প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিতে প্রশাসন

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ বাংলাদেশে আসতে পারে-এমন শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার চিন্তা করছে প্রশাসন। যুগান্তর

এরই অংশ হিসাবে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় বৈঠকে করোনার তৃতীয় ঢেউ সম্পর্কে মাঠ প্রশাসনের মতামত চাওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কোন ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যায় সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

এছাড়া প্রতি মাসে দুইবার ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে জুম মিটিং করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পাক্ষিক এসব বৈঠকেও ডিসিদের করোনা পরিস্থিতির বিষয়ে স্ব স্ব জেলার বিষয়ে কড়া নজর রাখতে বলা হচ্ছে।

কয়েকটি জেলায় করোনা সংক্রমণ জাতীয় পর্যায় থেকে অস্বাভাবিক বেশি থাকার কারণ খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের করোনা সংক্রমণ এখনো ৩০ শতাংশের বেশি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে উল্লিখিত সব তথ্য। আইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বৃহস্পতিবার বলেন, আরেকটি ঢেউ আশার আশঙ্কা অবশ্যই আছে। এটি মোকাবিলায় সরকারের চিন্তা আছে, তবে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ থাকা দরকার। এই মুহূর্তে সংক্রমণ কম থাকার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি আছে সেগুলো চিহ্নিত করে পূরণ করা প্রয়োজন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই সামলে উঠছে বাংলাদেশ। কয়েকদিন ধরে সংক্রমণের হার দশ শতাংশের নিচে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিজ্ঞতা ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তৃতীয় ঢেউয়ের প্রস্তুতি থেকে বাংলাদেশেও তৃতীয় দফায় ভাইরাস সংক্রমণের আরেকটি ধাক্কা আসার আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গত দুই বছরই মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। এবার আগেভাগেই এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।

ইতোমধ্যে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ সামলাতে চার দফা অগ্রিম পরিকাঠামো ঘোষণা করেছে সে দেশের সরকার। এর আগে দুইবারের করোনা সংক্রমণ ভারতের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে সংক্রমণ বেড়েছে। তাই ভারতের অগ্রিম পরিস্থিতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্র থেকে এমন বার্তাই পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমবার করোনা সংক্রমণের সময় কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। ওই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিতীয়বার যতটা প্রস্তুত থাকা দরকার ছিল তাতেও কিছু ঘাটতি ছিল। এসব সমালোচনা কার্যত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক হলেও সামগ্রিকভাবে তা সরকারের ওপরই আসে। তাই তৃতীয়বার যদি ভাইরাসের আক্রমণ আসে তাহলে আগের চেয়ে অনেক ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চায় সরকার।

গত দুইবারের চেয়ে তৃতীয় ঢেউয়ে করোনা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকবে বলে আশা করছেন প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে ২ কোটি ১৪ লাখ মানুষকে করোনার প্রতিরোধী প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে সেটা ১০ কোটির ওপরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাই তৃতীয় ঢেউ এলেও লকডাউনের মতো পরিস্থিতিতে যেতে নাও হতে পারে। তারপরও স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও করোনা উপলক্ষ্যে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পক্ষ থেকে পরামর্শ এলে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিই। তাদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাগিদ না এলেও আমরা নিজেরা নিজেদের জায়গা থেকে প্রস্তুতি রাখতে চাচ্ছি।

আগামী রোববার থেকে সীমিত পরিসরে স্কুল খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় তৃতীয় ঢেউ নিয়ে কেন চিন্তা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার কারণে সরকারকে স্কুল খোলার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর জন্য যতটা না একাডেমিক কারণ আছে, তার চেয়েও বেশি বিষয় মানুষের সেন্টিমেন্ট। কারণ সবকিছুই খোলা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন খুলবে না?

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, একদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের সমালোচনাও হচ্ছে। তাই সীমিত পরিসরে স্কুল খোলার পর করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি কেমন হয় তাও খতিয়ে দেখতে চায় সরকার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত