শিরোনাম
◈ জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষমতায় গেলে নজরদারির হুঁশিয়ারি মার্কিন কূটনীতিকের ◈ রাঙামাটির সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ◈ ট্রাম্পের নেতৃত্বে শান্তি পর্ষদ, স্বাক্ষর করলেন ২০ দেশের নেতা ◈ এক বৈঠকেই ১১ অধ্যাদেশ অনুমোদন: আইন, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের ◈ তাদের প্রটোকল দরকার হলে তিন ডাবল করে দেন: তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ নির্বাচন সামনে রেখে মোতায়েন সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শনে সেনাপ্রধান ◈ সরকারের একটি মহল কিছু কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করছে: মির্জা আব্বাস ◈ ডোনাল্ড ট্রা‌ম্পের গ্রিনল্যান্ড দখ‌লের প‌রিকল্পনার প্রতিবা‌দে বিশ্বকাপ ফুটবল বয়কটের ডাক জার্মানির! ◈ বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার দল নয় বাংলা‌দেশ, না খেললে ক্রিকেটের ক্ষতি হবে না : অতুল ওয়াসান ◈ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট, ২০২১, ০৩:৪৯ রাত
আপডেট : ০৩ আগস্ট, ২০২১, ০৩:৪৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খান আসাদ: যেভাবে বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ হতে পারতো

খান আসাদ: পুঁজিপতি শিল্পমালিকদের পক্ষের বুদ্ধিজীবীরা বরাবরই বোঝাতে চান, ‘ব্যক্তিমালিকেরা ত্রাতা, এরা কারখানা না বানালে, তোমরা কাজ করতে পারতে না। কাজ না পেলে তোমরা বেঁচে থাকতেনা’। মানে পুঁজিবাদী মালিকেরা প্রায় ঈশ্বরের মতো, শ্রমিকদের রুটিরুজির ব্যবস্থা করছে, দয়া করে। তবে যেহেতু এই মালিকদের হাতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আছে, ফলে কার্যত এরা ঈশ্বরের মতোই ক্ষমতাবান। নিউটন যেমন মাধ্যকর্ষণশক্তি আবিষ্কার করেছেন, ডারউইন যেমন বিবর্তনতত্ত্ব, তেমনই মার্ক্স বিস্তারিত ভাবে লিখলেন উদ্বৃত্তমূল্য তত্ত্ব। অর্থনীতির ইতিহাস পাঠ থেকে দেখালেন পুঁজির ইতিহাস, যা রক্তপাত, লুণ্ঠন ও নিপীড়নের ইতিহাস। পশুর মতো ট্র্যাকে তুলে দেওয়ার ছবি দেখছি। নারী গার্মেন্টস কর্মীদের ঢাকায় আসার। এক সচিত্র অমানবিক নিপীড়নের আখ্যান। মানবতার এই অপমান বাংলার শ্রমজীবীদের প্রাপ্য ছিলো না।

বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ অন্য ভাবেও হতে পারতো। মুক্তিযুদ্ধের পরে, সেই পথ রচিত হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস (আইএমএস) ক্যাডার তৈরির মাধ্যমে, যারা জাতীয় শিল্পের পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। শিল্প হবে রাষ্ট্রীয় মালিকানায়, পরিকল্পনা ছিলো। রাষ্ট্রীয় মালিকানার সঙ্গে, হতে পারতো সমবায় মালিকানায় শিল্প, সংবিধানে তাও সংযোজিত আছে। হতে পারতো রাষ্ট্রীয় ও শ্রমিকসমবায় মালিকানার সঙ্গে ব্যক্তিউদ্যোগ যেমন ফজলে হাসান আবেদের মতো এন্টারপ্রেণারদের প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা। ব্যক্তিমালিকানার বিকল্প ছিলো এবং এখনো আছে।

শিক্ষা সংস্কারের একটি উদ্যোগও ছিল, কুদরতি খুদা শিক্ষা কমিশন। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে, আমরা মানবসম্পদ উন্নয়নের এমন এক স্তরে থাকতাম যে, সৌদি বা অন্যদেশ থেকে আধুনিক বাঙালি দাসদের লাশ হয়ে ফিরতে হতো না। প্রশ্নটা দৃষ্টিভঙ্গির। আপনি শোষক লুটেরা শ্রেণির পক্ষের হলে, শিল্পমালিকদের ঈশ্বরের মতো দেখবেন। আর সমাজবিজ্ঞানের আলোয় দেখলে, বুঝবেন, নারীর, কৃষকের ও শ্রমিকের শ্রমের ভূমিকা ও অবদান, জাতীয় অর্থনীতিতে। যে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শিক্ষায় অগ্রসর দেশ হতে পারতো, সেই পথ থেকে সরে আসাও হয়েছে, অনেক রক্তপাতের মধ্যদিয়েই। নয়া-উদারবাদী, ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য, সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁদের এদেশীয় অনুচরদের অনেক অনেক রক্তপাত ঘটাতে হয়েছে, এই দেশে। ইতিহাসের পুনঃপাঠ সকলের জন্যই জরুরি, যারা আমরা একটি সমৃদ্ধ, সাম্য ও শান্তির বাংলাদেশ চাই।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়