প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফেসবুকের প্রতারণার নানারকম!

হিফজুর রহমান, ফেসবুক থেকে, ফেসবুকের সুবিধা অনেক। অনেক বুদ্ধিমান, শিক্ষিত এবং জ্ঞানী মানুষের সাথে মত বিনিময়ের সুযোগ হয়। যেমন রাজশাহী থেকে হাসান মীর ভাই এবং চট্টগ্রাম থেকে নাঈমা সেহেলী আপা বাংলা ভাষা, গদ্যের রকম ফের এবং বাংলা বানান রীতি নিয়ে যা সব পোস্ট দেন তাতে আর কারও কি উপকার হয় আমি জানিনা। তবে, আমার যে অনেক উপকার হয় সেকথা স্বীকার করতে আমার বিন্দুমাত্রও কুন্ঠা নেই। কারণ ইংরেজির সাথে সাথে বাংলা লেখা থেকেও আমার ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়।

কিন্তু, ফেসবুকের একটা ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে প্রতারণা। জানিনা, কতজন প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। প্রতারণা হচ্ছে, দেশ থেকে এবং দেশের বাইরে থেকে। অবশ্য, এই ব্যাপারে আমার একটু সন্দেহ আছে। আমার অতি সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিজ্ঞতার কথা বলি।

বিদেশ থেকে এক ভদ্রমহিলা (!) আমার ফেসবুক বন্ধু হতে চাইলেন। আমিও না করলাম না। পরপরই উনি চলে আসলেন মেসেঞ্জারে, তারপর হোয়াটসঅ্যাপে। গল্পটা বলতে শুরু করলেন উনি আফগানিস্তানে আমেরিকান মেরিনের একজন অফিসার। তারা একটি অভিযানে গিয়ে অনেক মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন। তার ভাগেই পড়েছে কয়েক মিলিয়ন ডলার এবং তিনি ওই টাকাটা আমার কাছে আপাতত রাখতে চান, উনি অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত। কারণ, আমাকে দেখে তাঁর মনে হয়েছে আমি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হতে পারি। ওই ডলার আসবে একটা ডিপ্লোম্যাটিক কুরিয়ারে একেবারে আমার ঠিকানায়, যেটা আমার কাছে মোটেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি, অমার কূটনৈতিক মিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে।

তারপরও দেখতে চাইলাম, ব্যাপারটা কতটুকু গড়ায়। একটু লোভও হয়েছিল বৈকি। কারণ, তিনি আমাকে ওই ডলার থেকে ২৫ % দেবেন বলে জানালেন, যেটা আমার জন্য অনেক। আমার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর চাইলেন, আমিও দিলাম। এই পুরো প্রক্রিয়াটায় লাগল প্রায় দুই মাস। এর কয়েকদিন পরই আমার ফোনে একটা কল এল। এক বাঙালী ভদ্রমহিলা বললেন, আপনার নামে একটা পার্শ্বেল এসেছে। ওটা ছাড় করার জন্যে সত্তুর হাজার টাকা দিতে হবে কাস্টমস চার্জ হিসেবে। উনি নিজেকে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। আর টাকাটা একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিলে সেটা ছাড় করে কুরিয়ারে গাড়িতে করে ঢাকায় আমার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। আমি বললাম, কাস্টমস চার্জ আমি কোনও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেব কেন? উনি বললেন, না দিলে পার্শ্বেলটা ফেরত চলে যাবে। আমি বললাম, টাকা দেবনা। উনি কয়েকদিন আমাকে নিয়মিত ফোন করতে লাগলেন। তারপর, হাল ছেড়ে দিলেন। ওই মার্কিন মহিলা সৈনিকও ওই ভাবে কয়েকদিন জ্বালাতন করার পর হাল ছেড়ে দিলেন। এরকম ঘটনা অন্তত পাঁচবার আমার সাথে ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় বিদেশের একজন মহিলা এবং বাংলাদেশের একজন মহিলা জড়িত ছিলেন। আর দেশ ছিল, কখনও ইয়েমেন, কখনও সিরিয়া এরকম। একবার ইন্দোনেশিয়ারও একজন মহিলা ছিলেন।

এবার দেশের একটি ঘটনায় আসি। মাস দুয়েক আগে এক ভদ্রমহিলা আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন। এরকম শত শত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসে। এখনও পাঁচশ রিকোয়েস্ট পড়ে আছে আমার ফেসবুকে। ওই মহিলাকে নিশ্চয়ই আমি কনফার্ম করেছিলাম। তারপরই উনি চলে এলেন আমার মেসেঞ্জারে। প্রথম দিনই তিনি একেবারে নগ্নিকা হয়ে অনেকগুলো ছবি আমার মেসেজ বক্সে দিতে লাগলেন। আমি দেখছি, কি হয়! তারপরই উনি আমার কাছে একটা বিরাট অংকের টাকা চাইলেন এবং না দিলে আমার ফেসবুকের স্ক্রীন শট নিয়ে সেটা ভাইরাল করে দেবেন বলে শাসালেন। আমি এই স্ক্রীনশটের বিষয়টা বুঝিনা। আসলে অনেক টেকনোলজিই বুঝিনা, লেখা-পড়া ছাড়া। এই করেই তো ৬৫ বছর কাটিয়ে দিলাম। আমি দ্রুত ওই মহিলাকে ব্লক করলাম। তখন ভদ্র প্রতিষ্ঠান ফেসবুক জানতে চাইল, আমি কেন ব্লক করতে চাচ্ছি? কয়েকটা অপশন ছিল। তার মধ্যে একটা ছিল “হ্যারাসমেন্ট”। ওটাতেই ক্লিক করলাম এবং আমি ওই নগ্নিকার কবল না ছোবল থেকে মুক্তি পেলাম। এরকম ঘটনাও ঘটেছে তিনটি। দোষ তো আমাদেরও আছে। মহিলা দেখলেই বন্ধু বানাতে উদগ্রীব হয়ে উঠি কেন?

একটা সিদ্ধান্তে এলাম। এই রকম প্রতারকরা ফেসবুকে বিভিন্ন জনের প্রোফাইলে ঢোকে। তারপর ছবি দেখে এবং পরিচিতি দেখে তাদের টার্গেট করে। আমার ছবি দেখলে হয়ত একটু ধনী ধনী মনে করে তারা। তাই হয়ত আমি একটা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হই। এরকম আরও অনেকেই হয়ে থাকতে পারেন, জানিনা। ফলে, সবারই সাবধান হওয়া দরকার, বিশেষ করে পুরুষদের।
পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশন) থেকে এরকম ঘটনার কথা বলে বারবারই সাবধান করে দেয়া হচ্ছে। আমরা কতটুকু সাবধান হচ্ছি, জানিনা। এখনও সময় আছে, সাবধান হোন। সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে এই পোস্টটা না দিয়ে পারলামনা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত