প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শর্ত শিথিল, ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট, স্বাক্ষর ছাড়াই দ্রুত’ নতুন পাসপোর্ট পাচ্ছেন খালেদা জিয়া

আতাউর অপু : খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নর জন্য আবেদন নিয়ে দিনভর আলোচনা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে তার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে (রি-ইস্যু) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ব্যাংকেও ফি জমা দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

তবে বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের পরিচালক (পাসপোর্ট ও ভিসা) সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের আবেদন অধিদফতরে পৌঁছেনি। আবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে আবেদন

খালেদা জিয়া পাসপোর্ট নবায়ন করে নতুন মেসিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন।

তিনি বলেন, “ম্যাডামের এমআরপি পাসপোর্টের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাসপোর্ট রিনিউয়ের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ করে তা জমাও দেয়া হয়েছে আজ। আশা করা যায়, শিগগির তা পাওয়া যাবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “খালেদা জিয়া পাসপোর্ট নবায়নের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার আবেদন করেছেন। “নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন, নবায়ন হয়ে যাবে।“ বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা নিতে বিদেশ যাওয়ার আবেদনটি এখনো আইন মন্ত্রণালয় থেকে আসেনি বলেও তিনি জানান।

নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের জন্য সশরীরে উপস্থিত থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আবেদনপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টর (এমআরপি) আবেদন জমা নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ই-পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়া ও বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ই-পাসপোর্ট পাওয়া প্রক্রিয়াগত কারণে সময়সাপেক্ষ। বিশেষ ধরনের এই পাসপোর্টে আবেদনকারীর ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণির ছবি নেওয়া হয়। খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এসব কার্যক্রম শেষ করা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এজন্য তাকে এমআরপি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত না হয়েই কার্যক্রম শেষ করা যাবে।

বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আবেদন পর্যালোচনার পর দ্রুত সময়ে মতামত দিয়ে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে ‘সময় শেষ হয়ে যাওয়ায়’ বৃহস্পতিবার আর সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। আইন মন্ত্রণালয়ে খালেদার পরিবারের আবেদনের বিষয়ে দাপ্তরিক কাজ শেষে এদিন বিকালে মন্ত্রীর গুলশানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নথি নিয়ে যান আইন সচিব গোলাম সারওয়ার।

এরপর আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় খালেদা জিয়ার সাজা ও দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়েছিল। দুটি নির্দিষ্ট শর্তে তাকে সাময়িক মুক্ত দেওয়া হয়েছিল। “যেহেতু এখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা সম্পাদন হয়ে গেছে, এরপর এটাকে আবার ওপেন করার স্কোপ আছে কিনা; সেটা দেখে আমাদের অভিমত যথাশীঘ্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিব।”

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, যে শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল, তা শিথিলের সুযোগ আছে কিনা, তা এখন তারা দেখবেন। “খালেদা জিয়ার বিষয়টি সরকার মানবিকভাবেই দেখছে বলে জানান তিনি।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় উদ্বেগ জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ইতোমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্তত এ ক্ষেত্রে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না দেখিয়ে মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দেবে বলে বিশ্বাস করি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার যে আবেদন পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ বিষয়টি আইনগত। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী, সেহেতু তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা এবং মিথ্যাচার করাই তাদের কাজ। কোনো ভালো কাজই তাদের চোখে পড়ে না। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি কিছুই তার দেখতে পান না।হাসপাতালে নেওয়া হলো খালেদা জিয়াকে | Dhaka Tribune Bangla

গত ১১ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজায় চিকিৎসা চলতে থাকে। আক্রান্তের ১৪ দিন পরও করোনা টেস্ট করা হলে ফল আবারও পজিটিভ আসে। এরপর দ্বিতীয় দফায় করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসলেও ২৫ দিন পর করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে বিএনপি চেয়ারপারসন সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।করোনামুক্ত হলেও ঝুঁকিমুক্ত নন খালেদা জিয়া' || Somoynews.tv

গত সোমবার (৩ মে) ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় বুধবার ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ড উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর সুপারিশ করে। এরপর খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বোনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমতি দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন দেয়।

গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজায়’ থাকছেন। গত ১৪ এপ্রিল খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

সর্বাধিক পঠিত