শিরোনাম
◈ সরকার দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করেছে: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ◈ ফ্ল্যাট–প্লট কিনতে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ, কে পাবেন, কীভাবে পাবেন ◈ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ ◈ স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে জামায়াত নেতাকে হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল (ভিডিও) ◈ গণভোট নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রচারণার নির্দেশ ◈ ৪ মার্কিন মুসলিম ক্রিকেটারকে ভিসা দেয় নি ভারত ◈ বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত: সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী ◈ অতীতে কারা দায়মুক্তি দিয়েছিলেন? জুলাই যোদ্ধাদের কী হবে ◈ বিক্ষোভে প্রায় ২০০০ নিহত, দাবি ইরানি কর্মকর্তার ◈ শেখ হাসিনাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করল পিবিআই

প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০২:২৪ দুপুর
আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০২১, ০৬:৩৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ফের উত্তাল বঙ্গোসাগর, বিপাকে জেলেরা

মনিরুজ্জামান: [২] সাগরে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বৃদ্ধির স্বার্থে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন সকল ধরণের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন সরকার। পরে ২৪ জুলাই থেকে সাগর মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত হয়। কিন্তু সকল প্রস্তুতি ও যাত্রার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবার সাথে সাথেই বাঁধ সাধে বিরূপ প্রকৃতি। সাগরে সৃষ্টি হয় নিম্নচাপ। জারি করা হয় ৩ নং সংকেত। যার দরুণ মাছ ধরতে যেতে পারছে না প্রায় অর্ধলক্ষ ইঞ্জিনচালিত নৌকা।

[৩] ঝুঁকি নিয়ে সাগরে রওয়ানা হয়ে ডুবে যায় চট্রগ্রামের বাঁশখালীর অন্তত ৬ টি নৌকা। নিখোজ হয় বেশ কয়েকজন জেলে। বিরূপ আবহাওয়ায় থমকে যায় সাগর তীরবর্তী উপজেলা চরফ্যাসন, মনপুরা, কলাপাড়া, পাথরঘাটার জেলেদের সাগর যাত্রা। বরিশাল বিভাগের প্রায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার জেলে ও প্রায় ২০ হাজার বিভিন্ন আকারের নৌকার সাগর যাত্রা হয়ে যায় বন্ধ।

[৪] সাগরের মাছের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় সময় নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকার পর আবার প্রকৃতির বাঁধায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে করোনাকালীন সময়ে সাগরে মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহনের সাথে যুক্ত প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষের জীবিকা।

[৫] সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, সাগরে মাছ ধরতে যেসব নৌকা তৈরি করা হয় তাতে খরচ হয় আকার ও ক্ষমতাভেদে ২০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত। প্রতিবার সাগরযাত্রায় খরচ হয় ২ থেকে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এত বিপুল পরিমাণ আর্থিক বিনিয়োগ করে অধিকাংশ সময় মাছ ধরতে না পেরে বর্তমানে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নৌকার মালিকরা। অনেক নৌকার মালিক ঋণের টাকার দায়ে নৌকা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

[৬] এমনি একজন নৌকার মালিক রুহুল আমিন জানান, "সাগরে মাছের টাইমে মাছ ধত্তে না পাইরা আর অন্য টাইমে মাছ কম থাহায় ৩০ লাখের নাওয়ে ১২ লাখ ট্যাকা লোকসান দিয়া নাও বেইচা ফ্যালাইচি"। সাগরের আরেকজন ট্রলার মালিক কালাম জানান,"সরকার সাগরে অবরোধ দিছে, জাইল্লাগো তাও কিছু চাউল দিছে, আমাগো তো কিছু দেই নাই। অহন আমরা লোকসান দিয়া দিশাহারা হইয়া যাইতাছি।"

[৭] সাগরের নৌকা রওনা দেয় এমন মাছ ঘাটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, আবহাওয়া খারাপ থাকায় নৌকাগুলো সাগরে যেতে পারছে না। এতে জেলেদের পাশাপাশি চরম দূর্দশায় পড়েছে এর সাথে জড়িত উপকূলীয় বিরাট জনগোষ্ঠী। মাছ ধরতে না পারার সাথে ঋণের বিরাট বোঝা। তার সঙ্গে করোনার নিষেধাজ্ঞায় অন্য কাজেও প্রতিবন্ধকতা। এমনই জীবিকার নিদারুণ সংকটে পুরো উপকূলীয় জনগোষ্ঠী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়