প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল: ভাইয়া, আপনে সুযোগের অভাবে চরিত্রবান!

অমি রহমান পিয়াল: গল্পটা (!) অনেকটা এরকম। এক নায়িকা মোটা অংকের টাকায় সঙ্গ দিয়ে থাকেন। তার কথিত ডিজাইনার তার পিম্প, সঙ্গী বাছাই করে, যোগাড় করে। এ বাবদ চল্লিশ পার্সেন্ট কমিশন তার। নায়িকা মিনিমাম তিনলাখের নিচে কারো সঙ্গে কথা বলেন না। তো সবই ঠিক ছিলো। কথা হলো আড্ডা মারার ছলে তিনি সঙ্গ দেবেন। কিন্তু গিয়ে দেখেন মানুষ একজন না, ৫ জন! তাদের তিনজন বেশ বয়স্ক। নায়িকা বললেন, এতো লোকের সঙ্গে তিনি খেলবেন না। ব্যবসায়ী বলে তোমার ডিজাইনার ৫ লাখ নিছে খেলবা না মানে? ৫ জনে ৫ লাখ! সেই ক্যাচাল বহুদূর গড়াইলো। অনেকের কোমরে দড়ি পড়লো। সে সময় এই ইস্যুতে আমার স্ট্যাটাসটা অনেকের হয়তো মনে আছে। আমি লিখছিলাম, নো মিনস নো। একজন পতিতারও অধিকার আছে কাউরে না বলার।

তো যাই হোক। মডেল কিংবা নায়িকাদের এসকর্ট হওয়াটা নতুন কোনো বিষয় না। নব্বইর দশকে আরব শেখদের ভেট দেওয়া হইতো ভিসার কন্ট্রাক্ট নিতে। সচিবালয়ে ভেট দেওয়া হইতো ফাইল ছুটাইতে। কক্সবাজার, পরে দুবাই-মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরে নিয়া যাওয়া হইতো সঙ্গ দিতে। ব্যাপারটা প্রফেশনাল, সঙ্গের বিনিময়ে টাকা। এই পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটাইলো মাদাম পাপিয়া। পাঁচতারা হোটেলে হেরেমখানা বানায়া সমাজের উঁচুতালার এবং ক্ষমতাবান লোকজনরে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করলো। এরপর যে দুইজন মডেল একসঙ্গে গ্রেফতার হইলো দেখা গেলো তারাও একই কাজ করে। প্রাইভেট পার্টির নামে তাদের শিকার অনেক বড় বড় লোকজন।

তো এইখানে সমস্যাটা কী! সমস্যা হইলো সিকিউরিটি ব্রিচ। সিনেমায় শোবিজে আন্ডারওয়ার্ল্ডের টাকা খাটে এটা ওপেন সিক্রেট। প্রযোজক নজরুলের সঙ্গে যে লোকটা এরেস্ট হইছে তার কানেকশন ব্যাপক। একদম ডার্কওয়েবে পর্যন্ত। এখন এই যে হানিট্র্যাপে কিংবা মধুর ফাঁদে লোকগুলা পড়তেছে এদের দিয়া যে কোনো কাজ করাইয়া নেওয়া সম্ভব। আর বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলা বরাবরই ফোকড় খোঁজে। সিআইএ প্রচুর অভ্যুত্থান ঘটাইছে হানিট্র্যাপের সফল ব্যবহারে। নায়িকা ব্যবসায়ী মডেলদের যে সিন্ডিকেটটা এই কুচক্র বানাইছে তাদের মাধ্যমে বড় দুর্ঘটনা ঘটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার না। শিট হ্যাপেনস।

ও আপনি ভাবছেন এদের মদ খাওয়ার জন্য ধরছে? নারে ভাই। মদ, মাদক এইগুলা পুলিশের ইনসিউরেন্স। মাদক মামলায় নগদে জামিন নাই। বাকি যেকোনো ইস্যুতে শক্তিশালী আইনজীবী ব্যবহার করে এদের জন্য বের হওয়া কোনো ব্যাপার না এবং বের হয়েই এরা ব্যাকট্র্যাক মুছে ফেলবে। সবাই সানাইর মতো পর্দা ধরবে যদি ভাবেন সেটা ভুল। বরং আরো বেপরোয়া হবে। পুলিশ ধরলে ম অদ্যাক্ষরের অনেক কিছুর দাম বেড়ে যায়। মাস্তান বলেন, মাদক বলেন কিংবা অন্য কিছু। জানি আপনাদের মধ্যে একজন হইলেও সুশীল একটা প্রশ্ন করার জন্য মুখায়া আছেন- ক্ষমতাবানদের এতো আলুর দোষ ক্যানো? ভাইয়া আপনে সুযোগের অভাবে চরিত্রবান। তারা না। লেখক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত