প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: আমাদের নতুন পুঁথিলেখক হলেন আরিফ আজাদরা!

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি: রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য দেই, রকমারির মতে ‘আলো ছড়ানো’ লেখক আরিফ আজাদ নিজের বইয়ের চ্যাপ্টারের নাম থেকে শুরু করে এমনকি বইয়ের নাম ‘বেলা ফুরাবার আগে’ দিয়েছেন রবিঠাকুরের লেখা থেকে কাট পেস্ট করে। হিপোক্রেসিটা দেখেন, যে মাথামোটারা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতে পর্যন্ত হিন্দুয়ানী ছাপ দেখে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায়, তারাই আবার নিজেদের বইয়ের নাম থেকে চ্যাপ্টার সবখানে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে বসে আছে। আসেন বেলা ফুরাবার আগে’র চ্যাপ্টারগুলার নাম দেখি। মন খারাপের দিনে (যথারীতি রাবিন্দ্রীক লাইন)। এরপর যথাক্রমে, ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ (এবার রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্)। বেলা ফুরাবার আগে (আবারও রবীন্দ্রনাথ)। মেঘের কোলে রোদ হেসেছে (শিশুতোষ ছড়া, এইযে রবীন্দ্রনাথ!) তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো (আবার গানের লাইন, ওয়াও। তিনি এইসব গানও শোনেন।)। যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা (নির্মলেন্দু গুণ)। মেঘের ওপার বাড়ি (হুমায়ূন আহমেদ)। আরিফ আজাদ যেমন মজার কাজ করেছেন সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বানানো লজিক্যাল ফ্যালাসিগুলির ক্ষেত্রে, সেরকম মুফতি হারুন ইজহার আর আলী হাসান উসামা রকমারির আরও দুই আলো ছড়ানো লেখক। না জানি তারা আরও কী কী রবীন্দ্রনাথ থেকে ধার নিয়েছেন। জিজ্ঞেস করেন- তারা কেমনে আলো ছড়িয়েছেন? সরাসরি জঙ্গি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কয়দিন আগে ধরাও খেয়েছেন। তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর রকমারি তাদের বই তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলেছে। আমি তাদের বই পড়তে বিশেষ আগ্রহী, বেস্টসেলার হওয়া জঙ্গিদের বই বিশেষ আগ্রহোদ্দীপক।

যাই হোক, ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইয়ে আহমদ ছফা যা  বলেছিলেন তার সারমর্ম হলো- বাঙালি মুসলমান হতে গেলে বাঙালিত্ব হারায় আর বাঙালি হতে গেলে মুসলমানিত্ব নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। যেমন ধরেন ‘শহীদে কারবালা’ পুঁথিতে সীমারের হযরত হোসেনের ছিন্নমস্তক নিয়ে ফেরার পথে ব্রাহ্মণের বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার ঘটনা টেনে এনে জগাখিচুড়ি পাকানো ছিলো হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া নিম্নবর্ণের হিন্দুদের বাঙালি মুসলমান পুঁথিলেখক হয়ে ওঠার পটভূমি। সেই বেকুবদের একবারও মনে পড়েনি- আরব দেশে কারবালার পথে ব্রাহ্মণ পরিবার আসবে কোত্থেকে। আমাদের নতুন পুঁথিলেখক হলেন আরিফ আজাদরা! হুমায়ূন আজাদ একদিন লিখেছিলেন- নষ্টদের কবলে পড়ে প্রথমেই রবীন্দ্রনাথের সুন্দর মুখে লাগবে একরাশ কালি! কিন্তু এই কালি যে রকমারির আলোকিত লেখকরা লাগাবে তা কে জানতো? হুমায়ূন আজাদের কথা সত্য করে আরিফ আজাদরা রবীন্দ্রনাথের লাইন দিয়েই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে। লজিক্যাল ফ্যালাসিতে ভরপুর বইগুলো হচ্ছে বেস্টসেলার। এক সময় এক মুক্তিযোদ্ধার কাছে জেনেছিলাম যে পাক সেনারা রবীন্দ্রনাথের চেহারা এক বাসায় দেখে বিরাট মাওলানা ভেবে চলে গিয়েছিলো। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পাঠ্যপুস্তক সংস্কারের নামে তারা রবীন্দ্রনাথকে ঘায়েল করতে তার লাইনই ব্যবহার করবে। রবীন্দ্রনাথ সুলেখা কালির বিজ্ঞাপন লিখেছিলেন- এই কালি কলংকের চেয়েও কালো। রকমারির আলোকিত লেখকদের দেখে বুঝতে পারি- এই আলোর চেয়ে অন্ধকারও ভালো। কিন্তু অতঃপর মার্কেটিং ম্যানেজার রকমারির আলোকিত অন্ধকারকে কীভাবে অস্বীকার করবেন আপনি? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত