প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৩ জন গ্রেপ্তার

রাজু চৌধুরী: [২] নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রতারণা করে আসল স্বর্ণ ও নগদ টাকা আত্মসাতের অপরাধে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

[৩] শনিবার (১ মে) পুলিশ জানায়, প্রতারিত হওয়া শুক্লা দে ও গোপী বিশ্বাস (৪০) নামে দুইজনের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের এসআই মোমিনুল হকের নেতৃত্বে একটি টিম প্রতারক দুই রিক্সাওয়ালা সহ স্বর্ণ ক্রয় করার অপরাধে অপর একজনকে গ্রেপ্তার করে।

[৪] কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেজাম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী দুই জন দামপাড়া ওয়াসা মোড়স্থ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী। তারা দু’জন ২৯ এপ্রিল বেলা অনুমানিক বেলা সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালী মোড় হতে চকবাজার থানাধীন গোল পাহাড় মোড়স্থ ডাচ বাংলা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। পথিমধ্যে সিডিএ বিল্ডিং এর গেইটের একটু সামনে পৌঁছামাত্র রিক্সার সামনের চাকার সামনে রাস্তার উপর হতে প্যাকেটে মোড়ানো একটি স্বর্ণের বার পেয়ে রিকশাচালক পকেটে নিয়ে নেয়। এসময় কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকানন ডিসি হিলস্থ বন সংরক্ষণ কার্যালয়ের গেইটে সামনে রিক্সাটি পৌঁছাইলে রিক্সাচালক তার রিক্সার চেইন নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে শুক্লা দে ও তাহার সঙ্গীয় গোপী বিশ্বাস কে তাদের পিছনে থাকা আরেকটি রিক্সা ঠিক করে দেয়। রিক্সা ঠিক করে দেওয়ার সময় রিকশাচালক দুইজন বলে যে, আমরা গরিব মানুষ এতো ওজনের স্বর্ণ দিয়ে কি করিব, দিদি আমাদের কিছু টাকা-পয়সা অথবা স্বর্ণালংকার দিয়ে আপনারা এই স্বর্ণের বারটি রেখে দেন। শুক্লা দে সরল বিশ্বাসে তাদের কথায় রাজি হয়ে তাদের সাথে থাকা ১ জোড়া ৩ আনা ওজনের কানের দুল, ১টি ৪ আনা ওজনের আংটি, ও নগদ ৪০০ টাকা দিয়ে উক্ত স্বর্ণের প্যাকেট করা স্বর্ণের বারটি নিয়ে নেয়। ঐ সময় প্রথম রিকশার চালক মোঃ জালাল মিয়া তার নিকট হতে ৭০/- টাকা ভাড়ার মধ্যে ২০/- টাকা নেয়। পরবর্তীতে তারা রিক্সা যোগে কোতোয়ালী থানাধীন মোমিন রোডস্থ সাহাবুদ্দিন ডেকোরেটর্স নামক দোকানের সামনে রাস্তার উপর পৌঁছালে রিকশাচালক রিক্সার চেইন নষ্ট হয়ে গেছে বলে তাদেরকে রিক্সা হইতে নামিয়ে দেয়। রিক্সা হতে নামার সাথে সাথে চোখের পলকের মধ্যে রিকশাচালক মোঃ কবির হোসেন (৩২) তার রিক্সা নিয়া অজ্ঞাতস্থানে উধাও হয়ে যায়। তাদের আচরণ সন্দেহ হলে তারা অন্য একটি রিক্সা নিয়ে পুনরায় একই পথে কোতোয়ালী থানাধীন নন্দন কানন ডিসি হিল বন সংরক্ষণ কার্যালয়ের সামনে আসলে মোঃ জালাল মিয়া কে সেখানে দেখতে পেয়ে তাকে তাদের দেওয়া স্বর্ণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে এলোমেলো কথা বলতে থাকে। তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় উল্লেখিত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ফেরত চাইলে সে বিভিন্নভাবে ছলচাতুরী করে স্বর্ণ গুলো এনে দেওয়ার কথা বলে রিক্সা নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

[৫] পরবর্তীতে শুক্লা দে ৩০ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল অনুমান ৩টায় তাদেরকে সিনেমা প্যালেস মোড়ে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে মোঃ মোমিনুল হাসান সঙ্গীয় অফিসার সহ উক্ত স্থানে গিয়ে মোঃ জালাল মিয়া (২৮), পিতা-মৃত আব্দুল সালাম ও মোঃ কবির হোসেন (৩২), পিতা-মৃত কালা মিয়াকে আটক করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে। তাদের কাছ থেকে ১টি রিক্সা ও ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মুধুসুদন চৌধুরীর নিকট থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। আসামীদের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রুজু হয়। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত