প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিরাজগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে পাঠদান শুরু

সোহাগ হাসান: [২] দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কারণে সিরাজগঞ্জে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শতভাগ উপস্থিতি দেখা গেছে।

[৩] বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্র পরিমাপ করা হচ্ছে। এদিকে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে প্রতিষ্ঠানের সামনে রাখা হয়েছে সাবান ও হ্যান্ড সানিটাইজার। প্রত্যেকটি শ্রেণী কক্ষেও নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ৩৭৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

[৪] গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন সরকার। এরপর সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জেও বন্ধ করে দেওয়া হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ১৮ মাস ২৫ দিন বন্ধ থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ রাখতে ভার্চুয়াল ক্লাশ চলে আসছিল। বর্তমানে করোনা সংক্রমন হার কমতে শুরু করায় সরকারী নিয়ম মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তেই আজ শুরু হয়েছে স্বশরীরে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ।

[৫] রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ফাতেমা, তাবাসুম, ঔশী, শশী, নাহিদ, অনিকসহ আরো অনেক শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষা জীবনে দশম শ্রেনীকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তারা। কারণ তাদের মাধ্যমিক পরীক্ষা রয়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনেক মিস করছিলেন। অনলাইন ক্লাশে ভার্চুয়াল লাইফটা থেকে যায়। বাস্তব লাইফের মত শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক ও বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক সহ পড়াশোনায় স্পিড ভালো থাকেনা। নির্দেশনা মেনে চললে আগামিতে তারা নিরাপদে পরীক্ষা দিতে পারবে বলে মনে করে। অনেক দিন পর স্কুলে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে তাদের। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাশ করতে পেরে আনন্দিত তারা। অনেকদিন পর স্কুলে এসে তাদের দেড় বছরের একঘেঁয়েমী পরিবেশ কাটাতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। স্কুলে এসে সহপাঠি সহ শিক্ষকদের দেখেই মনে আনন্দ হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর ভার্চুয়াল ক্লাশ করেছে তারা। কিন্তু সেখানে তাদের ভালো লাগেনি। এখন অনেকদিন পর এভাবে স্বশরীরে স্কুলে আসতে পেরে তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানায়।

[৬] এইচ এম আলমগীর কবির, রেজাউল করিম, আখি খাতুন, আয়শা খাতুন নামের অভিভাবক জানায়, শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার আগ্রহ থাকলেও অভিভাবকদের মনে করোনা সংক্রমনের ভয় রয়েছে এখনো।

[৭] সিরাজগঞ্জ এসবি রেলওয়ে স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর ভিতরে প্রবেশ করা সহ সকল প্রকার সরকারী নির্দেশনা মেনে তারা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু করেছেন। এতোদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও তার প্রতিষ্ঠানে শতভাগ উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা আনন্দ উৎসবের মত প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়েছে। তারাও সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি পালন করছেন।

[৮] এদিকে ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকার পক্ষ থেকে জাহান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার উপহার দেন।

[৯] সিরাজগঞ্জে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিউল্লাহ বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পরে সরকারের ১১ দফা ও ১৯ দফা মেনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করবে। সবাই নিয়ম মেনে চলবে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানবে না তাদের বিরুদ্ধে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার ২০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি উঠেছিল। এখন সবগুলোর পানি নেমে গেছে। পাঠদান কার্যক্রম চালাতে আর কোন সমস্যা হবে না বলে তিনি জানান।

[১০] সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাণোচ্ছলভাব লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরও বলেন, জেলার সকল প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষদের সাথে মতবিনিময় করে সব দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত