প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছয় দফা ও স্বাধীনতার মধ্যে সম্পর্ক অতল গভীর: ড. আতিউর রহমান

আমিরুল ইসলাম: ছয় দফা ছিলো আমাদের স্বাধীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা মাইলস্টোন। বঙ্গবন্ধু রাজনীতি শুরু করবার সময় থেকেই আঞ্চলিক বৈষম্য নিয়ে খুবই উদ্বিঘ্ন ছিলেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈষম্য নিয়ে তিনি খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন। সেই বৈষম্যটাকে সামনে এনেই তিনি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে সুষম করবার জন্য ছয় দফা আনলেন। কিন্তু আসলে তার মাথায় ছিলো একদফা। ছয়দফাকে তিনি সামনে এনেছিলেন কিন্তু তার পেছনে ছিলো একদফা। তিনি বলেছিলেন, আমরা ধীরে ধীরে মানুষের মানসিকতা এমনভাবে গড়ে তুলবো যে শেষ পর্যন্ত তারা স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর আরও বলেন, ছয়দফার মধ্যে যে সমস্ত পয়েন্টগুলো তিনি এনেছিলেন, এগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশকে স্বাধীনতা না দিয়ে সম্ভব ছিলো না। সেজন্য শত্রুরা ঠিকই বুঝে ফেলেছিলো এর মাধ্যমে আসলে একদফার দিকেই যাচ্ছে, ছয় দফার নাম করে। সেজন্য তাকে জেলে নিয়েছিলেন, শুধু তাই না, তাকে মেরেও ফেলতে চেয়েছিলেন এই ছয় দফার কারণে। শেষপর্যন্ত এই ছয় দফার ভিত্তিতেই নির্বাচন হয়েছে, তিনি বঙ্গবন্ধু হয়েছেন। সেই অর্থে বঙ্গবন্ধু ছয় দফার প্রোডাক্ট। ছয় দফার কারণেই তিনি পুরো জাতির মনের মধ্যে ডুবে গেছেন। ছয় দফাকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তিনি যে আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তি পেলেন, এর মাধ্যমে তিনি সারা বিশ্বের কাছে বলতে পেরেছিলেন।

যখন আমাদের ওপর আক্রমণ করা হলো, সেই আক্রমণে ফাইট করার জন্য যে নৈতিক শক্তিটা ছিলো সেটা ছিলো সত্তরের নির্বাচন। এই নির্বাচনটি ছিলো আবার ছয় দফার ভিত্তিতে। সুতরাং ছয় দফার সঙ্গে স্বাধীনতার একটা সরাসরি সম্পর্ক আছে। আমরা যে বঞ্চিত ছিলাম, শোষিত ছিলাম, এটা ছয়দফার মাধ্যমেই পৃথিবী জানতে পেরেছিলো। যুদ্ধের সময় আরও বুঝতে পেরেছে যে এই অঞ্চলের মানুষ কতোটা বঞ্চিত, কতোটা দুঃখী। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা আবারও বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। তারা তাকে ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সারা পৃথিবী আমাদের পক্ষে ছিলেন- এর একটা বড় কারণ আমরা ’৭০- এর নির্বাচনে জয়ী মানুষ ছিলাম এবং সেই নির্বাচনে আমরা জয় লাভ করেছিলাম ছয় দফার কারণে। সুতরাং ছয় দফা ও স্বাধীনতার মধ্যে সম্পর্ক অতল গভীর।

তিনি বলেন, এই দিবসে আমরা যেমন বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবো। একই সঙ্গে ৭ জুন যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের গভীরভাবে স্মরণ করবো। কারাগারের রোজনামচায় বঙ্গবন্ধু ৮ তারিখে লিখছেন, কতো ছেলেপেলে মারা গেলো, তাদের বাবা-মারা কোথায় আছে? তাদের সন্তানরা কোথায় আছে? কিছুই জানি না। যারা জেলে এসেছেন তাদের জন্য তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। কারাগারের রোজনামচায় তিনি ৮ জুন লিখেছেন, যে জাতি এরকম করে আত্মত্যাগ করতে পারে তাদেরকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সেটা তিনি ৭ মার্চের ভাষণেও বলেছিলেন, ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত