প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ মুন্নির বিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট : ঈদের ৩য় দিন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে গ্রামের বাজারে লুঙ্গি পরে বসে আছি। কিছুক্ষণ আগে বাবা মায়ের সাথে ঝগড়া করেছি। টপিক- তালুকদার বাড়ির মুন্নির বিয়ে। বাড়িতে ফিরব কি ফিরব না সেই সিদ্ধান্ত নেই নাই। ভালোবাসার মানুষের বিয়ে হয়ে যাবে চোখের সামনে তা দেখে অসহায়ের মত চুপ করে থাকব এটা মানতে পারছি না। অন্তত একটা চাকরি থাকলেও না হয় পরিচয় দেয়া যেত। অবশ্য বেকারও বসে নেই, লক ডাউনের সময় চাকরি চলে যায়, তারপর থেকে অনলাইনের অর্ডারের হোম ডেলিভারির কাজ করছি, মাস শেষে ১৫ হাজার টাকা থাকে, এটা দিয়ে কোনরকমে চলা যায়। কিন্তু এই কাজটাকে কেউ ভালো চোখে দেখছে না।

ও লুঙ্গি পরে বাজার কেন বসে আছি সেই কথা বলা হয় নি। ১ ঘন্টা আগে মুন্নির চাচাতো ভাই যিনি এই এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা তিনি এসে আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
লোক মারফত আমাকে বাজারে ডেকেছিলেন। ঈদের কারণে বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। ওনার দোকানের শাটার খুলে আমাকে ভিতরে ঢুকতে বললেন। ওনার সাঙ্গপাঙ্গরা সব বাইরে দাঁড়ানো।
“তুই কি আমার বোনকে পছন্দ করিস?”

“জ্বী ভাই, আপনি ঠিক শুনেছেন।” আজ আমার হারানোর কিছুই নেই। মার খেলে খাব।
“আজ আমাদের বাড়িতে বিয়ে, লক ডাউনের কারণে বেশি মানুষ ডাকি নাই, ছেলের ফ্যামিলী এসে মুন্নিকে নিয়ে যাবে। নাহলে আজ তোর বারোটা বাজাতাম। তোর কিছু হলে যদি মুন্নির শশুরবাড়ির লোকজন জেনে যায় তাহলে কেলেংকারি হবে।” জনি ভাই আমাকে হুমকি দিয়ে বাড়ি চলে গেলেন। আমাকে আরেকটা কাজ করতে হবে সেটা হলো পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমাকে বাজার অথবা আমার বাড়ি যেকোন এক জায়গা থাকতে হবে। এর বাইরে এক চুলও নড়বড় হলে আমার টেংরি ভেঙ্গে দেয়া হবে। আমাদের এলাকার লোকজন টেংরি শব্দটার সাথে পরিচিত না তাই বুঝতে পারলাম না আমার কী ভাংবে। তবে ভালো কিছু যে হবে না সেটা বুঝতে পারছি।

তারমানে আমাকে এখানে আরো ৩/৪ ঘন্টা থাকতে হবে। মুন্নির বিয়ে হলে তাকে বরপক্ষ তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে আমার মুক্তি হবে। আমার আশেপাশে জনি ভাইয়ের ৬/৭ চ্যালা রেখে গেছেন। এর মধ্যে একজন আবার আমার ক্লাসমেট। তার দিকে তাকালেই সে চোখ সরিয়ে নিচ্ছে, বিষয়টা আমি উপভোগ করছি।
আমার হাতের মোবাইলটা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিচিত নম্বর থেকে আমার কোন কল এলে আমাকে রিসিভ করতে দেয়। পরিচিত নম্বর থেকে আসলে তারা আগে পরিচয় জানতে চায় তারপরে আমাকে দেয়। তাই এ সময়টা ফেইসবুকিংও করা যাবে না। এতক্ষন বসে কী করব? তার চেয়ে মুন্নির সৃতিচারণ করি মানে আপনাদেরকে শোনাই।

মুন্নি আর আমি একই স্কুলে পড়েছি। আমাদের ৪ গ্রাম মিলে একটা স্কুল। আমি এই স্কুলের ডে শিফটে পড়তাম। মেয়েরা পড়ত মর্নিং শিফটে। মেয়েদের শিফট ছুটি আর আমাদের শিফট শুরু। আমি এমন জায়গায় বসে থাকতাম যাতে মুন্নিকে স্পস্ট দকেহা যেত। বেশ কয়েকবার মুন্নির সাথে চোখাচোখি হয়েছিল। ক্লাস টেন থেকে মুন্নির বোরখা পরা শুরু করল তখন থেকে তাকে আর দেখা গেল না। তবে সে যে স্যারের কাছে অংক ব্যাচে পড়ত সেই স্যারের বাসা আমার বাসার কাছাকছি। ওর আসা যাওয়ার সময় আমি ঐ পথ দিয়ে হাটতাম। বিষয়টা আমার বাবা মা কীভাবে যেন টের পেয়ে যায়। আমাকে শহরে খালার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপরে শুরু হয় সংসারে অভাব অনটন। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়। লক ডাউনের আগেও ভালো ছিলাম। এক বার্গারের দোকানে ম্যানেজারের কাজ করতাম। বেতন ছিল ৮ হাজার টাকা, দোকানে এসি আছে। খুবই আরামের কাজ ছিল। দুপুর ৩ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। সকালে একটা ডেলিভারি কোম্পানিতে কাজ করতাম। দুইটা মিলিয়ে মাসে ১৫ হাজার টাকা থাকত। মনের ভিতর থেকে প্রেম ভালোবাসা সব চলে গেল। জানই বাঁচেনা আবার প্রেম!

গত শীতে যখন গ্রামে আসলাম তখন মুন্নিকে দেখে আবার পুরান প্রেম জেগে উঠল।
দিগন্ত জোড়া সরিষা ক্ষেত, চারিদিকে হলুদ আর হলুদ। সেই সময়ে বাড়ি আসলাম। ফেইসবুকে ঢুকে দেখলাম সবাই সরিষা ক্ষেতে গিয়ে সেলফি তুলে জাতে উঠছে, ভাবলাম আমিও একটু জাতে উঠি। আমার বাড়ির পাশেই তো সরিষা ক্ষেত।
সেই সরিষা ক্ষেতে গিয়ে দেখলাম মুন্নি তার ভাই বোনদের সাথে ছবি তুলতে এসেছে। ৩ বছর পরে মুন্নিকে দেখে চমকে উঠলাম। এমনিতেই সে সুন্দরী ছিল। এই ৩ বছরে তার সৌন্দর্য্য যেন অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

হলুদ পাড়ের সবুজ শাড়ী পরে এসেছে। তাকে সবুজ হলুদ এই মাঠের অংশ মনে হচ্ছে। হলুদ রংটা তার গায়ের সাথে এমনভাবে ম্যাচিং করেছে যে বোঝার উপায় নাই কোনটা শাড়ি কোনটা মুন্নি! আমি ছবি তোলা বাদ দিয়ে আনমনা হয়ে গেলাম। ইশ! এই মেয়েকে এতদিন না দেখে কীভাবে ছিলাম! আবার এই মেয়েকে সামনে আবার মিস করব।
“তাজুল ভাই!” মুন্নির কন্ঠে নিজের নাম শুনে লজ্জাই পেলাম। বুকের ভেতর দুরুদুরু করছে। আমি ধীর পায়ে মুন্নির দিকে এগোলাম।

“আমাদের ছবি তুলে দিন তো” সবাই একসাথে তুলতে চাচ্ছি। এই নিন মোবাইল।” মুন্নি আমার হাতে মোবাইল তুলে দিতে গেলে তার হাতের ছোঁয়া লাগে। আমার শরীরে বিদ্যুতের মত শক খেলো মনে হচ্ছে। আমি ছবি তুলব না কী করব বুঝতে পারছি না। ভাবছিলাম এই মেয়েকে তো আমি সেই ছোটবেলা থেকে ভালোবাসি।
আমার হাতের মোবাইল কাঁপছিল। কয়েকটা ছবি তুললাম। মুন্নি ও তার বোনেরা এসে ছবিগুলো দেখে বলল “কী ছাইপাশ ছবি তোলেন। আপনার হাত কি কাঁপে নাকি? শুনেছি ড্রাগ নিলে নাকি মানুষের হাত কাঁপে। আপনি তো ঢাকায় থাকেন। এইসব খান নাকি? নেন আবার ছবি তোলেন। এই বছরই আমার গ্রামের শেষ সরিষা ক্ষেত দেখা। আগামী বছর এ সময় কই থাকি নিশ্চয়তা নাই। তাই সৃতি রাখতে চাচ্ছি।”

“আগামী বছর কই যাবা?”
“কেন আপনি জানেন না? আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে, ছেলে ইউরোপে থাকে। লক ডাউন না থাকলে এতদিনে আমাদের বিয়ে হয়ে যেত। এই ফোনটা সেই পাঠাইছে। নেন ছবি তোলেন।”
খেয়াল করে দেখলাম এতক্ষনে দামি ফোনে ছবি তুলছিলাম। আমি তাদের আরো অনেকগুলো ছবি তুললাম। খুব ইচ্ছে হলো মুন্নিকে বলি “আমি কি তোমার একটা ছবি তুলতে পারি?” কিন্তু সাহসে কুলালো না। সে যদি কিছু মনে করে?”
“বুইড়া হয়ে গেছেন, বিয়ে করবেন কবে?” মুন্নির কথা শুনে এবার লজ্জা পেলাম। কী করে মুন্নিকে বলি আমি যে এতদিন তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম। তোমার বিয়ে হলে আমি নিজের বিয়ের কথা চিন্তা করব।
“নাকি কাউকে পছন্দ করেন?” মুন্নি দুষ্টুমির হাসি দিল।

“যাকে পছন্দ করি তাকে বিয়ে করতে পারব না। দেখা যাক কী হয়।” কীভাবে যেন বলে ফেললাম।
“আপনার কি মেয়েদের পিছনে ঘোরাঘোরির সেই অভ্যাসটা এখনো আছে? স্কুল কলেজ কোচিং সব সময় আপনাকে দেখতাম হ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে মেয়ে দেখতেন।’ হাসতে হাসতে মুন্নি দূরে গিয়ে ছবি তোলার পজিশন নিল। আমি আরো কিছু ছবি তুলে দিলাম।
মুন্নি এবারের ছবিগুলোও দেখল, এগুলো তার পছন্দ হইছে।
“দাড়ান, আপনার সাথে একটা সেলফি তুলি। এটা জাকিরকে দেখাব। দেখিয়ে বলব -এটা আমার এক্স। দেখি কী এক্সপ্রেশন দেয়। শালায় আমাকে গত এক সপ্তাহ অনেক কস্ট দিছিল। আমি তাকে একটা কস্ট দেই।” বলতে বলতে কখন যেন সেলফি নেয়া হয়ে গেল।

মুন্নিকে বলতে চাইলাম এই ছবিটা আমাকে দেও। কিন্তু সাহসে কুলালাম না।
আমি আর এখানে বেশিক্ষন থাকতে পারব না। আমি চলে যাচ্ছি। হঠাত ঘুরে দাঁড়ালাম।
“মুন্নি”
“কী?”
“একটা কথা বলব”
“আমাকে খুব সুন্দর লাগছে এটা বলবেন?”
“না”
“তাহলে বলেন”
“আমি আসলে সব মেয়েকে দেখার জন্য তোমাদের স্কুল কলেজ আর কোচিং এর সামনে হ্যাবলার মত দাঁড়িয়ে থাকতাম না।” আমি ডানে বায়ে না তাকিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম।
সৃতি রোমন্থন করা শেষ, এখন আসি বাস্তবে।
ইউরোপে আবার করোনা আঘাত করেছে। সব দেশের সাথে বাংলাদেশের ফ্লাইট চলছে না। লক ডাউন আবারো কড়াকড়ি হচ্ছে। তাই মুন্নির হবু বর দেশে আসতে পারে নাই। আজ অনলাইনে বিয়ে পড়ানো হবে। বরপক্ষ থেকে বরের বাবা মা ভাই বোন সহ সব মিলিয়ে ১৫ জন আত্মীয় আসবেন। বিয়ে পড়িয়ে তারা মুন্নিকে নিয়ে চলে যাবেন।

ঘন্টা দুয়েক পরে আমার ডাক পড়ল। জনি ভাই ডেকেছেন, যেতে হবে মুন্নির বাড়িতেই। ঘটনা মনে হয় প্যাচ খাইছে। মুন্নির বিয়েতে আমাকে বাঁধা হিসেবে বাজারে বন্দি হিসেবে বসিয়ে রাখা হয়েছে, আর এখন বলছে মুন্নিদের বাড়িতে যেতে! এটা কেমন যেন লাগছে। মুন্নির বাড়িতে তো এখন বরপক্ষ অবস্থান করছে। আমাকে কেন সেখানে যেতে হবে?
লুঙ্গি পরা অবস্থায় আমাকে মুন্নির বাড়িতে নেয়া হলো। এই বাড়ির আশেপাশে গত ৩ বছর আসি নাই। আসলে যদি মুন্নির দেখা পাই! দেখেল ত বুকটা ফেটে যাবে!

মুন্নির চাচা আসলেন। আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে রইলেন। আমাকে বাড়ির ভিতরের উঠানে নেয়া হলো। সেখানে দেখি আমার আব্বা চেয়ারে বসে আছেন! মুন্নির বাবা মুন্নির সেই চাচাতো ভাই জনি আরো বাড়ি ভর্তি মুন্নির গোষ্ঠির লোকজন সবাই আমার দিকে চেয়ে আছে। সবার দৃষ্টিতে অগ্নি।
“তুই যে এত বড় শয়তান তা আগে যদি জানতাম তাহলে……” কথাটা কে বলছে বুঝতে পারি নাই। আমি মাথা নিচু করে তাকিয়ে আছি।

মুন্নির চাচাতো ভাই আমাকে এক কোনায় ডেকে নিল “শোন তাজুল, যা হইছে ত হইছে, এখনা আমাদের মান ইজ্জতের ব্যাপার। তুই দ্রুত পোষাক বদলা। তোর আব্বাকে বলে তোর বাড়ি থেকে জামা কাপড় আনাইছি। দরকার হলে আমার বাথরুমে গিয়ে গোসল, অযু করে ফ্রেশ হয়ে নে। একটু পরে কাজি সাহেব আসবেন।”
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। বিয়ে কি আমার হচ্ছে? কার সাথে হচ্ছে? আমিত কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে কি মুন্নির……”
রাত বারোটা।
স্থান- বাসর ঘর। আজ মুন্নির বিয়ে। তবে বিয়েটা হয়েছে আমার সাথে। পুরো ঘটনা স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে।
পুর ঘটনা মুন্নির মুখ থেকেই শুনেছি।

মুন্নি সেদিন আমার সাথে তোলা ছবিটা তার হবু বর জহিরকে সেন্ড করে দুষ্টামি করেছিল। আর সেটাই হলো মুন্নির জন্য কাল। জহির সত্যি সত্যি আমাকে মুন্নির বফ ভেবেছিল। মুন্নি এরপরে ১০০ বার চেস্টা করেছে জহিরকে বোঝানোর। জহির একবার বোঝে তো আরেকবার বোঝে না। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। বিয়ের ঘটকালি করেছিলেন জহিরের এক আত্মীয়, তিনি এই গ্রামে এসে খোঁজ খবর নিলেন। যার কাছ থেকে খোঁজ নিলেন তিনি আবার মুন্নিদের শত্রু। জমি জিরাত নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে দীর্ঘদিন। তিনি সেই আত্মীয়কে ভুল তথ্য দিয়ে বলেন “মেয়ের চরিত্র সম্মন্ধে আমি কিছু বলব না। শুধু একটা কথা বলি যা করেন সাবধানে করেন।” এই কথা বললে তো সন্দেহ আরো বেড়ে যাওয়ার কথা।

লাস্ট ঝামেলা বাঁধে বিয়ের কাবিন নিয়ে। দুই পক্ষে এ কথা সে কথা নিয়ে কথা বাড়ায়। মুন্নিরা কাবিন চেয়েছে ১০ লাখ, ছেলে পক্ষ দিবে ৩ লাখ। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে জহিরের সেই আত্মীয় বলে ফেলেন “আপনাদের মেয়ের খুঁত আছে। নাহলে ১০ লাখ কোন ব্যাপার ছিল না।” এ নিয়ে দুই পক্ষে লেগে যায়। কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে ঝগড়াঝাটিতে পরিণত হয়। জহিরকে ঘটনা জানানো হয়। জহিরকে জানানোর সময় ঘটনা আরো ফুলিয়ে ফাপিয়ে জানানো হয় “মেয়ের দশটা প্রেম ছিল। মেয়ের চরিত্র তেমন একটা সুবিধার না।।” জহির দশের দশ মিলায়। সে তার মায়ের কাছে আমার মুন্নির সাথে আমার সেলফিটা পাঠায়। ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে সেই ছবিটাও সবাইকে দেখানো হয়। মুন্নির বাবা চাচা সব মেনে নিতেন কিন্তু মেয়ের নামে বদনাম, মেয়ের চরিত্রের নাম অপবাদ দেয়াটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারলেন না। মুন্নির বাবা তখনই সিদ্ধান্ত নেয়, যে ছেলে তার স্ত্রীকে বিশ্বাস করতে পারে না তার কাছে মেয়ে কোনদিন সুখী হতে পারবে না। আজীবন অবিশ্বাস নিয়ে পঁচতে হবে। তার মেয়ে ভালো কাজই করেছে।

আজ সকাল দশটায় জহিরের পরিবারকে জানানো হলো মুন্নির বাবা এই বিয়ে ক্যান্সেল করে দিয়েছেন। এদিকে আত্মীয় স্বজন ও মেহামানরা হাজির। মুন্নির বাবা তার ভাতিজা এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা জনি ভাইকে দায়িত্ব দেন আমার সাথে কথা বলার জন্য। যেহেতু আমার সাথে মুন্নির ছবি আরো অনেকেই দেখে ফেলেছে তাই আমার সাথেই বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাকে বাজারে ওনার দোকানে ডেকে আমাকে আটকে রাখে আর ঐদিকে আমার বাবা মায়ের সাথে কথা বলেন। বাবা মায়ের কাছ থেকে হা শোনার পরে বাবা মাকে মুন্নিদের বাড়ি নিয়ে যায় আর আমাকে বাজার থেকে মুন্নিদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এদিকে আমি লুঙ্গি পরা। আমার গায়ে ভালো পোষাক নেই। সেগুলো আমার বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা হয়।

“আমি অনেক টায়ার্ড এখন ঘুমাব। একটুও ডিস্টার্ব করবানা।” মুন্নির গলায় কপট হুমকি।
“আমি তোমার পিছনে ঘুরেছি প্রায় ৮ বছর হলো, কখনো কি ডিস্টার্ব করেছি? মুখ ফুটেও তো বলিনি তোমায় ভালোবাসি। আজও তোমায় ডিস্টার্ব করব না।”

“ঐ ডিস্টার্ব করবি না মানে? এমনি এমনি তোকে বিয়ে করছি।” মুন্নি আমার কলার চেপে ধরল।
সূত্র-

সর্বাধিক পঠিত