প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ত্রীর নামে কানাডায় বাংলাদেশি এমপির বাড়ি নিয়ে রিপোর্ট দেখে মনে হচ্ছিলো কানাডার সিবিসির ‘দ্যা ফিফথ এস্টেট’

শওগাত আলী সাগর,  ফেসবুক থেকে১. চ্যানেল২৪ এর নিউজ এডিটর তুহিন যখন ফোনে বললো তাদের রিপোর্টার ইমরান আমার সাথে কথা বলতে চায়, তখন টরন্টোয় রাত বাড়তে শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও ইমরানের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করি। ঢাকায় রিজেন্ট শাহেদের কেলেংকারি নিয়ে যখন তুমুল হৈ চৈ হয়,তখন আমি এই ‘কীর্তি’র উন্মোচনকারী রিপোর্টারকে খুঁজছিলাম। সাবেক সহকর্মী সুনীতি বিশ্বাসের কাছেই তখন ইমরানের নামটা শুনি। ফোন নম্বরটা সংগ্রহ করতে পারিনি বলে তখন আর তাঁকে ফোন করা হয়ে ওঠেনি।

২.ইমরানের সঙ্গে যখন কথা হয়, সে তখন পুরো কাজটিই গুছিয়ে এনেছে, রাতেই অন এয়ারে যাবে।আমার কাছে তার দু একটি প্রশ্ন ছিলো,সেটুকু সেরে ’সময় করতে পারলে রিপোর্টটা দেখবেন, আশা করি আপনার ভালো লাগবে’- এই টুকু বলে ফোন রেখে দেয় ইমরান। আজ একবার নয় বেশ কয়েকবার ইমরানের ‘জান্নাতী প্যালেস’টা মনোযোগ দিয়েই দেখলাম। টরন্টো থেকে নাটোর- দুটো ক্যানভাসকে তিনি তুলে এনেছেন রিপোর্টে। এমরানের ‘জান্নাতী প্যালেস’দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিলো কানাডার সিবিসির ‘দ্যা ফিফথ এস্টেট’ বোধ হয় বাংলায় প্রচারিত হচ্ছে।

৩.তথ্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে কানাডার অনুসন্ধানী একটি টিমের সহায়তা নেয়া,উপস্থাপিত তথ্যের সমর্থনে সরকারি নথিপত্র হাতে রাখা এবং সেটির যে তাঁর হাতে আছে তার ঈঙ্গিত দিয়ে দেয়া অবশ্যই তার রিপোর্টটিকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছে।সবচেয়ে বড় করে তুলেছে- একজন রিপোর্টারের পরিশ্রম করার মানসিকতাকে।

৪. ইমরানের রিপোর্টটা আমার কাছে – গ্রাউন্ড ব্রেকিং।‘বেগমপাড়া’ শব্দটাকে আমরা প্রতীকী অর্থে ব্যবহার শুরু করেছিলাম, অর্থ পাঁচারকারী, লুটেরাদের প্রতিশব্দ হিসেবে এটি ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে।কিন্তু সত্যি সত্যিই যে ’বেগম’দের কানাডায় রেখে ’সাহেব’রা বাংলাদেশে থাকেন, তার হাতে কলমে কোনো প্রমান কখনোই কেউ কোথাও তুলে ধরেনি। ইমরান সেটিকে প্রমান করে দিলেন। আর কিছু না হোক- এই একটি কারনেই ইমরানের এই রিপোর্টটি বাংলাদেশের অর্থপাঁচারের ইতিহাসে অপরিহার্য উপাদান হয়ে থাকবে।

৫. কেউ কেই হয়তো বলতে পারেন, যে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খবর থাকে মিডিয়ায় সেখানে একজন এমপির কয়েক কোটি টাকার ঘটনা তেমন আর কি! ঢাকার সাহেবদের ‘বেগমদের নামে কানাডায় বাড়ী ঘর করার’ যে কথাগুলো এতোদিন আলোচিত হতো- ইমরানের রিপোর্ট সেটিকে চোখে দেখার মতো প্রমান দিয়ে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বাকি কাজটা সরকারের।জনপ্রতিনিধি, আইন প্রণেতার স্ত্রীর নামে কানাডায় বাড়ী কেনার অর্থের যোগানের খোঁজ করা তো সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পরে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরান, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, ভালো একটি কাজ করার জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত