প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ রাশিদুল বারী ইকবাল: এক গ্রামে একটি কূপ ছিল

শেখ রাশিদুল বারী ইকবাল : কূপটি ছিল ভূতুরে আর তার পানি ছিল একদম তলানিতে। গ্রামের লোকজন যখনই পানি তুলতে তাতে বালতি ফেলত প্রতিবারই বালতিশূন্য রশি উঠে আসত। এমন অদ্ভুতকাণ্ড বারবার ঘটায় গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল যে, কূপটি জীনের বাসা। এখানে ভয়ংকর একটা জীন বাস করে।

কিন্তু এভাবে আর কদিন।চলে? তাদের পানি সংগ্রহ করতে হবে। এর একটা বিহিত করা দরকার। কিন্তু কূপে নামবে কে? কেউ সহজে রাজি হচ্ছে না।এমন সময় এক যুবক কূপে নামতে রাজি হলো। সে বলল, আমি কূপে নামব।।আমার কোমরে রশি বেঁধে নামিয়ে দিবেন। তবে শর্ত হল রশির অপর প্রান্তে অবশ্যই আপনাদের সাথে আমার পিতাকে থাকতে হবে।

গ্রামের লোকজন তার শর্ত শুনে বেশ আশ্চর্য হলো। গ্রামের শক্তিশালী সুঠাম এতগুলো মানুষ থাকতে তার পিতাকে লাগবে কেন?!
প্রথমে তারা যুবককে বিষয়টা বোঝাতে চেষ্টা করল। তবুও তার এক কথা অবশ্যই তার পিতাকে সাথে রাখতে হবে। তার পিতাকে খুঁজে আনা হলো। সবাই মিলে যুবককে কূপে নামিয়ে দিল। ভেতরে গিয়ে সে দেখল, কূপের তলার জলের ঠিক একটু উপরে একটি কোঠর রয়েছে একটি বানর। এই শয়তান বানরটিই বালতি রেখে দিত।

যুবক বানরটিকে ধরে কাঁধে বসিয়ে রশি টানার নির্দেশ দিল।বানরটি ছিল যুবকের কাঁধে। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই সর্বপ্রথম দৃষ্টিগোচর হল বানরের চেহারা। হঠাৎ করে ভূতদর্শন চেহারা দেখে সবাই মনে করল, জীনটা উঠে আসছে। তাই রশি ফেলে সবাই পালালো ।
কিন্তু একজন রশি ছাড়ল না। আর সে হলো ছেলেটির পিতা। বহুকষ্টে ছেলেকে টেনে তুলল উপরে। ফলে তার ছেলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেল।

তখন সবাই বুঝতে পারল কেন সে পিতাকে রশি ধরার শর্ত দিয়েছিল। কারণ, পৃথিবীতে সবাই বিপদের সময় দূরে সরে গেলেও পিতা/মাতা সরবে না। তাই আসুন পিতা/মাতাকে ভালোবাসি। তাদের সঠিক মূল্যায়ন করি। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত