শিরোনাম
◈ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত : ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে দিল্লিতে মুখোমুখি পুতিন, জিনপিং ও মোদী ◈ ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, জানালেন চিফ হুইপ ◈ নতুন ঋণের নির্ভরতা কমছে, পুরনো ঋণ পরিশোধে সরকারের জোর (ভিডিও) ◈ মাঠে জমে থাকা পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ শিশুর ◈ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০ ◈ ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি বৃদ্ধাশ্রম খুলে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড ◈ আহত সেনা কর্মকর্তাকে সিএমএইচে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেলসহ আটক ২ ◈ হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকায় বন্ধুর বাসার পাশে মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর মরদেহ

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০২:০৮ রাত
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আলমগীর মোহাম্মদ: বই আলাপ: নৈঃশব্দের মানুষেরা

আলমগীর মোহাম্মদ: গল্প বলা থেকে শুরু। দৃশ্যের পর দৃশ্য। একদম সিনেমার মতো। রফিকুল আনোয়ার রাসেল সিনেমার মানুষ। মনেপ্রাণে তিনি গল্প লালন করেন। বলে যেতে চান-মানুষের অন্তর্গত আলোড়ন, আক্ষেপ ও প্রেরণার মিশ্রণ। ‘নৈঃশব্দ্যের মানুষেরা’ রফিকুল আনোয়ার রাসেলের প্রথম গল্পগ্রন্থ। রফিকুল আনোয়ার রাসেল ভাই একজন একনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা। সিনেমা নির্মাণ বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আষাঢ়ের এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় রাসেল ভাই ডেকে নিয়ে বইটি উপহার দিয়েছেন। টেক্স্যুয়াল আলাপে যাওয়ার আগে একটা বিষয় পাঠকের নজরে আনা উচিত বলে মনে করছি। লেখক বইটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর বাবাকে। উৎসর্গপত্রটা মূলত বাবা-ছেলের কথোপকথনের ঢঙে লেখা। লেখক বাবাকে ‘তুমি তো একজন ব্যর্থ মানুষ’ বললে তাঁর বাবার দার্শনিক জবাবে আমি মুগ্ধ হয়েছি। লেখকের বাবা জবাব দিচ্ছেন এভাবে, ‘শোন ব্যাটা, আমি যেদিন মারা যাবো, জানবি পৃথিবী থেকে একজন মানুষ চলে গেলো যার জীবনে আফসোস ছিলো না। যার আফসোস নেই সেই ব্যর্থ হয় কী করে?’

প্রথম গল্পের নাম ‘রফিক আশিকী’। একদল শহুরে মানুষ নগর জীবনের ক্লান্তি কাটাতে শহর ছেড়ে অনেক দূরে পাহাড়ে যায়। সেখানে সান্ধ্যকালীন গানের আসরে এক অচেনা গায়ক রফিক আশিকী গজল পরিবেশন করেন। জীবন যুদ্ধে পরাজিত, নেশায় মেতে থাকা এবং অস্তিত্বের সংকটে ভোগা নানা লোকের মাঝে সন্দেহ আর উৎকণ্ঠার মায়াজালে গজলের সেই মাহফিল লেখকের সঙ্গে আমাদের অপ্রত্যাশিত এক আবহে নিয়ে প্রবেশ করায়। দ্বিতীয় গল্পটির নাম ‘শাপ’ এক বয়োবৃদ্ধ ভদ্রলোকের মৃত্যুশয্যায় তাওবা পড়াতে আসেন স্থানীয় মসজিদের মৌলবী। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কেন্দ্রীয় চরিত্র কাজী সাহেব বুঝতে পারেন না তিনি কী পাপী। এই গল্পে লেখক আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের অস্থির সময়ে নিয়ে যান। ‘কচ্ছপ বুড়ী’ গল্পটি এক ছেলেহারা মায়ের গল্প। সদ্য যুবক হওয়া দুরন্ত ছেলেটি একদিন নেই হয়ে যায় সাগরের বুকে। ‘ফটোগ্রাফার’ গল্পটি পড়ে মানবতা না পেশাদারিত্ব- কোনটি প্রাধান্য পাবে সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেয়ার চেষ্টা। ‘শেরু-টাইগার বয়’ গল্পটি এক অনুপ্রেরণার গল্প। অনেক ছোটবেলায় লঞ্চঘাটে নতুন জীবনে পাড়ি দেয়া ঘরহীন নবদম্পতির সঙ্গে তার পরিচয়,তাদের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা। একসময় তাদের নিজেদের সন্তান হলে, শেরু বিচ্ছিন্নতা বোধে আক্রান্ত হয়। ‘শেষ সংবাদ’ গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা। রাঙ্গুনিয়ার এক সহজসরল যুবক মেরাজুল ইসলাম ওরফে মেরাইয়্যের নিহত হবার সংবাদে লেখা। মদুনাঘাট পেরিয়ে রাঙ্গুনিয়া পর্যন্ত অঞ্চলে পাক বাহিনীর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের খানিকটা বিবরণ পাওয়া যায় এই গল্পে। ‘মোনাপ, ফ্রস্ট অথবা মজুরের মৃত্যু’ গল্পটা মোনাপ নামে এক ঘরহারা যুবকের গল্প। লেখক : শিক্ষক, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কুমিল্লা।

  • সর্বশেষ