প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু: গণটিকা কর্মসূচি: গ্রামকে টার্গেট করুন

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু: নতুন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই টিকার প্রধান টার্গেট হওয়া উচিত গ্রাম, গ্রামের মানুষ, গ্রামের কৃষক। সবাই জানেন, করোনা এবার গ্রামে হানা দিয়েছে। চলতি সময়ে ব্যাপক সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার গ্রামের মানুষেরই বেশি। দয়া করে গ্রামের মানুষকে টার্গেট করুন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকার আওতায় আনুন। গ্রাম আক্রান্ত হওয়া মানে কৃষক আক্রান্ত হওয়া, কৃষক আক্রান্ত হওয়ার অর্থ কৃষিখাত বিপন্ন হওয়া। কৃষিখাত বিপন্ন হলে কেবল রেমিটেন্স আর গার্মেন্টসেক্টর দিয়ে দেশের মানুষকে, আর দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানো যাবে না। টিকার অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে গ্রামকে কেন টার্গেট করতে বলছি, সেটা বলি…শহরের মানুষ তাও টুকটাক স্বাস্থ্যবিধি মানে, বাইরে গেলে মাস্কটা পরার কথা ভাবে, অনেকে পরেন। মুখে না পরলেও থুতনীতে মাস্ক ঝুলে এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। কিন্তু গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রামের যে পরিবারে চাকুরে, ব্যবসায়ী আর স্কুল কলেজ পড়ুয়া মানুষ আছে সে বাড়িতে দুচারটি মাস্ক আছে। কিন্তু যেসব পরিবারে তা নেই, সেসব পরিবারে মাস্কও নেই। স্যানিটাইজার কী তারা চেনেও না, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া তাদের কাছে বিলাসিতা। ‘গ্রামের মানুষের করোনা হয় না, করোনা বড়লোকদের রোগ’ এমন আত্মঘাতি মন্ত্র তাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে কিছু শহুরে মানুষ, মিডিয়ার কিছু টকশোপণ্ডিত। আর কিছু কাঠমোল্লা করোনারে ভয়ের কিছু নেই, আল্লাহই সব দেখবেন বলে প্রভাবিত করেছেন । কিন্তু তারা বলেনি আল্লাহপাক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন। আমাদের প্রিয় নবী মহামারি সম্পর্কে কী কী বলেছিলেন তারা গ্রামের মানুষদের তাও বলেননি।

গ্রামের করোনায় বিপজ্জনক আরও একটি দিক আছে। সেটি হলো গ্রামের কৃষক পরিবারের অধিকাংশ তরুণ স্কুল, কলেজে পড়ে। তারা কৃষির সঙ্গে নিবির সম্পর্ক রাখতে পারে না, চায়ও না। প্রকৃত অর্থে কৃষির মূল হালটা ধরে আছেন, ৪০ থেকে ৫৫/৬০ বছর বয়েসী মানুষেরাই। এই বয়ষ্ক মানুষদের করোনায় মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি। খোদা সেটা না করুন কামনা করেও বলছি, করোনা যদি গ্রামাঞ্চলে মহামারির রূপ নেয় তাহলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। ভয়ানক বিষয়টা হচ্ছে, করোনা আক্রান্ত হয়ে এই দক্ষ সিনিয়র কৃষককূল একের পর এক মরতে থাকলে এদেশের কৃষির বারোটা বাজবে। বয়োজ্যেষ্ঠ দক্ষ কৃষকের এই গ্যাপ পূরণ করাটা খুবই কঠিন হবে, কারন শহরের ভাত পেটে পরা তরুণরা আর গ্রামে ফিরে যাবে না। নিশ্চিত ভাবে আগামীর বাংলাদেশ খাদ্য নিয়ে ভিন্ন সংকট মোকাবেলা করবে। বয়োজ্যেষ্ঠ দক্ষ কৃষকের সংকট হলে আলু ৬০/৮০, পেঁয়াজ (এটা রূপক মূল্য) ১০০/১৫০, কাঁচা মরিচ ১০০/২০০ টাকা হয়ে যেতে পারে! আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, করোনা এখন শহরের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ধরে আঘাত হেনেছে। এই আঘাত দেশে খাদ্য সংকট নামিয়ে আনবেই। অনেকেই এই বিষয়টাকে এখন পাত্তা দেবেন না, কিন্তু যখন পাত্তা দিতে চাইবেন তখন হাতের সময় কমে যাবে। সরকারের উচিত দ্রুত গ্রাম পর্যায়ে কৃষকের স্বাস্থ্য ও প্রাণদের করোনা থেকে রক্ষা করার বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা। এই উদ্যোগ অনেক আগেই গ্রহণ করা উচিত ছিলো, কিন্তু কেউ এটা মুখ্য বলে মনে করছে না। সবাই আছে শহর কেন্দ্রিক ভাবনা নিয়ে। আগাম বলে রাখলাম ‘দুর্ভিক্ষ’ চলে আসলেও আসতে পারে। করোনা মহামারির রূপ নিলে কৃষিখাত অভিজ্ঞ কৃষক হারাবে। এমনও হতে পারে পতিত পরে থাকবে ফসলী জমি। প্রকট সংকট দেখা দেবে চাল, ডাল, আলু, মরিচ, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহে। এমন অবস্থায় কেবল টিকাই পারে তাদের রক্ষা করতে। কারণ তারা সময়মত টেস্ট করাবে না, সেই সুযোগও হাতের কাছে নেই। তারা জ্বর কাশিকে প্রথমে আমলে নেবে না কিন্তু যখন আমলে নেবে তখন বড়জোর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স পর্যন্ত যেতে,এর বাইরে না। আমরা যেনো ভুলে বসে না থাকি রেমিটেন্স আর গার্মেন্টখাতেরর ভিত্তি পরদেশ নির্ভর। যে কোনো সময় এ দুটিখাতে ধ্বস নামতে পারে। পরদেশ,ভিনদেশের শ্রমবাজার, গার্মেন্টবাজারের ধ্বস ঠেকানোর কণামাত্র ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত