ টি মামলা চলমান রয়েছে। নজরুল ইসলাম স্থানীয় মানুষের মুখে বোমা নজরুল ও টপ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে নিউজগুলো বিভিন্ন মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে, সেই সকল মিডিয়ার সাংবাদিক বন্ধুরা আমার সাক্ষাৎকার নিলে তথ্যগত ভুল হতো না। আমার কোনো সাক্ষাৎকার না নিয়ে সংবাদ প্রচার বা প্রকাশ করা হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষরা সব সময় আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করায় সহযোগিতা করে আসছে।’

এমপি রিমন বলেন, ‘আমি একজন এমপি ছাড়াও বরগুনার সাধারণ মানুষ। ভুলত্রুটির উর্ধ্বে কেউ নয়। আমার জানামতে আমি কোনো অন্যায় করিনি। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করিনি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টা জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি। আমার জীবনে দুর্নীতির সঙ্গে আপস করিনি। সব সময় জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা একের পর এক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।’ তাই তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘কিছু শুনবেন, দেখবেন, অন্তত আমার সাক্ষাৎকার নিয়ে নিউজ করলে দুঃখ থাকবে না। কারও দ্বারা বাধ্য হয়ে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করলে কষ্ট পাই।’ সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতেও তিনি অনুরোধ জানান।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব মৃধা, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, পাথরঘাটা,বামনা ও বেতাগীর মেয়র, চেয়ারম্যানসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বিগত ৮ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমপি রিমন। কিন্তু সাংবাদিকদের সঙ্গে আজ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন ছাড়া বসেননি। জানাননি তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো নিয়ে তার সঙ্গে সাংবাদিকরা রিপোর্ট করতে সাক্ষাৎকারের জন্য মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায় না কেন? সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের উত্তরে তিনি তার ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে শুধরে নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান।

সর্বাধিক পঠিত