প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হালদা থেকে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ: রিসার্চ ল্যাব

নিউজ ডেস্ক: প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী থেকে এবার কার্প জাতীয় মাছের কী পরিমাণ ডিম সংগ্রহ হয়েছে তা প্রকাশ করেনি সরকারিভাবে গঠিত কমিটি। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ তাদের জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম এবার সংগ্রহ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে অন্তত চারগুণ কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনাবৃষ্টির কারণে পরিবেশ অনুকূলে না থাকলেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে হালদা নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় মা মাছ ডিম ছেড়ে দেয়। তবে সেই ডিমের পরিমাণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম। জুনে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় বৃষ্টি হলে প্রজনন সক্ষম মা মাছ আরেক দফা ডিম ছাড়বে, এমন আশাবাদ তাদের।

সরকারিভাবে গঠিত ‘হালদা নদীর ডিম ও রেণু গণনা কমিটি’ আছে যারা সংগ্রহ করা ডিমের পরিমাণ নির্ণয় করেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক এবং সদস্য সচিব জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। বুধবার (২৬ মে) রাতে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার পর সংগ্রহ করা সেসব ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করেন এই কমিটির সদস্যরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, ‘আমরা বিকেলে ডিমের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। সচিব মহোদয় গবেষকদের মতামত নিয়ে সেটা প্রকাশ করবেন। এর আগপর্যন্ত সেটা প্রকাশের এখতিয়ার কমিটির নেই।’

এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি প্রাণীবিদ্যা বিভাগের একদল ছাত্রের মাধ্যমে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ জরিপ করে। ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘আমাদের হিসেবে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছে। এটি গত বছরের চেয়ে অনেক কম। আমরা যে পরিমাণ ডিম সংগ্রহ হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলাম, তার কাছাকাছিও হয়নি। এবার দূষণ ও চোরা শিকার বন্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে ডিমের পরিমাণ বাড়বে বলে আশা ছিল। কিন্তু প্রকৃতির কারণে আমাদের আশা পূরণ হয়নি। লোনা পানির আগ্রাসনও অন্যতম কারণ।’

হালদা থেকে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ: রিসার্চ ল্যাব

হালদা গবেষকেরা জানান, প্রতি বছরের চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে হালদা নদীতে। আর তখনই তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ। সাধারণত মধ্য এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। তবে এবার পূর্ণিমা তিথি থাকলেও বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল ছাড়াই মা মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে।

বুধবার রাত ১২টার দিকে হাটহাজারীর আজিমের ঘাট, অঙ্কুরিঘোনা এলাকায় কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। সকাল পর্যন্ত হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার আমতুয়া, সত্তার ঘাট, রামদাশ মুন্সীর হাট, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা ও মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে স্থানীয় সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করেন।

হালদা থেকে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ: রিসার্চ ল্যাব

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, প্রায় ৩৮০টি নৌকায় হাজারখানেক মানুষ হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করেন। সংগ্রহ করা ডিম দুপুরের মধ্যেই হ্যাচারি ও প্রাকৃতিক কুয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে ডিম ফুটতে শুরু করেছে।

ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হাটহাজারীতে বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। বরং খরা চলছে। হালদার পানিতে লবণাক্ততা অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরি বুধবার জানিয়েছে, হালদার পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ প্রায় ৭২ শতাংশ। ওয়াসা জানিয়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। এ অবস্থায় মা মাছ আমাদের কাঙিক্ষত মাত্রা অনুযায়ী ডিম ছাড়েনি। তবে আমরা আশাবাদী। জুন মাসে আরও দুটি জো আছে। তখন হয়ত ছাড়বে আবারও।’

হালদা থেকে সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ: রিসার্চ ল্যাব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গত দু’দিন ধরে প্রচুর পরিমাণ লবণাক্ত পানি সাগর থেকে কর্ণফুলী হয়ে হালদায় ঢুকেছে। লবণাক্ত পানি সহ্য করতে না পেরে মা মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে। এ জন্য আমরা এই প্রজননকে স্বাভাবিক বলছি না। আমাদের আশা, বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে এবং পাহাড়ি ঢল নামলে মা মাছ আবারও ডিম ছাড়বে।’

উল্লেখ্য গত বছর (২০২০) হালদা নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রায় সাত হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে স্থানীয়রা ডিম সংগ্রহ করেছিলেন ২২ হাজার ৬৮০ কেজি।

এর আগে, ২০১৭ সালে মাত্র ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। – সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত