প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুঠিয়ায় গত ৫ মাসে শতাধিক নারী ও কিশোরী নিখোঁজ

আবু হাসাদ: [২] রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় সাড়ে ৫ মাসে শতাধিক নারী ও কিশোরী নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। তবে হাতে গোনা দুই-তিনটি বাদে সকলকেই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধারকৃতরা জানিয়েছেন প্রেম ঘটিত ও পরকিয়ার কারণে গোপনে তারা পালিয়ে যায়।

[৩] তবে এ সকল ঘটনায় ওই পরিবারের লোকজন এলাকায় সম্মানহীন আশঙ্কায় থাকেন। যার কারণে তারা থানায় নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগ দিচ্ছেন।

[৪] উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খ.ম নাসির উদ্দীন উইলিয়াম বলেন, কথিত প্রেমের টানে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীরা বেশি ঝুঁকছে। তারা অতি আবেগের বশে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি কিশোর-কিশোরীদের পরিবারকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

[৫] তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকদের তথ্য মতে গত ৬ মাসে অর্ধশতাধিক কিশোরী অজানার পথে পা বাড়িয়েছে। কিছু পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে পারলেও অধিকাংশরা এখনো অধরা।

[৬] পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়াদী হোসেন বলেন, অধিকাংশ নারী ও কিশোরীরা পরকীয়া বা প্রেম ঘটিত কারণে ঘর ছাড়ছেন। গত ৫ মাসে ৮০ টির মতো কিশোরী নারী নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগ পেয়েছি। চলতি জুন মাসের গত ৬ দিনে ৬টি অভিযোগ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়ষের সংখ্যা বেশি। তবে কিশোরীদের চেয়ে গৃহবধূর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।

[৭] তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগ করলেও তার বাস্তবতা থাকে ভিন্ন। চলতি বছর পুঠিয়া থানার মধ্যে যতগুলো অভিযোগ হয়েছে তার মধ্যে দু’জন বাদে সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পরিবারগুলো থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করলেও বেশির ভাগ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা স্বীকার করছেন সেচ্ছায় ঘর ছেড়েছে।

[৮] পুঠিয়া উপজেলার অধীনে মেট্রোপলিটনের বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, বেলপুকুর ইউপি এলাকায় নিয়ে গঠিত। এখানে গত প্রায় ৬ মাসে আনুমানিক ১০-১২টি নারী ও কিশোরী অপহরণ বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা নিখোঁজ সকলকেই উদ্ধার করতে পেরেছি। তিনি বলেন, অভিযোগ যাই হোক আমাদের প্রাথমিক দ্বায়িত্ব ভিকটিমকে উদ্ধার করা। তবে বেশির ভাগ ঘটনা প্রেম ঘটিত।

[৯] এ বিষেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, উপজেলায় নারী ও কিশোরীদের ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটছে। তবে এ সকল ঘটনায় বেশির ভাগ ভুক্তভোগীর পরিবার লোক-লজ্জায় আইনের আশ্রয়ে যায় না। আবার অনেকই গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা করছেন। এদের মধ্যে দু-চারটি পরিবার থানা পুলিশের আশ্রয় নিচ্ছেন।

[১০তবে ওই পরিবারগুলো থানায় বা গ্রাম্য শালিসে অপহরণের অভিযোগ করলেও বেশির ভাগ তদন্তে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়। তবে উদ্ধারকৃতরা কেউ প্রকাশ্য সেচ্ছায় ঘর ছাড়ার কথা স্বীকার করে। আবার অনেক নারী ও কিশোরীরা পারিবারিক চাপের কারণে অপহরণের মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়।

সম্পাদনা : মারুফ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত