প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপু মাহমুদ: সকল সৃষ্টির জন্য গুহাবাস অতিব জরুরি!

দীপু মাহমুদ: সকল সৃষ্টির জন্য গুহাবাস অতিব জরুরি। মনে করুন আপনি লিখতে বসেছেন তখন রান্নার লবণ ফুরিয়ে গেছে, কিংবা ডিসের বিল নিতে এসেছে, বিদ্যুৎ বিল পাঠাতে হবে, মিটারের গ্যাস শেষ, মুরগিগুলো ভালো, দুই হালি নেওয়া যায় কিনা- সেসব ব্যাপার চৌদ্দদিন নেই। আপনাকে এসবের ভেতর জড়াতে হচ্ছে না। সব লেখক শিল্পীর কোয়ারেন্টাইন অধিকার বলে মনে করি। লেখক-শিল্পীরা মাঝেমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে চলে যাবেন। খাওয়াদাওয়া, দেখাশোনা, নিরেট যত্নের আয়োজন সব কোভিড পেশেন্টের মতো হবে, শুধু তার কোভিড হবে না। লেখা শেষ, কোয়ারেন্টাইন শেষ। কোয়ারেন্টাইনের মূল সুবিধা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে গুছিয়ে ভাবতে পারা। চিন্তা গুছিয়ে আসতে আসতে টং করে চিন্তার সুতা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। উদাহরণ দিই। জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। কোয়ারেন্টাইনে থাকলে চিন্তা কেমন শব্দহীন শান্ত হয়। বিনিময় ছাড়াও অর্থকড়িহীন মানুষ দেশভাগের সময় দেশান্তরিত হয়েছে। হয়তো অর্থ তেমন ছিল না তবু ওদেশে তার সম্মান ছিল, মর্যাদা ছিল, দশজনে মান্য করত। এদেশে এসে তাকে থাকতে হলো ক্যাম্পে। দুদেশেই নিম্ন আয়ের দেশান্তরি মানুষকে বড় কষ্ট করে নিজেদের গড়ে নিতে হয়েছে। তাদের কথা নিয়ে লেখা হবে দেশভাগের উপন্যাস। নাম হচ্ছে ‘দুই দুয়ার’। সামন্ত জমিদার-জোতদারদের নির্মম জান্তব অত্যাচারের নাম- নানকার প্রথা।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাসদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল। নানকার বিদ্রোহ। সেই কাহিনির উপন্যাসরূপ হচ্ছে ‘নানকার’। অনিশ্চিত জীবনের দিশেহারা পথ খুঁজে না পাওয়া তারুণ্যের উপন্যাস ‘হিমঘর’। নকশালবাড়ি আন্দোলন আর সিরাজ সিকদারের সঙ্গে থাকা হাজার তরুণের স্বপ্ন নিয়ে লেখা উপন্যাসের নাম ‘নভেম্বরে বৃষ্টি’। মজা আছে কোয়ারেন্টাইনে, তাই না? আরও কতো চিন্তা মাথায় গুছিয়ে যাচ্ছে। শীত ফুরিয়ে গেলে শীতের কাপড়গুলো ভাঁজ করে গুছিয়ে তুলে রাখার মতো। যারা জানতে চেয়েছেন, আমি কেমন আছি? উত্তর পেয়ে গেলেন, আমি ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ্, অতি ভালো আছি। তবে কোভিড খুব খারাপ। নানান রকম যন্ত্রণা আর কষ্ট আছে এই করোনায়। নিরেট ভালোবাসা থেকে বলি, কোভিড থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন। দয়া করে হেলা করবেন না। করোনা থেকে রক্ষা করুন নিজেকে, পরিবারের সবাইকে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত