প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সালেহ বিপ্লব : আসুন নীরবতা ভাঙি, ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা করি আমাদের কন্যা-জায়া-জননীকে

সালেহ বিপ্লব : [২] ধন্যবাদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনাব আনছার আলীকে। খুব ভালো একজন মানুষ, আক্ষরিক অর্থেই কাজের লোক। শুধু যে কাজ করেন, তাই না, বোঝেনও বেশ। তিনি আমার সুপারিশটা নিয়েছেন।

[৩] সোমবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) নারী উন্নয়ন ইস্যুতে পরিকল্পনা সেমিনারে আমার সুপারিশ ছিলো, ব্রেস্ট ক্যান্সারকে ফোকাসে আনতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী এই ক্যান্সার দিনে দিনে বাড়ছে। অথচ শুধু সচেতন থাকলে একজন নারী এবং খুব সামান্য সংখ্যক পুরুষ এই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

[৪] নীরবতা ভাঙতে হবে, কথা বলতে হবে, কথা শুনতে হবে।

[৫] একজন পুরুষ সরাসরি চার জন নারীর সঙ্গে যুক্ত। মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা। এই সম্পর্কের মধ্যে কোনো সংকোচ রাখা যাবে না। এই চার নারীর প্রত্যেককে জানাতে হবে, প্রতি মাসে অন্তত একবার স্তন চেক করতে হবে। কোথাও কিছু দানা বেঁধেছে কিনা, ক্ষুদ্র কোনো অংশ একটু শক্ত হয়ে গেছে কিনা। শুধু এই পরীক্ষা। আর সঙ্গে খাদ্য ও জীবনাচরণের সামান্য নিয়ম, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়।

[৬] এখন আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা এবং সংসারের আর মেয়েদের কানে এই মেসেজ পৌঁছে দেওয়ার কাজটা কে কীভাবে করবেন জানি না, তবে করতেই হবে। এখানে কথা বলতে হবে সবাইকে, মায়েদের জীবন ঝুঁকিহীন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমি জরায়ুমুখ ক্যান্সারকেও সরকারের প্রচার প্রকাশনায় এজেন্ডা হিসেবে যুক্ত করার সুপারিশ করেছি।

[৭] প্রিয় আনছার ভাই বলেছেন, ইস্যুটা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাবলিসিটি অ্যান্ড পাবলিকেশনের এজেন্ডায় আছে। তবে আমি যেভাবে বলেছি, অতো ডিটেইলসে কাজ হয়নি এখনো। আমার সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পরিকল্পনা সেমিনারের প্রধান অতিথি, শিশু ও নারী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক জনাব আনছার আলী।

[৮] ইউনিসেফের সহযোগিতায় ১৯৯৬ সাল থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পিআইবি। আগুনঝরা দিনের তুখোড় ছাত্রনেতা, আনপ্যারালাল কবি, রিপোর্টার এবং সাংবাদিক নেতা জাফর ওয়াজেদ ভাই পিআইবির মহাপরিচালক। তার স্নেহভাজন হতে পেরে আমি গর্বিত সেই এরশাদ আমল থেকে।

[৯] জাফর ভাইকে ধন্যবাদ একই অনুষ্ঠানে আমার প্রথম রিপোর্টিং বস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ভাইকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। সাবেক দুই চিফ রিপোর্টারকে একসঙ্গে পেয়েছিলাম, সে অনেক বছর পর। যুগ্ম সচিব আনছার ভাইর সঙ্গেও সামনাসামনি হলাম অনেক দিন পর। অনেক বছর পর পেলাম আফরাজ ভাইকে, তিনি এখন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন)। সেই অনেক বছর আগে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা ছিলেন, তখন দেখা হতো। সম্ভবত ওয়ান ইলেভেন আমলে।

[১০] সহকারি সম্পাদক মিজান ভাই, আমার প্রথম জীবনের সহকর্মী। তিনি এখনো সহকারি সম্পাদক পদে আছেন, সেই ছোট্ট রুমটায় বসেন, ডিজির পাশেই রুমটা। তার সঙ্গে দেখা সেও বছর পাঁচেক আগে, এখনো তিনি সহকারি সম্পাদক কেনো, প্রশ্নটা করেই ফেললাম। তিনি হাসলেন। বললেন না তেমন কিছুই। সেমিনার শুরু হয়ে যাবে, তাড়া ছিলো, কথা আর আগে বাড়লো না।

[১১] সেমিনার শেষে মূল ভবনের পাশের ভবনটির দোতলায় সেই বিখ্যাত পিআইবি ক্যান্টিনে ঘরোয়া রান্নায় উদরপূর্তি। দু’দফায় চায়ের আড্ডা সদা কর্মব্যস্ত জাফর ভাইর রুমে। জানলাম পিআইবির অগ্রগতি ও পরিকল্পনা নিয়ে।

[১২] পিআইবির অগ্রগতি এখন চোখেই দেখা যায়। শাহ আলমগীর ভাই ডিজি থাকা অবস্থায় পিআইবিতে গুণগত পরিবর্তনের এই ধারা শুরু হয়েছিলো। আলমগীর ভাইও স্বপ্নবান নেতা ছিলেন, কাজপাগল মানুষ ছিলেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুন। তার উন্নয়নের ধারাটাকে শক্তিশালী করেছেন জাফর ভাই, পিআইবিকে নিয়ে গেছেন একদম সবুজ গ্রাম অবধি। সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়নের এই অনন্য সংস্থাটির মহাপরিচালক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

[১৩] ট্রাস্ট ভালো কাজ করছে এবং আরও ভালো পারফর্ম্যান্স নিশ্চিত করার বিষয়টিও দেখছে গুরুত্বের সঙ্গে। ২০১৪ সালে গঠিত এই ট্রাস্টের অর্গানোগ্রাম করতে অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে, জাফর ভাই ডিজি হওয়ার পর অর্গানোগ্রাম তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন, পাস হয়ে এলেই ট্রাস্ট্রের কর্মকাণ্ড আরও জোরদার হবে, এটা আমরা আশা করতেই পারি। [১৪] সহকারি সম্পাদক মিজান ভাই মুখে না বললেও আমার মনে হলো পিআইবিতেও বোধ অর্গানোগ্রাম বা আইনে কোনো জটিলতা আছে। ২০ বছর একই পদে কেমন থাকেন একজন কর্মকর্তা, আমার বুঝে আসছে না। ইনফ্যাক্ট সব কিছু বুঝে আসার দরকারই বা কী? [১৫] যারা দীর্ঘ লেখাটা পড়েছেন, আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাবো আপনাদের প্রতি। [১৬] আসুন নীরবতা ভাঙি। ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে রক্ষা করি আমাদের কন্যা-জায়া-জননীকে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত