প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্ধেক গণপরিবহন চলার পেছনে যে ‘যুক্তি’

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে ‘কঠোর’ বিধিনিষেধের পর আগামী বুধবার থেকে গণপরিবহনসহ সবকিছুই খুলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সড়কপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলার সুযোগ থাকলেও প্রতিদিন মোট পরিবহনসংখ্যার অর্ধেক চালু রাখা যাবে। এর পেছনে কী যুক্তি, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় আগে আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেওয়া হতো। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আজ রোববারের আদেশে বলা হয়েছে, সড়ক, রেল ও নৌপথে আসনসংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন বা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। সড়কপথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন (সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক) নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা, মালিক ও শ্রমিকসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহনসংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

সবকিছু খুলে দেওয়ার পর সড়কপথে অর্ধেক গণপরিবহন তথা বাস চললে মানুষের চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে, যা সংক্রমণের বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

এ রকম সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা আজ বলেন, এর যুক্তি হিসেবে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় (৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত) আলোচনা হয়েছিল, সব বাস চললেও অনেক বাস পর্যাপ্ত যাত্রী পায় না। ফলে একসঙ্গে সব বাস চললে যানবাহনের চাপ বাড়ে। আবার সব বাসে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় সব শ্রমিক আর্থিকভাবে সুবিধা কম পান। অর্ধেক বাস নিয়ে চললে এক দিকে যানবাহনের চাপ কমবে, আবার সবাই যাত্রী পাবে। ফলে শ্রমিকেরা আর্থিকভাবে সুবিধা পাবেন। মূলত এ আলোচনা হয়েছিল।

তবে পরিবহনমালিকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আজ প্রথম আলোকে, প্রথমত শতভাগ যাত্রী নিয়ে অর্ধেক বাস চললে চাপ বাড়বে। এর কী যুক্তি থাকতে পারে, সেটি তাঁরাও বুঝতে পারছেন না। শতভাগ বাস চললে আগের মতোই ভাড়ায় চলতে পারবেন। কিন্তু অর্ধেক গাড়ি চালানো হবে কীভাবে? এমনিতেই শ্রমিকেরা কর্মহীন অবস্থায় আছেন। এখন অর্ধেক বাস চললে শ্রমিকেরাও অসুবিধায় পড়বেন। এ জন্য এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণে এ বছরের ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ চলছে। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়, যা প্রথমে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। পরে তা ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন আদেশে জানিয়েছে, বুধবার থেকে শর্ত সাপেক্ষে সবকিছুই খুলে দেওয়া হচ্ছে। গত ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে গণপরিবহন ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। সব শিল্পকারখানা চালু থাকবে। আর খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। আদালতের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

আদেশে আরও বলা হয়, সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গণপরিবহন, বিভিন্ন দপ্তর, মার্কেট, বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব বহন করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত