প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রূপগঞ্জ ট্রাজেডি: ২১ মরদেহ হস্তান্তর

মোস্তাফিজুর রহমান: [২] শনিবার (৭ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে থাকা ২১ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বেলা ১২টা থেকে হস্তান্তর শুরু করে দুপুর ১টার মধ্যে হস্তান্তর করা হয়।

[৩] সকাল থেকে নিহতে মরদেহ নিতে আসা স্বজনরা জড়ো হয়। পরে একে একে সকলের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে স্বজনদের হাতে মরদেহের কফিন তুলে দেন সিআইডি।

[৪] এরআগে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গ ও ঢামেক হাসপাতাল মরচুয়ারীতে থাকা মরদেহ গুলো ঢামেক মর্গে নেয়া হয়। পরে রাতে তাদের গোসল কাজ সম্পন্ন করে, কাফন পড়িয়ে বক্সে করে রাখা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে একে একে স্বজনদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

[৫] রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস লিঃ আগুনের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ৪৮ মরদেহের মধ্যে ডিএনএ প্রোফাইল য়ের মাধ্যমে ৪৫ শ্রমিকের পরিচয় পাওয়া গেছে। ৩ মরদেহের পরিচয় এখনো মিলে নি। এ জন্য এখনো কাজ চলছে।

[৬] এরআগে ৪৫ মরদেহের মধ্যে বুধবার (৪ আগস্ট) ২৪ জনের মরদেহ তাদের স্বস্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন সিআইডি।

[৬] কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মন্জিল মিয়া ও তার মেয়ে আসেন সকাল সোয়া আটায়। মন্জিল মিয়া বলেন তার স্ত্রী মিনা খাতুন (৪৩) এর মরদেহ রয়েছে এখানে, গতকাল সংবাদ পেয়ে রাতে তারা ঘুমাননি। ছুটে আসেন ঢামেক মর্গে। এখন শুধু অপেক্ষা কখন পাবেন তাদের মরদেহ।

[৭] এর আগে আসেন ভোলা জেলার দক্ষিণ আইচা উপজেলার বাসিন্দা সেখানকার মসজিদের ইমাম জনাব ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার ছেলে শামীম (১৮) এর মরদেহ আছে এখানে। ছেলের মরদেহ নিতে এসেছেন তিনি। তিনি জানান, তার ছেলে গ্রামে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করতো। লকডাউনে তাদের মাদ্রাসা বন্ধ থাকায়, পরিবারের অভাবের কারনে সে গ্রামের পরিচিতদের মাধ্যমে কাজ নিয়ে ছিলো চট্টগ্রামে বনফুল সেমাইয়ের কারখানায়। সেখান থেকে রোজার ঈদের আগে সেখান থেকে একটু বেশি বেতনে চাকরি নিয়েছে হাসেম ফুডস কারখানায়। সেটা তিনি জানতেন না। আগুনের ঘটনায় ঘটে যাওয়ার পর দিন, প্রতিবেশী সহকর্মীদের স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন। তার ছেলেও সেই কারখানায় কাজ করতো। পরে এসে অনেক খোজাখুজি করেও তার কোন সংবাদ পাননি। পরে সিআইডি র কাছে রক্ত দিয়ে গিয়েছিলেন। গতকাল জানতে পেরেছি, তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তাই চলে এসেছি ছেলের মরদেহ নিতে। এখন বসে আছি, কখন আমার ছেলের মরদেহ পাবো। শামীমরা দুই ভাই দুই বোন, সে ছিলো ৩য়।

[৮] শুধু শামীম, বা মিনা খাতুন এর পরিবারের স্বজনরা নয়, পরিচয় পাওয়া ২১ পরিবারের স্বজনরাই ছুটে আসছেন তাদের প্রিয় জনের মরদেহ নিতে। সে সময়ে ঢামেক মর্গে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে যায়। চার দিকে শুধু কান্নাকাটির স্বজনদের।

[৯] আজ যাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হচ্ছেন মোসাঃ মাহমুদা আক্তার, সান্তা মনি, মাহবুবুর রহমান, জিহাদ রানা, রহিমা আক্তার, মিনা খাতুন, মোঃ নোমান, আমেনা আক্তার, মোসাঃ রহিমা, রাবেয়া আক্তার, মোঃ আকাশ মিয়া, মোঃ নাজমুল হোসেন, কল্পনা রানী বর্মন, স্বপন মিয়া, শেফালী রানী সরকার, মোসাঃ অমৃতা বেগম, মোঃ শামীম, সেলিনা আক্তার, তাসলিমা আক্তার, ফাকিমা আক্তার, মোঃ হাসনাইন।

[১০] এদের ছাড়াও আরও এক পরিবার আসছেন, তাদের মরদেহ এখনো পাননি। নিখোঁজ ঐ শ্রমিকের নাম মহিউদ্দিন (২৬)। নিখোঁজের খোঁজে আসা বড় ভাই সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন থেকেই তাকে খুজছেন তিনি। মহিউদ্দিন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত গোলাম হোসেন মাঝির ছেলে। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে সে ছিলো ৭ম।

[১১] বড় ভাই বলেন, আমি সিআইডি কাছে রক্ত দিয়েছি কিন্তু আমাকে তারা (সিআইডি) ভাইয়ের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারিনি। তিনি বলেন আজও তার খোঁজ পাইনি। জানি না কবে পাই।

[১২] এদিকে, মর্গে গিয়ে দেখা একজনের মরদেহ নিতে আসেন স্বামী ও মৃতের বাবা মা। মরদেহ কে বুঝে নিবেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে দন্ধ দেখা গেছে। এ রকম দুটি পরিবারের। তাদের মধ্যে একটি পরিবারের সমযতা হলেও। আরেকটি পরিবার মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি গেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত