প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. মামুন আল মাহতাব: ঈদ মোবারক- সেদিন আর এদিন

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) : ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছি রোজার ঈদ মানেই হলো চাঁদ রাতে ঈদের চাঁদটা দেখা যাওয়া মাত্র টেলিভিশনে নজরুলের, ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ আর তার পরপরই স্বপরিবারে চাঁদ রাতের কেনা কাটার জন্য শপিং সেন্টারে ‘দে ছুট’। ঈদের দিন ভোর-ভোর গোসল সেরে, ঈদগাহে ঈদের নামাজটা পরে বাসায় এসে পরোটা সেমাই দিয়ে ভরপুর নাস্তা আর তারপর ঘুরতে বেরুনো। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় ঈদের কোলাকুলি, সালামী আদায় আর বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডায় দিনটা পার করে টিভিতে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানের সামনে সোফায় আঠা দিয়ে সেটে বসা- এভাবেই কেটে গেছে একের পর এক ঈদ। হঠাৎ ছন্দ পতন গত বছরে এসে। গত বছর রোজার শেষে টিভিতে নজরুলের ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’ কেমন যেন বড্ড বেশি বেসুরো, বেমানান। মুখোশ ঢাকা মুখে বুকের ভিতরে লুকানো আতঙ্কের ছোঁয়া পরে কি পরে না জানি না, কিন্তু ঈদের আনন্দ মাস্কে বাড়ি খেয়েই ফিরে যায়। আগের মতো হৃদয়ের অলিন্দে-অলিন্দে জাগেনা আর সেই আনন্দের অতি পরিচিত অনুরনন।

গত বছর ভেবেছিলাম এবারই তো শেষ, একটা ঈদইতো- আগামীবার আসবে ভ্যাকসিন, ছুটে পালাবে কোভিড আর ঈদ হবে সেই রকম। সেই আশায় এখন চূড়ান্ত রকমের গুড়েবালি। আবারও আসছে ঈদ, কিন্তু আসছে তা কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাওয়ার হয়ে। গত বছর ভীতি ছিল, সংখ্যা ছিল না। এবার কেন যেন ভীতিটা কম, কিন্তু সংখ্যাগুলো ভীতিকর। লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়ছে কোভিড। কমছে হয়তো সাময়িকভাবে সাময়িক লক-ডাউনে। কিন্তু বেড়েছে যেমন অতীতে এবং বাড়বেও সামনে ঠিক-ঠিক। ঈদ সামনে রেখে আমাদের শপিং সেন্টারগুলোতে ছুটোছুটির হুরোহুরিতে আর ছুটিতে কাতারে-কাতারে হামলে পরে দেশে যাওয়ার আর তারপর আবারও একই ভাবে ফিরে আসার হুল্লোরে।

ঈদের আগেই আমরা ভেঙেছি আমাদের তাবৎ কোভিড রেকর্ড। একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন রোগী সনাক্তের আর মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড গুড়িয়েছি একের পর এক। বৈশ্বিক এই মাহামারিতে ভালো আর খারাপ সব সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ঘরের পাশে কখনো দ্য ইন্ডিয়ান ডবল মিউটেন্ট স্ট্রেইন আর কখনো বা ট্রিপল বেঙ্গল মিউটেন্টের ভীতিকর তাণ্ডব হৃদয়ে কাপন ধরায়। ভারতের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক আর যোগাযোগটা শুধু প্রতিবেশীরই নয় বরং তার চেয়েও অনেক বেশি। আমাদের এ দু’দেশ আর দু’দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এত বেশি আর এত বহুমাত্রিক যে ভারতের কোভিড বাংলাদেশে হানা দেবে না এমন ভেবে বসে থাকলে বোধকরি বড় ধরনের বোকামি হবে।

কোভিড আমাদের কাছ থেকে রোজার ঈদটা কেড়ে নিয়েছে পরপর দুবার। বাসার ছাদে নামাজ পড়া ঈদ যেন এবারই হয় শেষ ঈদ, আগামী ঈদে আমার লেখায় যেন থাকে ঈদের উচ্ছ্বাস, এই লেখাটা লিখতে বসে প্রত্যাশাটা তেমনই। এই ঈদটাকে সেই ঈদের কাছে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও কিন্তু সামনে অনেক। আমরা যদি একটু নিয়ম মেনে চলি কোভিডের রাশ আমরা যে ঠিকই টেনে ধরতে পারি তার প্রমাণ আমরা রেখেছি কদিন আগেই। বাড়বাড়ন্ত কোভিডকে আমরা গত বছরের শেষে যেমন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলাম তেমনি এবারও একইভাবে কোভিডের উর্ধ্বমুখী সংক্রমনে আমরা ঠিকই ব্রেক কষতে পেরেছিলাম। কাজেই আমাদের মাস্ক পরা, হাত ধোয়া আর অপ্রোয়জনে ঘরের বাইরে না যাওয়ায় যে কাজটা ভালোই হয় এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। আছে আরও বেশ কিছু সুখবর। নতুন-নতুন ভ্যাকসিন প্রাপ্তি আর দেশে ভ্যাকসিন তৈরির সম্ভবনা এখন বাস্তবের কাছাকাছি। কাজেই শঙ্কা যেমন আছে, শঙ্কা ছাপিয়ে আছে সম্ভবনাও। এবারের ঈদটা তাই যেমন তেমন, আসুন প্রস্তুতি নেই আগামী ঈদটাকে ঈদের মতো করে উদ্যাপনে। আসুন মাস্ক পরি, বারবার সাবান পানিতে হাত ধুই আর অপ্রোয়জনে ঘরের বাইরে এতটুকুও সময় না দিই।

লেখক : চেয়ারম্যান, লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত