প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নড়িয়ায় ডা.গোলাম মাওলা সেতুর ডিজাইন পরিবর্তনের দাবি এলাকাবাসীর

মো. আল-আমিন: [২] শরীয়তপুরের নড়িয়ার কীর্তিনাশা নদীর উপর ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা উড়াল সেতুর এপ্রোচ ডিজাইনের পরিবর্তন করার দাবী করেছে এলাকাবাসী। বর্তমান ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হবে ও সেতু পদ্মানদীর ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকবে বলেও আশংকা তাদের। পাশাপাশি সরকারের অধিক রাজস্ব ব্যয় হবে। এলজিইডি বলছে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট এসে সরেজমিন সার্ভে করে ডিজাইন করে দিয়েছে। তাদের দেয়া ডিজাইন অনুযায়ী প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।

Exif_JPEG_420

[৩] নড়িয়া এলজিইডি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এবং ব্যবসায়ীরা জানায়, শরীয়তপুরের নড়িয়া বাজারের পশ্চিম পাশে পদ্মানদীর অতিব নিকটবর্তী কীর্তিনাশা নদীর উপর ভাষা সৈনিক ডাঃ গোলাম মাওলা সেতুটি বিনষ্ট হওয়ার কারনে ৪-৫ বছর যাবৎ যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী সহ এলাকার কয়েকটি ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলে ক্ষতি হচ্ছে। গত ২-৩ বছর পূর্বে এলজিইডি এ সেতুটির পাশ দিয়ে নুতন করে সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধা মতে পূর্বের সেতুর ডিজাইন অনুযায়ী প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ১৪৫ মিটার একটি সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ডিজাইন অনুযায়ী সেতুর পূর্ব পাশের এপ্রোচ ছিলো ব্রীজ থেকে সরাসরি বাজারের মেইন সড়ক। দরপত্রের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নাভানা গ্রুপ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে সেতুর পশ্চিম পাশের পিলার ও নদীর মাঝ খানের একটি পিলার নির্মাণ কাজ শেষ করে। সেতুর কাজ চলমান অবস্থায় গত দুবছর পূর্বে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনের ফলে নড়িয়া পৌর এলাকা সহ মোক্তারেরচর, কেদারপুর ও নড়িয়া বাজারের বেশ কিছু এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সেতুটির মাত্র ৫০০ গজ দুরে চলে আসে পদ্মানদী। সেতুটি ভয়াবহ ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

[৪] এ অবস্থায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা আর কাজ করেনি। দীর্ঘদিন পরে থাকার পর এলজিইডি পুনরায় নুতনভাবে ডিজাইন করে ৩১ কোটি ২১ লাখ টাকায় ব্যয় ধরে ৩২৭ মিটার একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ ডিজাইনে মূল সেতুর সঙ্গে ফ্লাইওভার করে (ভায়া ডাক) কীর্তিনাশা নদীর পূর্ব পাড়ে এসে বামদিকে মোড় দিয়ে কীর্র্তিনাশা নদীর পাড় ঘেষে সোজা উত্তর দিকে গোডাউন ঘাট হয়ে পোস্ট অফিসের পাশদিয়ে বাজারে ঢুকবে এপ্রোচ। এতে করে স্থানীয় অনেক লোকের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পাশাপাশি সেতুটি পদ্মানদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়বে। কেন না গোডাউন ঘাট থেকে পদ্মা নদী মাত্র ৪০-৫০ গজ দুরে। যেখানে পানির গভীরতা হবে কমপক্ষে ১৫০ ফিট। এছাড়া ভায়া ডা এর প্রতিটি পিলার কীর্তিনাশা নদী থেকে মাত্র ১০-১৫ ফিট দূরে পড়বে। বর্তমান ডিজাইন অনুযায়ী এ সেতুটি নির্মিত হলে সরকারের অনেক বেশি টাকা ব্যয় বাড়বে। সেতুটি ভাঙ্গনের ঝুঁকি থাকবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যবসায়ী সহ জনসাধারণ ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই এলাকার সাধারণ মানুষ সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন করে পুর্বের ডিজাইনে সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন।

[৫] এ ব্যাপারে নড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঃ রহমান শেখ, বাবুল চৌকিদার ও জিন্নাত আলী পেদা বলেন, নুতন ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে সেতুটি ভাঙ্গন ঝুঁকিতে পড়বে। এলাকাবাসী সহ আমাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিনষ্ট হবে। পাশাপাশি সরকারের বিরাট অংকের ব্যয় বাড়বে। আমরা সেতুর ডিজাইন পরিবর্তনের দাবী জানাই।

[৬] নড়িয়া বৈশাখী পাড়া এলাকার বাসিন্দা আঃ আলী সিকদার, সুলতান চৌকিদার, সবুজ শেখ সহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা বলেন, পূর্বের ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক বেশী সুবিধা হবে। সেতুর ভাঙ্গন ঝুঁকি কম থাকবে। এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তেমন ক্ষতি হবে না। সরকারের টাকা বাঁচবে। আর নুতন ডিজাইনে সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।

[৭] নড়িয়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোঃ শাহাব উদ্দিন খান বলেন, এ সেতুটি অনেকদিন যাবৎ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরপূর্বে একবার সেতুর দরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিলো। ঠিকাদার কিছু কাজ করে আর করেনি। কোনো যোগাযোগও করেনি। এরপর নুতনভাবে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট এসে সরেজমিন সার্ভে করে ডিজাইন তৈরী করে মূল সেতুর সঙ্গে (ভায়া ডাক) উড়াল সেতু যোগ করে দেয়া হয়েছে।

[৮] শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান ফরাজী বলেন, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামূল হক শামীম এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা করে ডিজাইন করা হয়েছে। মূল ব্রীজ থেকে সোজা এপ্রোচ দিলে দু’পাশের দোকানপাট বেশী ক্ষতি হবে। তাই ব্রীজটি দৃষ্টিনন্দন করার জন্য এভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত