প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মা রোজ কাঁদে টেলিফোনে, ‘তোদের কি আর দেখতে পাব না?’ এমন অনেক মা-ই কাঁদছেন: ঋতুপূর্ণা

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনার কারণে বদলে গেছে বিশ্ব। বিভিন্ন পেশার মানুষকে করোনা যেমন দুর্ভোগে ফেলেছে তেমনই করেছে অসহায়। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রাঙ্গনের পরিচিত মুখ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বিশেষ নিবন্ধন লিখেছেন।

তিনি লিখেছেন, আমাদের জীবনে ছোটবেলায় কত কিছু মূল্যবান ছিল। সেই যে একটা মায়ের রান্না। বাড়িতে একটা কেক আসা। একটা খেলনা পাওয়া। একটা নতুন সাইকেল পাওয়া। প্রথম গাড়ি চড়া, প্রথম বাসে চড়া, প্রথম ট্রামে চড়া। প্রথম কিছু পাওয়ার সেই যে আনন্দ আজ আর কাউকে দিতে পারি না। সবকিছুই আছে সবার কাছে। সবাই সবকিছু জেনে গেছে, সবাই সবকিছু বুঝে গেছে। বাচ্চাদেরকে আজ পাওয়ার আনন্দ দিতে পারি না। প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের জীবনে একটা বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। কিন্তু বস্তুগত দিক এবং মানবিক অনুভূতির দিক, এই দুইয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য আনতে হবে। এর মধ্যেই আমাদের সৃষ্টিশীল থাকতে হবে। গান গাইতে হবে। সিনেমা তৈরি করতে হবে।

নিবন্ধে তিনি আরও লেখেন, এই কোভিড পরিস্থিতি আমাদের একটা কথা শিখিয়েছে যে, জীবনে যা আছে তাকে উপভোগ করতে শেখো। যা নেই, যার জন্য তোমরা দৌঁড়োচ্ছ, সেটা কিন্তু ক্ষণিকের। সেটা পেতেও পারো, না-ও পেতে পারো, কিন্তু যেটা আছে সেটা যদি উপভোগ না করতে পারো তা হলে সেটাও থাকবে না। এইটা আমাদের একটা বড় উপলব্ধি।
ঋতুপূর্ণা বলেন, পরিবেশবিদ, পরিবেশপ্রেমীরা বরাবর বলে আসছেন, প্রকৃতিকে ভালবাসো। কিন্তু সত্যিই কি আমরা আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে ভেবেছি? প্রকৃতিকে আমরা অন্য চোখে দেখেছি। প্রকৃতির মূল্য ভুলেছি। যে প্রকৃতি আমাদের আলো দেয়, বাতাস দেয়। আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় শক্তি দেয়। তাকে আমরা নাই-বা নষ্ট করলাম। তাকে ভালবেসেই আমাদের বাঁচতে হবে।

বিনোদন জগতের মানুষদের চরম দুর্দশার কথা উল্লেখ করে ঋতুপূর্ণা বলেন, বিনোদনের জগৎ আজ নিদারুণ সংকটে। যাদের কিছু সঞ্চয় আছে তারা হয়তো চালিয়ে নিতে পারছে। কিন্তু যাদের নেই? তাদের অবস্থা খুব খারাপ। তাদের জন্য কিছু করা নিশ্চয়ই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমি আমার মতো করে চেষ্টা করছি। অনেকেই করছেন।

ভারত সরকারের করোনা পদক্ষেপ নিয়ে ঋতুপূর্ণা বলেন, আমার মনে হয় যে আমাদের প্রশাসন, সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে, কিন্তু তারপরেও বোধহয় আমাদের কিছু দায়িত্ব থেকে যায়। আমরা কেউ কমিউনিটি কিচেন করেছি। আমরা কেউ টিকার ব্যবস্থা করেছি। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি হয়েছে। সেবামূলক নানা কাজ চলছে। সবই হচ্ছে, আবার এ কথাও ভাবি, মুষ্টিমেয় কয়েকজনের এই চেষ্টায় কতদূর কী হবে, বড় কোনও বদল আসা দরকার। ভাবনার পরিবর্তন আসা দরকার। সব ছাপিয়ে মনে হানা দিচ্ছে এক অমোঘ প্রশ্ন— এটাই কি জীবন? আমাদের এতদিনের চেনা জীবনটা কি একেবারেই শেষ? কিছুই কি নেই বাকি?
সূত্র- আনন্দবাজার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত