প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরল আহসান খান: দেশে শ্রমিকেরা এখনো ন্যায্য মজুরি পায় না

মঞ্জুরল আহসান খান: আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৯০ সাল থেকে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে এবং আমাদের দেশেও এটি পালন করা হয়। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের দিন। প্রতিবছর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচিতে মুখর থাকতো রাজপথ। কিন্তু গতবছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দিবসটির সব কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে  এই দিনটি সরকারিভাবে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই দিন অধিকাংশ শ্রমিক স্ব-বেতন ছুটি ভোগ করে না। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সামরিক-বেসামরিক কর্মচারীরা সবাই এই দিনে ছুটি ভোগ করেন, অথচ যে শ্রমিকদের জন্য এই দিবস  সেই শ্রমিকদের অধিকাংশই  এই দিবসে ছুটি ভোগ করতে পারে না। এছাড়া আমাদের দেশের শ্রমিকদের জন্য যেসব আইন আছে  সেই আইনগুলোও যথাযত ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই এই আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে যায়নি, ন্যায্য মজুরি থেকে অনেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অনেকে ন্যূনতম মজুরি থেকে  বঞ্চিত হচ্ছে, ৮ ঘণ্টার বেশি অনেক জায়গায় কাজ করতে হয়। এছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের যে আন্দোলনগুলো হয় তার ওপর নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, শ্রমিকদের নানাভাবে নির্যাতন হয়রানি করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়েছিল নয়তলা ভবন রানা প্লাজা। এটি ছিলো দেশের পোশাক শিল্পে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ভবন ধসে প্রাণ হারান হাজারেরও বেশি মানুষ। যারা প্রাণে বেঁচে গেছেন, তারাও পঙ্গুত্ব নিয়ে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। রানা প্লাজা ধ্বসের মূল কারণ ছিলো, অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ। সুতরাং শুধু কারখানা নয়, বিল্ডিং নির্মাণেও কোড মানা অত্যাবশকীয়। যেসসব কারখানা ও ভবন  অবৈধ্যভাবে নিমার্ণ হয়েছে সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া ও  ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিংগুলো মেরামত করা উচিত।

করোনা মাহামারিতে অনেক শ্রমিক দুরবাস্থায় জীবন অতিবাহিত করছে, সরকার ও মালিকপক্ষের উচিত তাদের যথাযথ সহায়তা করা, যাতে তারা খেয়ে পড়ে বাচঁতে পারে। গত একবছর থেকে চলমান করোনা মহামরিতে অনেক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে ও নানারকম সংকটে পড়েছে তবে এই মহামারিতে সরকার থেকে মালিকদের নানারকম আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হলেও শ্রমিকদের জন্য যে প্রণোদনা হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতে এখনো শ্রমিকরা আন্দোলন করে যাচ্ছে সেই আন্দোলন। শ্রমিকদের নানারকম সংকটে মালিকদের যে ভূমিকা রাখা উচিত, অধিকাংশ মালিকই তা পালন করে না, উল্টো শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে অত্যাচার, নির্যাতন করে। আইন অনুসারে শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি ন্যায্য অধিকার তাদের দেওয়া হচ্ছে না, সাপ্তাহিক ছুটি, বাৎসরিক ছুটি, মে দিবসে ছুটি এসব থেকে বঞ্চিত করা হয়, শ্রমিকদের কর্ম নিরাপত্তা, একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসুরক্ষা, কর্মপরিবেশে নিশ্চিত করা হয় না। শ্রমকি আইন অনুযায়ী, শিশু শ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও শিশুরা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ [১] আমাদের দেশের বেকরা সমস্যা বেশি ।

[২] শ্রমিকদের আয় অনুযায়ী সংসার পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয় এবং সন্তানদের লালন-পালনে ব্যর্থ যার ফলে বাড়তি আয়ের আশায় সন্তানদের কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়। এছাড়া মালিকরাও শিশুদের দিয়ে কাজ করায়। কারণ কম মজুরিতে তাদের দিয়ে কাজ করানো যায়, এছাড়া গৃহকর্মী হিসেবে তাদের নিয়োগ করা হয় এসব কাজে তাদের অনেক সময় অমানসিক পরিশ্রম ও নির্যাতন করা হয়। এছাড়া শিশু ও নারীদের বিদেশে পাচার করা হয় সেখানে তারা দাসদের মতো কাজ করে এবং তাদের ওপর অমানসিক নির্যাতন, অত্যাচার প্রয়োগ করা হয় এসব ঘটনা আমরা প্রায় প্রত্যক্ষ করি। এই বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক ও জাতীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য ভুলে, ঐক্যবদ্ধভাবে, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে আন্দোলন করতে হবে ও সেই আন্দোলনের মধ্যে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে এবং মে দিবসকেও স্বার্থক করা সম্ভব হবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল্লাহ মামুন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত