প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা:স্বস্তির সংবাদ : বাংলাদেশ বানাবে রুশ ভ্যাকসিন

মাসুদ রানা: সংবাদে পড়লাম বাংলাদেশ কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক হিসেবে রুশ ভ্যাকসিন কিনবে এবং সেই ভ্যাকসিন তৈরিও করবে মর্মে একটি চুক্তি করেছে। সংবাদটি জেনে খুশি হয়েছি আমি। গত অগাস্ট আমি রুশ ভ্যাকসিনের ওপর একটি ইতিবাচক লেখা পৌস্ট করেছিলাম, যা প্রাসঙ্গিক বলে আজ পুনঃপ্রকাশ করছি।  লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড।

স্পুটনিক-ভিঃ সোভিয়েত গর্বের রুশ প্রতিষেধক-আমি রাশিয়ার ইংরেজী-ভাষী সংবাদ-মাধ্যম পড়ি বলে আগে থেকেই জানতাম যে দেশটি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলো এবং ঘোষণা করেছিলো যে সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি লভ্য হবে। গত কিছুদিন ধরেই আমরা জানি যে, ১২ই অগাস্ট রুশ ভ্যাকসিন রেজিস্টার্ড হবে। অবশ্য, গতকাল ১১ই অগাস্ট রুশ প্রেসিডেণ্ট  ভ্লাদিমির পুতিন স্পুটনিক-ভি (Sputnik-V) নামের ভ্যাকসিনটির রেজিস্ট্রেশন ঘোষণা করেছেন। আর, ইতোমধ্যে ২০টি দেশ থেকে ১০০ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার পেয়েছে রাশিয়া। নিঃসন্দেহে স্পুটনিক-ভি মানবজাতির জন্যে একটি সুখবর এবং রাশিয়ার জন্যে একটি গর্বের বিষয়। কিন্তু রুশ- গৌরবের ভিত্তিমূলে যে আছে তার সোভিয়েত অতীত, তা বুঝা যায় প্রতিষেধকটির নাম ‘স্পুটনিক-ভি’ (Sputnik-V) থেকে। ১৯৫৬ সালের ৪ঠা অক্টোবর মানবজাতির ইতিহাসে সর্বপ্রথম মহাশূন্যে স্যটেলাইট উৎক্ষেপণ করে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন। আর, সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালে মহাশূন্যে ভ্রমণকারী প্রথম মানব ছিলেন সোভিয়েত নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রুশদের অবদান অনেক প্রাচীন  হলেও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত যুগে তা বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম হয়ে ওঠে। রুশ জাতি সেই সোভিয়েত যুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের বিজয়ী নেতৃত্বদায়ক ভূমিকার কথা ভুলতে পারে না। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে রুশ-জাতি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটিয়ে সমাজতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করলেও সোভিয়েত আমলের অর্জন সম্পর্কে গৌরবটি কিন্তু পরিত্যাগ করেনি। রুশ-নেতা ভ্লাদিমির পুতিন সোভিয়েত তথা কমিউনিজম-বিরোধী হলেও সোভিয়েত-গৌরব ব্যবহারে কুণ্ঠিত নন, বরং গর্বিত।

রাশিয়ার এই সোভিয়েত-গৈৗরবটিই হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর- বিশেষকরে ইংরেজীভাষী দেশগুলোর- কাছে অসহনীয় ও ঈর্ষণীয়। আর, সে-কারণেই আজ ব্রিটেইন ও এ্যামেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দৈনিকগুলো নানা কায়দায় রুশ-ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি’র জাতমারার চেষ্টা করছে। অবশ্য, এর পেছেন বাণিজ্য-প্রতিযোগিতাজাত ঈর্ষাও রয়েছে। অবশ্য, এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। যেমন, রশিয়া  এখন কমিউনিজম-বিরোধী এক ঘোর পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের কমিউনিস্টরা রাশিয়ার গর্বে গর্বিত বোধ করছেন। প্রশ্ন হতে পারেঃ কেনো? উত্তর সহজঃ ওরা যতোটুকু না কমিউনিস্ট ছিলেন বা আছেন, তার চেয়েও বেশি ছিলেন বা হচ্ছেন ‘রুশপন্থী’। আমার আশঙ্কা হয়, রাশিয়া যদি জারতন্ত্রেও ফিরে যায়, তখনও দেখবো বাংলাদেশের ‘কমরেডগণ’ সেই আগের মতোই রুশপন্থী। তবে, আমি যদিও কমিউনিস্ট নই কিংবা রুশপন্থীও নই, তথাপি জাতি হিসেবে এই রুশদের প্রতি আমার দারুণ আগ্রহ রয়েছে তাদের ইতিহাস, সাহিত্য, শিল্পকলা, ইতিবাচক জাতীয়তাবোধ, রাজনৈতিক বিপ্লবী স্পৃহা এবং বাইরের আক্রমণ প্রতিরোধ করার অসম সাহস ও শক্তির কারণে। রাশিয়াতে একবার গিয়েছি এবং দেশটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি। লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড।

সর্বাধিক পঠিত