প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসরায়েল আমাদের মৃত্যু বা প্রতিরোধের মুখে ঠেলে দিয়েছে (ভিডিও)

রাশিদ রিয়াজ : ৬৩বার গ্রেফতারকৃত ফিলিস্তিনি প্রতিবাদি নারী হানাদি হালাভানি বললেন ফিলিস্তিনিদের নির্বংশ করার জন্যেই ইসরায়েল আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ বেছে নিয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হানাদিকে গত ৮ বছর ধরে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদ ইসরায়েলিদের দখল করে নেয়ার বিষয়টি আমাদের হৃদয়ে আঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়। এ নিয়ে প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা প্রতিবাদ করছেন, শহীদ হচ্ছেন এবং প্রতিরোধ থেকে পিছপা হচ্ছেন না। আগের চেয়ে আল-আকসা মসজিদ, চার্চে ইসরায়েলি সেনাদের সন্ত্রাস বেড়েছে। হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদে মুসলমানরা নামাজ পড়তে পারছে না এবং ইহুদিরা সেখানে ঠিকই প্রার্থনা করছে। ইসরায়েলিরা এধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে আল-আকসা মসজিদে। তারা আসলে চায় আল-আকসা মসজিদ ধংস করতে। তারা সেখানে ইহুদি মন্দির নির্মাণের অভিপ্রায় নিয়ে আগাচ্ছে। এজন্যে তারা মুসলমান ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে আল-আকসা ছিনিয়ে নিতে চায়। আল-আকসা মসজিদের এক পঞ্চমাংস এলাকা দখল করে নিয়ে ইহুদি উপাসনার কথা তারা খোলামেলাই বলছে। তারা আল-আকসা মসজিদে এসে মদ খাচ্ছে, ইহুদি ধর্মীয় শ্লোক আবৃত্তি করছে এবং সঙ্গে করে শুয়োরের মডেল নিয়ে আসছে যা মুসলমানদের উস্কানি দেওয়ার জন্যে ইচ্ছে করেই করা হচ্ছে। এসব কর্ম আমি প্রমাণ সহ প্রকাশ করায় আমাকে কারাগারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।মিডিল ইস্ট মনিটর

হানাদি বলেন আল-আকসা মসজিদে বা খ্রিস্টানদের চার্চে যত ধরনের অপকর্ম আছে তা করার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে এবং তাকে বিচারের আওতায় আনা থেকে বিরত থাকে। এতে উস্কানিদাতারা প্রশ্রয় পাচ্ছে। আলকিয়ামা চার্চের সম্পদের ওপর ব্যাপক কর আরোপ করা হয়েছে। ইসরায়েলিরা প্রমাণ করতে চাচ্ছে তারা মুসলমান ও খ্রিস্টানদের চেয়ে জেরুজালেমে সংখ্যাগরীষ্ঠ। এজন্যে ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাদেরকে পশ্চিম তীরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা মুসলমানদের জেরুজালেমে যুগযুগ ধরে বাস করে আসার প্রমাণ ও তথ্যাদি বিনষ্ট করছে। এমনকি ফিলিস্তিনিদের জন্মরোধে বিশেষ করে ছেলে সন্তান যাতে না হয় সে কারণে তারা গর্ভবতী ফিলিস্তিনি নারীদের কেবল মাত্র ছেলে সন্তানের ভ্রুণ নষ্ট করে দিয়ে বলছে তার গর্ভপাতের কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলি ও সন্ত্রাস চালানো ইসরায়েলি সেনাদের ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা হ্রাসের আরেক ঘৃণ্য কর্ম। তরুণদের তারা আটক করছে যাতে তারা প্রতিবাদে এগিয়ে না আসে। তারা ইহুদিদের অধিক সন্তান নেয়ার জন্যে বৃত্তি ও আবাসনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। যাতে যমজ সন্তান হয় সেজন্যে ইহুদি নারীদের হরমোন দেওয়া হচ্ছে।

হানাদি বলেন জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ঘর পুরাতন হয়ে গেলেও তা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেই উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়। সংস্কারের জন্যে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হয় যাতে কেউ সহজে তা করতে না পারে। অথচ ফিলিস্তিনিদের জনসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তারা আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি করতে পারছে না। ভবন নির্মাণের সুযোগ ফিলিস্তিনিরা কদাচিৎ হয়ে থাকে। পেলেও একারণে এত বেশি উচ্চমূল্য পরিশোধ করে অনুমতি নিতে হয় যে তারা তাদের গয়নাগাটি বিক্রি করে বা ঋণী হয়ে পড়ে। এতকিছু সহ্য করে বাড়ি নির্মাণের পরই আছে উচ্ছেদ নোটিশ। তখন তারা ঘরদোর বাড়ি ছেড়ে তাবুতে যেয়ে আশ্রয় নেয়। এসব অপরাধ যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে। আমাকে ৬৩ বার গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবাদ থেকে নিবৃত্ত হইনি বলে আল-আকসায় আর যেতে দেওয়া হয় না। আমার নিজের কোনো বাড়ি নেই। আমার পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে আমি প্রতিবাদ না করি, বিক্ষোভে অংশ না নেই। আমার পরিবারকে চিকিৎসাসুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। একারণেই আমাদের মত ফিলিস্তিনিরা আল-আকসা মসজিদকে রক্ষায় ছুটে আসি। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করে দেওয়ার জন্যে ইসরায়েল যা কিছু করছে তা কিছু আরব দেশে ক্যান্সারের মতই বিস্তার ঘটছে। আমাদের চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ইসরায়েল বুঝিয়ে দিচ্ছে হয় নত হও নাহলে মৃত্যুকে বরণ কর। তারা আমার বাড়ি অনেকবার ভেঙ্গেছে। যখন আমার সন্তানরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছে তখন তারা আমার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দেওয়ার সময় বেছে নিয়েছে। তারা সন্তানদের বইপত্র পর্যন্ত বিনষ্ট করেছে। এমনও দিন গেছে সপ্তাহে আমাকে দুইবার কারাবরণ করতে হয়েছে। আমার স্বামী ও সন্তানদের হুমকি দেওয়া হয় ধারাবাহিকভাবে। যাতে প্রতিবেশিরা আমার ওপর রুষ্ট হয় আমাকে আমার পরিবার অন্যত্র সরে যেতে বলে। এমনকি ফিলিস্তিন ছেড়ে আমার অন্যত্র চলে যাওয়ার বা কোনো সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়না। জেরুজালেমের কোনো ঐতিহাসিক স্থান বা পুরোনো শহরগুলোতে যেতে দেওয়া হয় না।

হানাদি বলেন জেরুজালেম কিংবা আল-আকসা মসজিদের মুক্তি খুব কাছেই। প্রতিবছর আমরা বড় রকমের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। ২০১৫ সালে আল-আকসায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ২০১৭ সালে বৈদ্যুতিক গেট স্থাপন করা হয়। ২০১৯ সালে গেট অব মার্সি খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভের পর ১৬ বছর পর তা খুলে দেওয়া হয়। এবছর খুবই বিপজ্জনক, তারপরও বলছি ফিলিস্তিন, আরব ও মুক্তবুদ্ধির মানুষ যারা বিশে^ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে তারা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। আমরা জেরুজালেমবাসী ও ফিলিস্তিনি হিসেবে সারাবিশে^র জন্যে আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করতে চাই। এজন্যে রক্ত দিচ্ছি, জীবন দিয়ে হলেও আমরা পিছপা হচ্ছে না। আমরা বিশে^র কাছে সাহায্যের জন্যে অপেক্ষা করছি। তারা মুক্তমানুষ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের এই সংগ্রামে সমর্থন দেবে এটাই আশা করি। তাদের অনেকের দখলদারিত্ব, অবিচার ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আছে। যেমন আমরা আমাদের স্বাধীনতা লড়াইয়ে লড়ছি তাই অন্যদেরকেও আমাদের পাশে আমরা চাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত