প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরোজ আহমেদ: রাতারাতি কীভাবে কোভিড আইসিইউ বানায়?

ফিরোজ আহমেদ: রাতারাতি কীভাবে কোভিড আইসিইউ বানায়? নিয়মিত খবরে দেখবেন, রাজশাহীতে কিংবা খুলনায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, আইসিইউতে রোগীকে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। ওদিকে কর্তারা আশ^াস দিচ্ছেন, কাল-পরশুর মাঝে তৈরি হবে আইসিউইউ। আইসিইউ মানে কিন্তু শুধু কতোগুলো যন্ত্রপাতি না। আইসিইউ মানে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, যাদের কতোগুলো বিশেষ ধরনের চিকিৎসা ও ওষুধপত্র বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান থাকতে হবে। প্রয়োজন পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স। তাদের প্রত্যেককে হতে হবে দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এবং শেষপর্যন্ত, যন্ত্রপাতিও। শুধু অক্সিজেনের সরবরাহ হলেই চলবে না, জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয বহু যন্ত্রপাতি। কাজেই রাতারাতি যখন এক একটা হাসপাতাল বানিয়ে ফেলছে, কিংবা আশ্বাস দিচ্ছে, তখন নিছক চিকিৎসার বাইরে একটা বাড়তি বিষয় বুঝতে পারি।

সেটা হলো, চিকিৎসার বন্দোবস্ত নিয়ে কথা বলবেন, এমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংখ্যা, কিংবা আরও ভয়াবহ হবে সুযোগ বাস্তবে আসলে কমে গেছে দেশে। না হলে এই যে রাতারাতি আইসিইউ বানাবার আশ্বাস ইত্যাদি দেন মন্ত্রী কিংবা সচিবরা, চিকিৎসকের পেশাজীবীদের সংগঠনগুলোর তো কর্তব্য এদের জন্য একটা কর্মশালার আয়োজন করা: আইসিইউ কী, কতো প্রকার, কেন এটা নিছক যন্ত্রপাতি না, কেন শুধু দক্ষ চিকিৎসক আর নার্স দিয়েও আইসিইউ সামলানো যাবে না যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত না থাকলে, কেন এই ভয়াবহ মহামারীর সময়েও এই প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য অগ্রগতিতে আমরা সামান্যই এগিয়েছি এবং এই সার্বিক পরিকল্পনা দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বে না থাকলে একদমই সম্ভব না। সুদক্ষ আমলা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যবিদ, পরিকল্পনাবিদ প্রত্যেকের কাজের বিশেষত্ব আছে, সুনির্দিষ্ট পরিসর আছে। আমলাতন্ত্র পুরোটা কব্জা করে রাখলে দুর্নীতির কারণেই শুধু প্রাণ হারাবে না, অপরিকল্পনা এবং নির্বুদ্ধিতার কারণেও প্রাণ নষ্ট হতে থাকবে।

চিকিৎসা মানে শুধু যন্ত্রপাতি কেনার বিষয় হলে স্বাস্থ্যের আমলাদের মাঝে কেউ দুর্নীতিপরায়ন থাকলে তারা আরেকদফা বিশেষ খুশি হবেন। বুঝতেই পারছেন কেন। কেনাকাটা মানেই জনগণের পকেট কাটা। চিকিৎসক ও নার্সদের অপ্রতুল সংখ্যা, ওষুধপাতির অভাব এসবের কী হবে? দেখনদারিতেই এই শাসকদের আসলে চলবে। এই পুরো দেড় বছর ধরে করোনার মহামারীর সময়েও আমরা সেই রকম কোন প্রস্তুতি নিতে পারিনি এই কথাটা বলার খারাপ দিকটা হলো, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তো এটা বিশাল আন্দোলনের বিষয় হবার কথা। কেননা পৃথিবীর মাঝে মাথা পিছু নার্সদের সংখ্যা, চিকিৎসকদের সংখ্যা আমাদের দেশে একদম নিচের সারিতে। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন পুরো পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়নের সর্বময় কর্তৃত্বে থাকা আমলাতন্ত্রকে ছাড়া?

দেশটা কব্জায় আছে আমলাতন্ত্রের, এবং ক্রমশঃ এটা আরও সর্বব্যাপী হচ্ছে। ঘোর দুর্বিপাক না নেমে আসুক, সেই কামনা করা ছাড়া আর কি করার আছে আপাতত! সাথে আপনাকেও বলি, এই যে রাজশাহীতে আইসিউইউ নাই, বরিশালে আইসিউউ নাই, খুলনায় আইসিইউ নাই, নাই সিলেটে, এসব নিয়ে নাগরিক হিসেবে আপনি ভাববেন না? কেন রোগ হলে আপনাকে ঢাকাতেই নিয়ে আসতে হবে এমন একটা বন্দোবস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করে রেখেছে, আর তাতেই আপনি খুশী থাকবেন? ভালোগুলোতে জায়গা না হলে স্থান করে নেবেন নামসর্বস্ব হাসপাতালের ভাঙাচোরা আইসিউইউতে? বিভাগীয় শহর নয়, জেল শহরগুলোতেই তো পর্যাপ্ত আইসিইউ থাকাটা আমাদের অধিকার ছিল। লেখক : রাজনীতিবিদ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত