শিরোনাম
◈ আম্বানির চিড়িয়াখানা ভানতারায় গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুর আছে কি না নিশ্চিত নয় সিআইডি! ◈ শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু-পেঁয়াজ, রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাইয়ে যাবে প্রতিনিধি দল ◈ কাপ্তাই লেকের পানি উচ্চতা বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট ◈ দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা ◈ এআই বিনিয়োগে বাড়ছে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও চাঙা বৈশ্বিক বাণিজ্য ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়ম, চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব! ◈ আমেরিকানদের ৫০০০ ডলার করে দেওয়ার ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি কি আতঙ্কের লক্ষণ? ◈ রাতারাতি ধনী হওয়ার লোভে একের পর এক ঝরছে প্রাণ ◈ বড় ব‌্যবধা‌নে সাবাহকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেডের ◈ শক্তিশালী দল নিয়ে কলকাতায় আসছে ব্রা‌জিল, স্কোয়াড ঘোষণা

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২১, ১২:৪৫ দুপুর
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২১, ০১:১১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাস্থ্য বিধি মেনে বগুড়ায় গাছে চড়ে শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ: অনলাইন প্লাটফর্ম জুমে মৌখিক পরীক্ষা নিতে গিয়ে নেটওয়ার্ক দুরাবস্থায় শিক্ষার্থীদের অবস্থা এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো—

‘গতকাল বগুড়া সরকারি শাহসুলতান কলেজে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে) চতুর্থ বর্ষ অনার্স বাংলা বিষয়ের মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছিলাম জুম প্লাটফর্মে। পরীক্ষা চলাকালিন হঠাৎ লক্ষ করি এক শিক্ষার্থী গাছে চড়ে ভাইভা দিচ্ছে! বোর্ডের সকলের দৃষ্টি তখন তার দিকে। বোর্ডের অন্য সদস্যদের মতো আমিও তখন শঙ্কিত! শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করলাম- তুমি গাছে ওঠেছো কেন? সে বললো, স্যার আমার গ্রামে ঠিকমতো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না! পরীক্ষা যদি মিছ যায়! তাই বাধ্য হয়ে গাছে চড়েছি! সকালে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। গাছ ভেজা ছিল। যে কোনো সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো! সবাই মিলে দ্রুত ওকে গাছ থেকে নামালাম। ওর কথা যে মিথ্যে নয় আরও কয়েকজনের ভাইভা নিতে গিয়ে তার প্রমাণ পাওয়া গেল।

কেউ বাড়ির বাইরে খড়ের গাদায়, কেউ মাচাংয়ে বা ফাঁকা মাঠে, কেউ বা বাঁশ ঝাড় ও উঁচু ঢিবির ওপর দাঁড়িয়ে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের চেষ্টা করেছে। ওদের কথা আমরা শুনি তো ওরা আমাদের কথা শুনতে পায় না! যেটুকু পাওয়া যায় সেটাও ভাওয়াইয়া গানের সুরের মতো ভাঙা ভাঙা! আমাদের গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ও গতি কেমন আমরা সবাই জানি।

আমরা ৫জি’র স্বপ্ন দেখছি, কিন্তু ৪জি’র সেবাই ঠিকমতো দিতে পারিনি! আমাদের ৬০/৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করে। কেউ পার্টটাইম চাকরি করে, কেউ টিউশনি, কেউ বা গার্মেন্টসে শ্রম দেয়! অনার্সে ভর্তি হয় শত শত শিক্ষার্থী। কিন্তু ক্লাসে আসে হাতে গোনা কয়েকজন! এদের আমরা না দিতে পারছি ঠিকমতো পাঠ, না পারছি জীবনের শিক্ষা দিতে! আর দক্ষ মানবসম্পদ সে এক অধরা স্বপ্ন! আমাদের শিক্ষার্থী আমাদের শিখিয়ে গেল, গাছে শুধু সে একা ওঠেনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও উঠেছে!’

এই স্ট্যাটাস বিষয়ে সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসেন জানান, ছেলেটি নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রত্যন্ত কোন গ্রামের হবে। সত্যি কথা বলতে আমাদের ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক এখনও গ্রামাঞ্চলে সেভাবে কাজ করে না। আর ওই ছেলেটার গ্রামের ওদিকে সম্ভবত টাওয়ার ছিল না যার জন্য নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণেই সে গাছে উঠেছিল যাতে করে পরীক্ষায় নির্বিঘ্ন হয়। এরকম ভাইভা নিতে গিয়ে খুব মনোকষ্ট পেয়েছি। যার জন্য ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দেয়া। সূত্র: রাইজিংবিডি

  • সর্বশেষ