প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খোশরোজ সামাদ: করোনা যুদ্ধে শহীদ জননীর সন্তানের গীতিকা

খোশরোজ সামাদ: [১] সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা যেদিন মায়ের সম্ভাব্য পরিণতির কথা জানিয়ে দিলেন সেদিন আমার যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলো। যে করেই হোক, মাকে বাঁচাতে হবে। আইসিইউতে আমি মায়ের পাশে দাঁড়াই। টুকটাক কথা বলি। নিয়মিত ওষুধ,পথ্য খাচ্ছেন কিনা জিজ্ঞেস করি। মা আমাকে  মনে করিয়ে দেন, আমি সুপারম্যান নই। এই ছোঁয়াচে ভয়াল ব্যাধি আমারও হতে পারে। আমি কি করে চলে যাই?  মা, আমি যে তোমারই স্তন্যপান করা অর্বাচীন এক সন্তান।

[২] ‘আজ কেমন আছো, মা?’ প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে করোনা আক্রান্ত  সিএমএইচে ভর্তি আমার বাবা আর নিজ বাড়িতে নিজেই নিজের চিকিৎসা নেওয়া আমার  চিকিৎসক বোন খুরশিদা সামাদ  সবাতীর আরোগ্য সম্ভাবনার কথা   উৎকণ্ঠার সাথে জানতে চান। মায়ের রোগাক্লান্ত মুখচ্ছবিতে করোনা  বিধ্বস্ত এক পরিবারের দুমড়ে মুচড়ে ফেলা  মানচিত্র দেখতে পাই।

[৩] বিরলপ্রজ ওষুধ দরকার। আমি আর আমার অনুজ প্রকৌশলী Shourov Samad Khurrom উন্মত্তের মতো মধ্যরাতে সারা ঢাকা চষে ফিরি।প্লাজমা দরকার, আমি উন্মাদ হয়ে যাই। যে করেই হোক প্লাজমা যোগাড় করতেই হবে। নিজে চিকিৎসক হিসেবে পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সত্য  যে অত্যাসন্ন সেটি পুরোপুরিভাবে বুঝলেও মায়ের চিকিৎসকদের রাতবিরেতে বারবার অধীর হয়ে ফোন করি।

[৪] যখন মায়ের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হলো তখন আমি, আমার একমাত্র ভাই, মায়ের কনিষ্ট ভ্রাতা- আমার মামা, আমরা তিনজনা মায়ের পাশে। গ্রাফগুলো আর উঠছে না, নামছে না। ফ্ল্যাট। Our sweetest songs are those that tell of saddest thaught। আমি গ্রাফে মধুরতম সংগীতের স্বরলিপির আঁকিবুঁকি দেখতে পাই।

[৫] মাকে মরচুয়ারিতে রাখা হলো। মাতো কখনো একা ঘরে থাকেননি। তিনি তো ভয় পাবেন। আচ্ছা, ওরা কি মায়ের সাথে আমাকে থাকতে দেবে?

[৬] মাকে সিএমএইচ মসজিদে জানাজা পরানো হলো। এই তো অল্প কদিন আগেই মায়ের সাথে সারাদিন কাটালাম। এক বিছানায় ঘুমালাম। তাঁর শরীরে কেমন মা মা গন্ধ। তিনি খাটিয়াতে শুয়ে আছেন। আমি দূর থেকেও সেই মা মা সুবাসিত গন্ধ আবার পেলাম।

[৭] মাকে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলো। আমার  শরীরে তখন হাজার হাতির শক্তি। মাটির জমিনে মাকে নিজহাতে শুইয়ে দিলাম। কবর মাটি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি। কে বলেছে, এটা কবর?  এখানে মা ঘুমাবেন। ওরা কারা?  যারা মায়ের লাশ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়?

[৮] শিশুকালে মা গল্প বলে আমায় ঘুম পারাতেন। আজ আমি মাকে যুদ্ধজয়ের গল্প বলবো। মা তুমি জীবনের অনেক সময়ই জায়নামাজে কাটিয়েছো। জানো মা, পবিত্র  গ্রন্থে লেখা আছে, মহামারীর মৃত্যু সেতো শহীদের মৃত্যু। আমি সেই শহীদ জননীর  নাড়ি ছেঁড়া ধন। আমার কীসের ভয়?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত