প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রংপুরে করোনা রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৭ দিন

আফরোজা সরকার: [২] বিভাগীয় নগরী রংপুরে করোনা সংক্রমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০ লাখেরও বেশী মানুষের বাস অথচ রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পিসিআর মেশিন প্রতিদিন মাত্র ৫০ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করার কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে শত শত নারী পুরুষ নমুনা পরীক্ষার জন্য ভীড় করলেও তাদের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে না।

[৩] অপরদিকে নমুনা নেবার পর ৫ থেকে ৭ দিনেও রিপোর্ট মিলছেনা। এদিকে গত ৮ দিনে ১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

[৪] জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর বিভাগীয় নগরী করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও নমুনা পরীক্ষা করার জন্য নগরবাসিকে চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জেলা মেডিকেল কলেজে স্থাপন করা পিসিআর মেশিনের সক্ষমতা হচ্ছে ১শ ৮৮টি নমুনা পরীক্ষার। সে কারনে রংপুর নগরী ছাড়া পুরো জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ চারটি জেলার মানুষের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ওই মেশিন থেকে। এতে করে জেলা উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য কোটা নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিদিন ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দিতে পারবে। সেই ভাবেই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নমুনা পরীক্ষার কোটা নির্ধারন করে হয়েছে।

[৫] এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা, কামরুজ্জামান ইবনে তাজ জানান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটি আলাদা পিসিআর মেশিন দরকার। দশ লাখ মানুষের জন্য ৫০ জনের কোটা নির্ধারন করে দেবার কারনে বেশির ভাগ মানুষ নমুনা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না।

[৬] ফলে আমরা নমুনা সংগ্রহ করলেও ৫ থেকে ৭ দিনের আগে রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এদিকে যে হারে করোনা সংক্রমন বাড়ছে তাতে করে আলাদা পিসি আর মেশিন স্থাপন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

[৭] তিনি বলেন, এমনিতেই ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য কোটা নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ যাত্রী, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যসহ ভিভিআইপিদের নমুনাই হয়ে যায় ২৫টির বেশী, ফলে সর্ব্বোচ ২০ থেকে ২৫ জনের নমুনা পিসিআর ল্যাবে পাঠানো যায়। এমনি অবস্থায় নমুনা জটের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ৩শ’ এর বেশী নমুনা পিসিআর ল্যাবে পড়ে আছে।

[৮] তিনি জানান, করোনা সংক্রমনের সিমটম দেখা দেবার পর সচরাচর নমুনা পরীক্ষা করতে আসে মানুষ। কিন্তু সত্যি সত্যি করোনার আক্রান্ত হয়েছে অথচ তার নমুনার প্রতিবেদন আসে নাই ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগছে। এই কয়েকদিন আক্রান্ত ব্যক্তি নগরীতে ঘোরাফেরা স্বজনদের সাথে অবস্থান করায় ফলে পরিবারের অন্যন্য সদস্যরাও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি রংপুরে আরো একটি সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করার দাবি জানান।

[৯] সরেজমিন রংপুর নগরীর নিউ ইজ্ঞিনিয়ারপাড়া এলাকায় বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থিত রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নমূনা সংগ্রহ কেন্দ্র গিয়ে দেখাগেছে, সেখানে শতাধিক নারী পুরুষ করোনার নমুনা দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। এদের বেশীর ভাগের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর কারো কারো বয়স আরও কম। ফলে এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। এ ব্যাপারে নমুনা সংগ্রহকারী দু’জন স্বাস্থ্য কর্মী জানান, কম বয়সী ছেলে মেয়েরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, যেহেতু তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী, ফলে তারা আক্রান্ত হবার পর তাদের ছোয়ায় পরিবারে বয়স্ক মানুষরা আন্তন হচ্ছে এবং তারাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে বলে জানান।

[১০] বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নমুনা দেয়ার জন্য অপেক্ষামান দুই তরুনী জানান, নমুনা দেবার পর এক সপ্তাহের আগে রিপোর্ট পাওয়া যায় না। ফলে আদৌ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে কি না তা বোঝার উপায় থাকেনা। নমুনা দেবার একদিন পরেই প্রতিবেদন দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

[১১] সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো.মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে বলেন নমুনা দেবার পর অনেক সময় লাগছে। এটা মারাত্মতক ভীতির কারন। আমরা বার বার বলছি এখানে আলাদা একটা পিসিআর মেশিন বসানো হোক।

[১২] আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তানা হলে করোনার সংক্রমন এবার মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন ১০ লাখ মানুষের বাস রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সেখানে মাত্র ৫০ জনের করোনা পরীক্ষার কোটা নির্ধারন করা যুক্তিযুক্ত নয়। সে কারনে দ্রুত আরো একটি পিসিআর মেশিন স্থাপন করার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে দাবি জানান।

 

সর্বাধিক পঠিত