প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এম আবুল হাসনাত মিল্টন: করোনার ভ্যাকসিন কোথায় পাবেন!

এম আবুল হাসনাত মিল্টন : [১] যে দামে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনার ভ্যাকসিন কেনা হয়েছিলো, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশ থেকেই এতো কম দামে সেই অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিন আর কেনা যাবে না। তবু যারা অ্যাস্ট্রাজেনিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য হয়তো আমেরিকা বা ইউরোপের কোনো দেশ থেকে অনেক বেশি দামে এই টিকাটি আনতে হবে। [২] চীন থেকে সিনোফার্মের ভ্যাকসিনের প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা এমাসের মধ্যেই আসার কথা থাকলেও এটা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ মাসে তা আসবে কি না কে জানে?

[৩] গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে চীনের আরেকটি ভ্যাকসিন সিনোভ্যাকের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদনের আগেই যারা সিনোভ্যাক কেনার চুক্তি করেছিলো, স্বভাবতই তারা কম দামে কিনতে পেরেছে। বাংলাদেশের উচিত ছিলো, আগেই সিনোভ্যাক উৎপাদনকারী কোম্পানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকার বেশ কয়েকজনকে সিনোভ্যাকের সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করতে বলেছিলাম। আমি জানতাম, সিনোভ্যাক খুব দ্রুতই অনুমোদন পাবে। কেউ এটা নিয়ে ভেবেছে বলে মনে হলো না।

[৪] বাংলাদেশে ফাইজারের ভ্যাকসিন এসেছে এবং ভবিষ্যতে আরো আসবে। ফাইজারের ভ্যাকসিন অনুমোদন দিতে সরকার কমপক্ষে পাঁচ মাস দেড়ি করেছে। সময় মতো ফাইজারের টিকা এলে আরো কিছু লোক এতোদিনে টিকা পেয়ে যেতো। [৫] রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক ভি খুবই ভালো মানের টিকা। পত্রিকায় দেখেছিলাম স্পুটনিক ফাইভ টিকাটি বাংলাদেশে আসবে। এই স্পুটনিক ফাইভ আমদানী নিয়েও অনেক জল ঘোলা করা হয়েছে।

প্রচলিত দরের চেয়ে দ্বিগুন দামে ভ্যাকসিন আমদানির একটি উদ্যোগ সরকারি তৎপরতায় বন্ধ হয়েছে। ডাবল ডোজের স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিনের পাশাপাশি রাশিয়া স্পুটনিক লাইট নামেও আরেকটা সিঙ্গেল ডোজের ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, যার কার্যকারিতা প্রায় ৭০ শতাংশ। বাংলাদেশের উচিত এই দুই ধরণের ভ্যাকসিনই বাংলাদেশে আমদানি করা। [৬] শুরুতে করোনার ভ্যাকসিন আমদানি নিয়ে একটি মাত্র উৎসের ওপর নির্ভরতা যথাযথ ছিলো না। এটা নিয়ে বারবার সতর্ক করবার পরেও সরকার ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে হয় নি।

[৭] পুরো ভ্যাকিসিন নিয়েই একটা লুকোচুরি ভাব লক্ষ্যনীয়। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেখানে একটা চুক্তিপত্র ঠিকমতো লিখতে পারে না, সেখানে প্রথম থেকেই একাধিক বেসরকারি ফার্মাসিউটিকালস/প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাকসিন আমদানিতে সম্পৃক্ত করা যেতো। [৮] বিশ্বব্যাপী করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বিশাল বানিজ্য চলছে। অনেক দেশের ব্যবসায়ীরা ভ্যাকসিন উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছে।

তাই, শুধুমাত্র দুই সরকারের যোগাযোগেই যে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, ব্যাপারটা মনে হয় না এতো সহজ। এখানে রপ্তানি ও আমদানিকারক দুই দেশেই দুটি প্রতিষ্ঠান এজেন্ট হিসেবে কাজ করলে পুরো প্রক্রিয়াটা সহজতর হয়। [৯] বর্তমান করোনার বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশে এই টিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার দরকার ছিলো। তার ফলে দ্রুততার সঙ্গে বিশ্ববাসীকে টিকার আওতায় আনা যেতো। কিন্তু অধিক মুনাফার লোভে টিকা উৎপাদনকারী ওষুধ কোম্পানীগুলো টিকা উৎপাদনকে নিজেদের মধ্যে কুক্ষিগত করে রেখেছে। মানুষের জীবনের চেয়ে তাদের কাছে অধিক মুনাফাই মূখ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোও তাদের মানবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ।

[১০] বাংলাদেশের স্পুটনিক ভি কিংবা লাইট এবং সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন লাগলে আমরা সাহায্য করতে পারি।  এর জন্য আমাদের কোনো কমিশন দেওয়া লাগবে না। দেশের পক্ষে একটি / দুটি প্রতিষ্ঠান ঠিক করে দিন, কী করতে হবে তখন বলে দেবো। করোনার ভ্যাকসিন আনা নিয়ে দেশে যা হচ্ছে, তা দেখে কষ্টই লাগছে। [১১] স্বাস্থ্য বিধি মেনে আর ভ্যাকসিন নিয়ে ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছে, আমাদের একাংশ তখন ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ভয়ে আর টিকার অভাবে দিশেহারা। [১২] ভ্যাকসিন আমদানির ব্যাপারে কালক্ষেপন বন্ধ করে সঠিক ব্যবস্থা নিন। করোনা মোকাবেলায় এ যাবত অর্জিত সরকারের সাফল্যকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। স্বাস্থ্য বিধি মানুন। সময়-সুযোগমত করোনার টিকা নিন। চিয়ার্স!

ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত