প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা ও বন্যায় ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে : ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

আমিরুল ইসলাম : এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ও আতঙ্কের কারণ হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। গত বছর করোনা আমাদের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে ছুঁতে পারেনি। ফলে গত বছর আমাদের ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি, বিশেষ করে কোরবানির ঈদের অর্থনীতি এতোটা ব্যাহত হয়নি। মানুষজন স্বাভাবিক চলাচল করতে না পারায় কিছুটা ব্যাহত হয়েছিলো। এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এখন আমন ধান চাষের বা রোপণের সময়। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সারা বছর ধরে যারা গবাদিপশু পালন করেছেন, এই খাতে বিনিয়োগ করেছেন, করোনা ও বন্যার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্রেতারাও করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যে সমস্ত পাইকাররা গরু কিনে শহরে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসেন, তাদেরও ক্রয় করার আগ্রহ কমে যাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায়। করোনায় যারা সংক্রমিত হচ্ছেন তারা নানান কারণে অর্থনৈতিকভাবে মৃত হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সংক্রমণের গতির দিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে রোগীরা নিজে যেমন অর্থনৈতিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি এটা সরাসরি আমাদের কৃষি অর্থনীতির ওপর প্রভাব পরবে। যেমন; ধান চাষের সময় কৃষক যদি ধান চাষ না করতে পারে তাহলে তার সারাবছরের খাদ্যের যোগান হবে না। কৃষক গরু বিক্রি করতে না পারলে তার বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে একটি আশংকাজনক, হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পাবার তিনিটা পথ আছে। [১] কষ্ট করে হলেও লকডাউন মেনে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার জন্য সকলের চেষ্টা করতে হবে। [২] সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ করোনা আক্রান্ত হলে যেন তার চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। [৩] বন্যা কবলিত এলাকার কৃষিকাজ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন; যেসব এলাকায় বন্যা হয় না, সেসব এলাকায় বীজতলা তৈরি করা, কচুরিপানার ওপরে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা। হাওর এলাকায় বৃষ্টির পানি ঠেকানোর জন্য বাঁধ ব্যবস্থার কী খবর, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে সেটি আমরা ভালো করে প্রয়োগ করতে পারিনি। উপক‚লীয় অঞ্চলে আগে থেকে সতর্ক করা এবং আশ্রকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন ঘুর্ণিঝড়ে খুব বেশি মানুষ মারা যায় না। কিন্তু ফসলের ক্ষেতে লোনাপানির এসে আমাদের ফসল নষ্ট করে দিয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। বেড়িবাঁধ থাকলে মানুষ প্রটেকশন পেতো। এসব এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বললেন, গবাদিপশু উৎপাদনে আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। ভারত থেকে গরু না আসলেও আমাদের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু এ বছর করোনা ও বন্যার কারণে বিপণনের সমস্যা হবে। করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এসব কারণে সরাসরি গরুর হাট করতে গেলে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থেকেই যায়। অনলাইনে গরুর হাট করা যেতে পারে। কিন্তু অনলাইনে গরুর হাট করতে গেলেও গরুটা তো আসতে হবে। গরুর হাট করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য সরকার এখন কঠোর লকডাউন দিয়েছে যেন সামনে হাট করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। করোনা সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতি প্রায় পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত