প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসপাতাল ও এ্যাম্বুলেন্স দালাল চক্রের মূল হোতা মামুনসহ গ্রেপ্তার চারজন, প্রতারণার মাধ্যমে ২৭ বিয়ে করেন মামুন

সুজন কৈরী: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা সাহাদৎ হোসেন মামুনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন-ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালের স্টাফ মহিন উদ্দিন মামুন, রহমত উল্লাহ ও আকরাম হোসেন। গ্রেপ্তারের সময় মামুনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার জাল টাকা ও ৫৫০পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই অভিযান চালায় র‌্যাব-২।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা উন্নত চিকিৎসার নামে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী নিয়ে আসে এবং আইসিইউতে ভর্তি, বিভিন্ন চেকাআপের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে তারা রোগী নিয়ে আসতো। এক্ষেত্রে জেলা শহরের এ্যাম্বুলেন্স চালক এবং হাসপাতালের দালাল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।

শ্যামলীর ওই হাসপাতালে ভর্তির পর রোগীদের কাছ থেকে অযথা বিভিন্ন টেষ্ট ও পরীক্ষার কথা বলে অতিরিক্ত বিল করতো।

র‌্যাব আরও জানায়, চক্রের মূল হোতা সাহাদৎ হোসেন মামুন একজন বড় মাপের প্রতারক। তিনি মোট ২৭ টি বিয়ের মাধ্যমে যৌতুক ও টাকা আদায় করে তাদের জিম্মি করে তাদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড করাতেন। তার প্রতারনার শিকার মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের নার্সিং পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট নারী এবং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগী বা রোগীর আত্মীয় স্বজনরা।

প্রতারক মামুন খুলনা অঞ্চলের বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ সিকদারের সহযোগী ছিলেন। তার নামে রয়েছে অসংখ্য মামলা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, ঈদে দালালদের কোরবানির গরু দেওয়ার প্রলোভনে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনা হতো।

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। আর এই সুযোগে ঢাকার অখ্যাত হাসপাতালগুলো দালাল চক্রের মাধ্যমে ফাঁদ পেতেছে। উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে সেসব হাসপাতালে দীর্ঘদিন আটকে রেখে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে। অখ্যাত হাসপাতালে রোগী আনার নামে আগেই শুরু হয় দামাদামি। লাখ টাকার রোগী আনতে পারলে দালালদের ২০ হাজার টাকা বা আসন্ন ঈদে কোরবানির গরু দেয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলার দালালদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স দালাল চক্রেরও যোগসাজশ রয়েছে।

লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, করোনা মহামারির সুযোগে এক শ্রেণির দালাল চক্র রাজধানীর কিছু অখ্যাত হাসপাতালের যোগসাজশে সরকারি হাসপাতাল ও জেলার হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসে। এই চক্রের মোটা অংকের কমিশনের লেনদেনে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন অসহায় রোগীরা। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা কমিশনের বিনিময়ে উচ্চ ভাড়ায় ঢাকার বাইরের রোগীদের নির্ধারিত সেসব হাসপাতালে নিয়ে আসে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে আটক করা হয় জানিয়ে র‌্যাব-২ এর সিও বলেন, চক্রটি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসার পর রোগীদের অনর্থক আইসিইউ-সিসিউতে রেখে কিংবা অযথা বিভিন্ন টেস্টের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মামুন খুলনা অঞ্চলের বহুল আলোচিত সস্ত্রাসী এরশাদ সিকদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এরশাদ সিকদারের ফাঁসির পর মামুন ঢাকায় এসে নানা ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে করোনা মহামারির সুযোগে হাসপাতালকেন্দ্রিক এই দালালি শুরু করেন। এছাড়া জাল টাকা-মাদক ব্যবসাসহ অন্য প্রতারণা চালাচ্ছিলেন তিনি। মামুন প্রতারণার মাধ্যমে ২৭টি বিয়ে করে যৌতুক ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেন। মূলত বিভিন্ন হাসপাতালের নারী স্টাফ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ রোগীর স্বজনদের তিনি এই ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের একটি মামলা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত