প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজিয়া সুলতানা জেনি: থুতু বিতর্ক

রাজিয়া সুলতানা জেনি: থুতু আর লালা নিয়ে ঝগড়া লেগেছে। এমন তেমন ঝগড়া না, রীতিমত ব্লকাব্লকি। একদল বলছে শব্দটার সঠিক অনুবাদ হবে থুতু। আর যিনি অনুবাদ করেছেন, তিনি তার লালায় স্টিক আছেন। ব্যাপারটা পারস্পরিক আলাপে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো সমস্যা হতো না, সমস্যা দেখা দেয় ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আক্রমণ করায়। থুতু সাহেব যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেটায় ভুল নির্দেশনার পাশাপাশি ‘অসৎ’ ‘ভুল’ ‘ভাষা জানে না’ এসব কথাগুলোও ছিলো। আর তার চেয়েও বেশি ছিল ‘টিপ্পনী’। কিছুটা শ্লেষ মিশে ছিলো। কথাগুলো আলতো করে বলা যেতো কি না জানি না কিংবা বললে এমন চুলোচুলি কিসিমের ঝগড়া হতো কি না সে ব্যাপারেও সিওর না, বাট সেটা হয়নি। আর এদেশের সাহিত্যিক তো সাহিত্যিক। কথার রাজা। তিনি ভালো করেই জানেন কোন কথা কীভাবে বললে হৃদয়ের কতো গভীরে প্রবেশ করে।

আর সেটাই তিনি করেছেন। এরপরের রিয়াকশন টিপিক্যাল ফেসবুকীয়। গালি এবং পাল্যটা গালি। রক্ষিতা, পতিতা এবং আরো অনেক কিছু। ফেসবুকে শুরু হওয়া এসব বাক বিতণ্ডা দেখে একটা ব্যাপার বেশ পরিষ্কার হয়ে উঠছে, আর সেটা হচ্ছে ‘সাহিত্য ক্যাম্প’। এদেশের সাহিত্যিক বাহিনী সাহিত্য পারুক আর না পারুক, গ্রুপিং বেশ ভালোই পারে। যেকজন লেখালেখি করেন তারা মোটামুটি বেশ কিছু ক্যাম্পে বিভক্ত হয়ে আছেন। সেসব গ্রুপের মাঝে আবার সাবগ্রুপিং ও আছে। তবে এই মুহূর্তে ঝগড়া চলছে নেতা পর্যায়ের। বাম দলগুলোর মতো আর কি, সেখানে একটু নাম ফুটলেই যেমন একজন সাথীকে নিয়ে আরেকটা দল তৈরি করে ফেলেন, অনেকটা সেরকম। থুতু সাহেব সম্ভবত : ‘বাংলা সাহিত্যের পাপ মোচন করা’ ঔপন্যাসিকের গ্রুপের লোক। তার উপন্যাসের প্রশংসা করেছিলেন একসময়। এরপর থেকে অন্য পক্ষের রোষানলে আছেন।

সঙ্গে যুক্ত হল এই অনুবাদ কাণ্ড। ব্যাস আর যায় কোথায়, দ্যা শো বিগ্যান। যাইহোক, এসব কুট কাচালীর মাধ্যমে তারা একটা ব্যাপার প্রমাণ করেছেন, তারা মনে প্রাণে বাঙ্গালি। দুজন বাঙ্গালি এক জায়গায় থাকবে আর তিনটা দল হবে না, এ যেমন অসম্ভব, তেমনি একগুচ্ছ সাহিত্যিক এক দেশে থাকবে আর দলাদলি কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি  করবে না, এ ও অসম্ভব। এনিওয়ে, থুতু সাহেব তার স্ট্যাটাস ডিলিট মেরেছেন। তবে তার আগে অন্য ক্যাম্পের একজনকে ‘রক্ষিতা’ বলেছেন। এরপর থেকে ‘ক্ষমা চাইতে হবে’ আন্দোলন শুরু করে দেয় অন্য ক্যাম্প। ফলাফল, এই ব্যাকট্র্যাক। থুতু সাহেব অবশ্য স্ট্যাটাস ডিলিটের কারণ হিসেবে কি কি সব ফিরিস্তি দিয়েছেন। সেটা পড়ে মনে হচ্ছে তিনি এখন কম্প্রোমাইজ মোডে চলে গেছেন। এই ব্যাপারে কুতর্কের দোকানদারও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ‘রক্ষিতা’ স্টেটমেন্টকে তিনিও সমর্থন করেননি তবে অন্য পক্ষের কাউন্টার হিসেবে ‘পতিতা’ বলাকে কেন একই লেভেলের ‘ক্ষমা চাইতে হবে’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গুড কোয়েসচেন। অবশ্য বিতর্কে আরো একটা বিষয় ছিল। বিদেশি বইয়ের অনুমোদিত অনুবাদ। প্রথমা অনুমতি না নিয়ে কতো বড় পাপ করেছে তার ব্যাখ্যা। এনিয়েও দেখলাম, পক্ষ বিপক্ষে ভাগ হয়ে গেছে সাহিত্যিক বাহিনী। পক্ষ পার্টি বলতে চাইছে, অনুমতি নিলে কি আর হবে, দাম কিছুটা বাড়বে। তো বাড়ুক। কাজটা হালাল তো হবে। অন্যপক্ষের যুক্তি সেই পুরনো, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান দেশে বাস করবেন আর সাহিত্য চাইবেন নিষ্পাপ?

হা হা। আমার কেন যেন মনে হয় আমাদের সাহিত্যিক বাহিনী খরগোসের চোখ বন্ধ করে ফেলার গল্পটা হয় পড়েননি, কিংবা পড়লে বোঝেননি। তারা ভাবেন, তারা নিজেরা যেহেতু দেখতে পাচ্ছেন না, তাই বোধহয় অন্য কেউ দেখতে পাচ্ছে না। তাদের হিংসা হিংসি যে কেবল ফেসবুকারদের মনোরঞ্জন ছাড়া আর কিছুই করছে না, এই ব্যাপারটা বোঝার মতো ঘিলু তাদের কবে গজাবে। একটা ইনবক্স করে ‘থুতু’ শব্দটা জানান যে দেয়া যায় এই বোধটা তাদের কবে তৈরি হবে। পরিশেষে, ‘বাক স্বাধীনতা’ ‘বাক স্বাধীনতা’ বলতে বলতে যারা থুতু আর লালা মিশিয়ে ফেলেন, তাদের নিজেদের আচরণ দেখে তো মনে হয় না তারা নিজেরা সমালোচনা শোনার বা হজম করার মতো কলিজা রাখেন। আই গেস, এই ব্যাপারে তারা এক দম্ভে ভোগেন। বাকি সবার সমালোচনা জায়েজ হলেও, আমি সব কিছুর উর্ধ্বে। সমালোচনা আমি করব, আমার করা যাবে না। এনিওয়ে, থুতু বিতর্ক এই মুহূর্তে তর্ক তার গিয়ার চেঞ্জ করেছে। ‘কেউ নাহি কম যায় সমানে সমান’ অবস্থা হোপ ইট উইল বি অ্যান এক্সাইটিং ক্যাচাল।

সর্বাধিক পঠিত