প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিপু তৌহিদুল: ঢাকার যানজট কমানোর জন্য যা কার্যকর পন্থা হতে পারে

দিপু তৌহিদুল: ঢাকার যানজট কমানোর জন্য এককদলীয় ক্ষমতার জনপ্রতিনিধিরা আজব আজব ও অপ্রাসঙ্গিক সব প্রস্তাব করেন। এর কারণ এসব জনপ্রতিনিধিরা নিজেরা গণপরিহন ব্যবহার করেন না। আমলারাও নানাভাবে সরকারের দেওয়া গাড়িতে ভেসে যাচ্ছেন! অথচ ঢাকার যানজট সমাধান খুব সহজ কাজ। এবার প্রশ্ন করেন কীভাবে? উত্তর রাজধানীর গণপরিবহন সেক্টরকে কমপক্ষে তিনটি শ্রেণি বিভাজন করতে হবে।

শ্রেণিগুলো হতে পারে ক) খুব সস্তায় সাধারণ বাস থাকতে হবে, যাতে যেকোনো নিম্ন আয়ের মানুষ এতে সহজে চড়তে পারেন, এসব বাসে বসার সিট না থাকলেও চলবে। খ ) হিনো টাইপের মোটামুটি মিড রেঞ্জের বাস থাকতে হবে, যা বেশ আরামদায়ক হবে এবং এর ভাড়া কিছুটা বেশি হবে। সবশেষে গ) এই শ্রেণির বাস হবে পুরোপুরি লাক্সারি ও এয়ার কন্ডিশনড, এই বাসে চড়লে বিমানে চড়ার অনুভূতি হবে এবং ভাড়াও হবে খুব বেশি।

শ্রেণিভেদে এসব গণপরিবহনের ভাড়া (রূপক) ক) ১০ টাকা। খ) ৩০ টাকা এবং গ) ৬০ টাকা হতে পারে। মোদ্দা কথা নাগরিকদের জন্য গণপরিবহন হবে শ্রেণি ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী চয়েজ করার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষ তার পকেট অনুযায়ী গণপরিবহন বেছে নেবে। নব্বইয়ের দশকে যখন মতিঝিল টু উত্তরা ও মতিঝিল টু নারায়ণগঞ্জ এসি কোস্টার চলতো। সেই সময় পরিচিত বহু প্রাইভেট গাড়ির মালিককেই দেখেছি নিজের গাড়িটাকে গ্যারেজে রেখে এসি বাসে যাতায়াত করতেন। এর কারণ ছিল প্রাইভেট নিয়ে চলাফেরায় বেশ কয়েকটা খুবই বাজে রকমের আলাদা পেইন রয়েছে। যেমন ক) গাড়ি নিরাপদে পার্ক করতে পারা। খ) প্রাইভেট কারের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গ) প্রাইভেট কারে যাতায়াত করা বেশ খরুচে। ঘ) সেলফ ড্রিভেন গাড়ি হলে চরম ঝামেলা, আপনার গাড়ি কার কাছে রেখে যাবেন! ঙ) রাস্তাঘাটে জ্যামে বসে লড়াই করতে করতে চলা। বিএনপি আমলেই নিরাপদ শুরু হয়েছিল কিন্তু পরে নানা নোংরা শ্রমিক রাজনীতির মাধ্যমে নিরাপদ বাসটা বন্ধ করে নাগরিকদের পশুর পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা আজো চলমান।

হিংসুটে ও কু স্বভাবের নাগরিকরাও গণপরিবহনের শ্রেণি বিভাজন নিয়ে কখনোই জনমত তৈরি করেনি। এদের ভাব একটাই সবাই একই মানে চলবো, অথচ বেকুবগুলো বোঝে না, গণপরিবহনে শ্রেণি বিভাজন ও এসি বাস সংযুক্ত হলে প্রাইভেট গাড়ি রাস্তায় কমে যাবে, আর এতে করে সবার কর্মঘণ্টা বেঁচে যাবে। এর পাশাপাশি রাজধানীর মূল সড়ক থেকে রিকশা অপসারণ করাটাও খুব জরুরি, কারণ রিকশার হস্তক্ষেপে ইঞ্জিনচালিত গাড়িগুলোও জ্যামে পড়ে যাচ্ছে। আপনি গাধা আর ঘোড়ওকে একই রাস্তায় চালাতে গেলে ঝামেলা হবেই। রিকশা গলি পথের বাহন হতে পারে, মূল সড়কে জন্য মোটেও নয়। ঢাকার সব গাড়ির হর্ন ও সাইড মিররগুলো খুলে ফেলতে হবে, যাতে প্রতিটা গাড়ি ফ্রন্ট ও ব্যাক লাইট সিগনালের ওপর নির্ভর করেই চলতে বাধ্য হয়। এতে করে মূল সড়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটা থেমে যাবে।

সঠিক সমাধানের পথে না হেঁটে, জ্যামের জন্য শুধু প্রাইভেট গাড়ির মালিকদের একক গালমন্দ করার কাজটি সরকারের দায়িত্বশীল, আমলা ও গণমাধ্যমগুলো করেই যাচ্ছে। দাস গণমাধ্যমের অবশ্য কোনো দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ তাদের মালিকগুলো ধান্দা করার জন্য মিডিয়া হাউজগুলো ব্যবহার করে। আগে নাগরিকদের গণপরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি করুন, তারপর প্রাইভেট গাড়িওয়ালাদের গাল দিয়েন। নিজের গাড়ি কেনার অক্ষমতারে জ্যামের ওপর দিয়ে চালাইতে যাইয়েন না মি. উজবুকগণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত