শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের, অগ্রাধিকার পাবে গাড়ি ও জ্বালানি খাত ◈ সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, চলছে নিরাপত্তা যাচাই ◈ পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা-সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন? ◈ বিশ্বে প্রথমবার মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত, ফ্রান্সে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ বিফ‌লে গে‌লো ইংল‌্যা‌ন্ডের ব্রুকের ডাবল সেঞ্চুরী, ৪২৯ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড জয়  ◈ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাইতে থানায় রুমিন ফারহানা, ওসির সাথে তুমুল বাগবিতণ্ডা (ভিডিও) ◈ থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০ জন ◈ এবার বাংলাদেশের দুর্গাপূজার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন, বললেন ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’ ◈ সৌদি আরবে হামলার পর ফের ফ্লাইট বাতিল বিমানের, দাম্মাম ২৫ ও রিয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ◈ রিয়াদ থেকে দাম্মাম বিমানবন্দর ও আরামকো, সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার দাবি হুথিদের

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২১, ০৪:০৩ সকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২১, ০৪:০৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হেফাজতের যে ৫০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অনুসন্ধান করছে দুদকের বিশেষ টিম

ডেস্ক রিপোর্ট:হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদীসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের মধ্যে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর কমিটি, উপজেলা ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয় কর্মীর নাম রয়েছে। দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, হেফাজতের এই নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে। শিগগির তাদের ব্যাংক হিসাবে জমানো অর্থ ও সার্বিক লেনদেনের তথ্য বিএফআইইউ থেকে দুদকে পাঠানো হবে।

দুদক পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান টিম গঠনসংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা, বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অর্থ এবং ধর্মীয় কাজে বিদেশি সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। হেফাজত-সংশ্নিষ্ট ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিশেষ অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, মো. সাইদুজ্জামান ও উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান।

এরই মধ্যে বিলুপ্ত হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার মামুনুল হকের ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি টাকার লেনদেন, মানি লন্ডারিং ও নানা সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

হেফাজতের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ :হেফাজতের অভিযুক্ত ৫০ জনের নাম জানা গেছে। এর মধ্যে বিলুপ্ত ওই কেন্দ্রীয় কমিটির অভিযুক্তরা হলেন- সহসভাপতি মাহফুজুল হক, অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনির, সহকারী মহাসচিব ফজলুল করিম কাসেমী, হাসান জামিল, মুসা বিন ইসহাক, ফজলুল হক কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা আতাউল্লাহ আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস, সামছুল ইসলাম জিলানী, সহঅর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ মাস্টার (হাটহাজারী), সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক শোয়াইব আহম্মেদ, সহপ্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম কাসেমী, ইনামুল হাসান ফারুকী, আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও সদস্য মুফতি কেফায়েত উল্লাহ।

ঢাকা মহানগর কমিটির অভিযুক্তরা :ঢাকা মহানগর কমিটির অভিযুক্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি ও খেলাফতে ইসলামের নায়েবে আমির জুনাইদ আল হাবিব, ঢাকা মহানগরের যুগ্ম মহাসচিব খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, জালাল উদ্দিন, মুফতি আজহারুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক ও জমিয়তে উলামার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী, সহকারী অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, সহকারী প্রচার সম্পাদক গাজী ইয়াকুব ওসমানী (কসবা), সহকারী প্রচার সম্পাদক ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এহসানুল হক ও সদস্য নূর হোসাইন নূরানী।

অভিযুক্ত জেলা কমিটির নেতারা :অভিযুক্ত জেলা কমিটির নেতারা হলেন- ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি শাহ আকরাম আলী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, নিজ জেলায় শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা হারুন ইজহার ও ফেনী জেলার মাহমুদুল হাসান।

উপজেলা কমিটির অভিযুক্তরা :উপজেলা পর্যায়ের অভিযুক্তরা হলেন- চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া নোমান কাসেমী ও হাটহাজারী পৌরসভা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ।

অভিযুক্ত হেফাজতের সক্রিয় কর্মীরা :অভিযুক্ত সক্রিয় কর্মীরা হলেন- আহম্মেদ আলী কাশেমী (চট্টগ্রাম), জুনাইদ কাশেমী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মোহসিন মিয়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি প্রজন্মের আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ কাশেমী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মুফতি আবদুর রহিম কাসেমী, জাতীয় ওলামা মাশারেখ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান মাদানী, মুন্সীগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া হালিমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবু আম্মার আবদুল্লাহ, জামিয়া ইসলামিয়া হালিমিয়া মাদ্রাসার ওবায়দুল্লাহ কাসেমী, মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নাতি মুফতি আমিনী মাওলানা আশরাফ মাহাদী, কিশোরগঞ্জের দারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদুল্লাহ জামী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়ার মাদ্রাসার শিক্ষক মুহাসিনুল করিম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জয়নাল আবেদীন বাকাইলী।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের এই নেতাদের অর্থ-সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক। দেশে-বিদেশে তাদের অর্থের জোগানদাদেরও চিহ্নিত করা হবে। হেফাজতে ইসলামের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে নানা অপরাধের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের 'তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক' নামে সংগঠনের আদলে তারা হেফাজতে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো করে বাংলাদেশের মৌলিক অস্তিত্ব ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী দেশগুলো থেকে বেআইনিভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন, সেসব অর্থ খরচ করে সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনা করা হয়েছে। ওইসব অর্থ নিজেদের ভোগ-বিলাসেও ব্যয় করা হয়েছে।সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ