প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল): শুভ জন্মদিন ছোট আপা

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল): পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাতে বেলজিয়ামে অবস্থান করায় দৈবক্রমে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার শাসন আর সাম্প্রদায়িক শক্তির সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উল্টো দিকে ঘুরতে থাকা বাংলাদেশের ঘড়ির কাটাকে আবার ঠিকঠাকমতো চলতে শেখানোয় এ জাতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।

জীবনের মায়া আর পরিবারকে তুচ্ছজ্ঞান করে শেখ হাসিনা সেদিন বাংলাদেশে ফিরে না এলে বাঙালি আর বাংলাদেশ যে আজ কোন ভাগাড়ে গিয়ে দাঁড়াতো তা আমাদের কল্পনারও অতীত। আর যে নিভৃতচারী মহিয়সী নারী ছায়াসঙ্গী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বন্ধুর যাত্রাকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে আসায় অসামান্য অবদান রেখেছেন, আজ তার জন্মদিন। তাকে আমরা সচরাচর মনে রাখি না। আমাদের চায়ের কাপে ধোয়া তোলা আলোচনার টেবিল তাকে নিয়ে সরগরম হয় কমই। আজকের দিনটিতে থাকছে না তেমন কোনো আয়োজনও। এমনই নিভৃতচারী বাঙালির ‘ছোট আপা’।

এই ছোট আপাই ১৯৭৯ সালের ১০ মে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে বাকশাল আয়োজিত প্রকাশ্য সভায় প্রথমবারের মতো আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি তুলেছিলেন। ১৯৮০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কুন্দন রেস্টুরেন্টে স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপিকে চেয়ারম্যান করে শান্তিতে নোবেল জয়ী আইরিশ আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইড আর লেবার পার্টির জেফরি টমাস কিউসি এমপিসহ অন্যান্যদের নিয়ে বঙ্গন্ধুর ও জাতিয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য একটি আর্ন্তজাতিক তদন্ত কমিশন গঠিত হয় তার পেছনেও মূল চালিকাশক্তিও ছিলেন ছোট আপাই।

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ইউরোপের পথে পথে তার ঘাম ঝরেছে অনেক। বাঙালির ‘বড় আপা’ যেদিন ছোট্ট দুই সন্তানকে প্রবাসে রেখে দেশ বাঁচাতে হায়নার গুহায় পা রেখেছিলেন, সেদিনও তার আদরের দুই সন্তানের দেখভালের দায়-দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছিলো এই ছোট আপাই। নিজের নামের আগে পরে মন্ত্রী, এমপি জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি কখনোই, অথচ অনেকের জন্য আরোধ্য এ সব পদ-পদবি নিজের করে নেওয়ায় তার ইংগিতই যথেষ্ট।

আপা গর্ব করে বলেন, তিনি জাতির পিতার কন্যা। অতএব আর কোনো পরিচয়ই তাঁর প্রয়োজন নেই, কারণ তাঁর পাসপোর্টে পিতৃপরিচয়ের জায়গায় যে নামটি লেখা আছে, তা আর সব পরিচয়কে ছাপিয়ে যায় অনায়াসেই। তাঁর প্রতি এ জাতির কৃতজ্ঞতা অশেষ কারণ আমাদের আজকের যা কিছু অর্জন তার পেছনে এই নিভৃতচারী মহিয়সী নারীর অবদানও যে অশেষ। ১৩ সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটিতে তার প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে তাই রাশি রাশি শুভেচ্ছা আর অন্তহীন ভালোবাসা।

লেখক : ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

 

 

সর্বাধিক পঠিত